1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘আসুন আমরা সাগর-রুনিকে ভুলে যাই’’

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সবাই হতাশার কথা বললেন৷ বলেছেন রাষ্ট্র, সরকার ও পেশাজীবী ব্যর্থতার কথা৷ তারা বলেন, হত্যাকারীরা ২ বছরেও গ্রেফতার না হওয়া সবার জন্য গ্লানির, অপমানের৷

ঢাকার দৃক গ্যালারীতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া ‘ক্রাইম সিন, ডু নট ক্রস' শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শুধুই আলোকচিত্র নয়, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ব্যবহৃত স্মৃতিময় জিনিসপত্র স্থান পেয়েছে৷ আছে তাঁদের ব্যবহার করা ল্যাপটপ, প্রেস আইডি কার্ড, কলম, লেখার প্যাডসহ আরো অনেক কিছু৷ আছে পত্রিকার কাটিং৷ সাদা দেয়ালে লেখা আছে, ‘‘আসুন আমরা সাগর-রুনিকে ভুলে যাই''৷ আর এই লেখা ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বললেন, ‘‘কতটা দুঃখ আর হতাশা থেকে এই লেখা তা আমাদেরও বুঝতে হবে৷''

তিনি বলেন, যদি চেষ্টা করেও সাগর-রুনির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা না যেত, তাহলে আপশোস থাকতো না৷ কিন্তু এখানে অবহেলা করা হয়েছে৷ ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া মানে হল পেশাজীবীদের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া৷

সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, শুধু রাষ্ট্র বা সরকার নয়, সাংবাদিকদেরও ব্যর্থতা আছে৷ সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই৷ তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করবে৷

নারী নেত্রী খুশী কবির বলেন, আমরা গ্লানি থেকে মুক্তি চাই৷ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি৷ বরং এটা নিয়ে নানা ধরনের নাটক করা হচ্ছে৷ আর নাটকের আড়ালে চাপা পড়ছে তদন্ত৷ এটা আমাদেও গ্লানি৷

দৃক-এর ড. শহীদুল আলম বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়া৷ সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্যই ক্ষমতায় আসে৷ আর সরকার যদি সেটা না করে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে সেই সরকারের দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই৷

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী-সাহিত্যিকরাও বক্তব্য রাখেন৷

তাঁরা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেশের সাধারণ মানুষকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়৷ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরো প্রকট হবে৷ তাঁরা বলেন, সাগর-রুনির সন্তান মেঘ-এর দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে অনেকেই৷ কিন্তু বাস্তবে কেউই দায়িত্ব নেননি৷

রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, তদন্তের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ তদন্তকারীরা এখন আর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না৷ আর তাঁরা উদ্যোগী হয়ে যোগাযোগ করলে বিরক্তি প্রকাশ করেন৷

সাগর-রুনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘ক্রাইম সিন ডু নট ক্রস' শিরোনামে সোমবার থেকে শুরু হওয়া ৩ দিনের এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ হবে বুধবার৷ প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত৷

২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি ভোররাতে ঢাকার রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন