1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘আসাদ যুদ্ধে জিতলেও, শান্তি এলে হারবেন’

রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক আসাদ প্রশাসন ও সিরীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নিতে চায়৷ মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ মেইসাম বেহরাভেশ-এর মতে এটি একটি অভূতপূর্ব, অনন্য প্রচেষ্টা৷

ডয়চে ভেলে: গত মঙ্গলবার ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মস্কোয় মিলিত হয়ে সিরিয়ার সর্বাধুনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন৷ দৃশ্যত তাঁরা আসাদ প্রশাসনকে বজায় রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন৷ এ বিষয়ে আপনার কী মূল্যায়ন?

মেইসাম বেহরাভেশ: এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অদ্বিতীয় এবং অনন্য, কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব, সিরিয়া সংকটের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারকে বাদ দিয়ে সিরিয়ার ভাগ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে৷ তিনটি দেশেরই বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সমস্যাকর৷ কাজেই তারা এই সংঘাতে তাদের অবস্থান আরো জোরদার করতে চাইছে, সাধারণভাবে গোটা অঞ্চলেই তাদের অবস্থান আরো জোরদার করতে চাইছে; আলেপ্পো জয়ের ফলে যে গতিবেগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সুযোগ নিতে চাইছে৷

আসাদ প্রশাসনের আলেপ্পো জয়ের ফলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব ও কাতারের মতো ‘খেলোয়াড়রা’ তাদের গুরুত্ব হারিয়েছে৷ অপরদিকে হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব গদি নেবার আগে সিরিয়া সংঘাতের সাধারণ রূপরেখাটা নির্দ্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রচেষ্টা বাকি সব ‘খেলোয়াড়ের’৷ এক্ষেত্রে ইরান আর রাশিয়ার পছন্দসই সিনারিও হলো, আসাদ ক্ষমতায় বজায় থাকবেন ও সিরিয়ার রাজ্যাঞ্চলমূলক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ হবে না৷

তুরস্ক এযাবৎ সিরিয়ায় ইসলামি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করে এসেছে, ইরান ও রাশিয়া যে গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে রণাঙ্গণে সক্রিয়৷ তিনটি দেশের মধ্যে কি একটি যৌথ কৌশল সৃষ্টি হতে চলেছে?

মস্কো বৈঠকে তুরস্ক বাস্তবিক বিদ্রোহীদের হয়ে অংশগ্রহণ করে৷ আলেপ্পোর পতনের পর মানবিক সাহায্য সংক্রান্ত কার্যকলাপের ব্যাপারে আপোশ সৃষ্টিতে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে: বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে একাধিক শিয়া গ্রামের উপর অবরোধ তুলে নেওয়ার পিছনেও ছিল তুরস্কের প্রচেষ্টা৷ সব মিলিয়ে সিরিয়া সংঘাতে তুরস্ক এক নতুন নমনীয়তা প্রদর্শন করছে ও আসাদের অপসারণের দাবি জানানো বন্ধ করেছে৷ তুরস্কের কাছে উত্তর সিরিয়ায় কুর্দ রাষ্ট্র গঠন রোধ করাটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷ সেই কারণেই তুরস্ক সিরিয়ার রাজ্যাঞ্চলীয় অখণ্ডতা বজায় রাখতে আগ্রহী৷

মেইসাম বেহরাভেশ

মেইসাম বেহরাভেশ

অন্যদিকে তুরস্ক নির্ভরযোগ্য মিত্র ও সহযোগী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর আস্থা হারিয়েছে৷ প্রথমত গত জুলাই মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতি ওয়াশিংটনের সাবধানী প্রতিক্রিয়া; দ্বিতীয়ত, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুৎসাহী ভূমিকা; তৃতীয়ত, তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সংগ্রামে কুর্দদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন৷ এর ফলে এর্দোয়ান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দূরে সরে গিয়ে রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে৷

সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

আসাদ যুদ্ধে জিতলেও, শান্তি হারাবেন৷ তাঁকে নিত্যনতুন বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের মোকাবিলা করতে হবে, অর্থাৎ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বহু বছর ধরে চলতে পারে৷ কিন্তু বাস্তব হল এই যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসাদকে বাদ দিয়ে সিরিয়ার কল্পনা করা বাস্তব- বা যুক্তিসম্মত নয়৷

মেইসাম বেহরাভেশ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশুনার পর সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ডক্টরেট করছেন৷ তিনি লুন্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ বা সিএমইএস-এর রিসার্চ ফেলো৷

শবনম ফন হাইন/এসি

প্রিয় পাঠক, সাক্ষাৎকার নিয়ে কিছু বলতে চাইলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়