1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আশা জাগাচ্ছে ‘অসাধারণ’ কম্ব জেলি

অতিক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী কম্ব জেলির মস্তিষ্ক গঠিত হয়েছে পৃথিবীর অন্যসব প্রাণীর চেয়ে আলাদাভাবে৷ আর এই আবিষ্কারের পর আল্সহাইমার অথবা পারকিনসন্স ডিজিজের মতো রোগ নিরময়ে নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷

Ohrenqualle

ফাইল ফটো

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দীর্ঘ এই ক্ষুদ্র প্রাণীটি সব সাগরেই দেখা যায়৷ নামের সঙ্গে ‘জেলি' শব্দটি থাকলেও এটি জেলি ফিশ নয়৷ দেহের সঙ্গে আটটি সারিতে চিরুনির মতো কাঁটা থাকে বলে বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘কম্ব জেলি'৷

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিওনিড মোরোজ জানান, কম্ব জেলির মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র যেভাবে কাজ করে তা পৃথিবীর অন্য প্রাণীদের সঙ্গে মেলে না৷ এদের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন করে গজায়৷ অনেক অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এরকম ঘটে৷ কিন্তু কম্ব জেলির ক্ষেত্রে মস্তিষ্কও নতুন করে তৈরি হতে পারে, যা জটিল মস্তিষ্কের অন্য প্রাণীর বেলায় ঘটে না৷

‘‘এতদিন ভাবা হতো জটিল স্নায়ুতন্ত্রের মস্তিষ্ক কেবল একভাবেই তৈরি হতে পারে৷ কিন্তু কম্ব জেলি আমাদের জানাল – মস্তিষ্ক গঠনের আরো উপায় আছে৷''

মোরোজ ও তাঁর সহকর্মীদের এই গবেষণা প্রতিবেদন গত বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে৷ এতে বলা হয়েছে, কম্ব জেলির শরীরে এমন কিছু জিন রয়েছে যা অন্য প্রাণীর তুলনায় আলাদা৷ মানুষ ও অন্য অধিকাংশ প্রাণীর মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ সেরোটোনিন, ডোপামিন, এসিটিলকোলিন-এর মতো রাসায়নিক যৌগের ওপর নির্ভর করলেও কম্ব জেলির স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয় কয়ক ধরনের পেপটাইড ও গ্লুটামেট নিউরাল সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমে৷

মানব মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন উৎপাদনকারী কোষগুলোর মৃত্যু ঘটলে পারকিনসন্স ডিজিজ হয়৷ এ রোগে স্নায়ুক্ষয়ের ফলে ক্রমাগত হাত-পা কাঁপতে থাকে৷ আঙুল দিয়ে কলম বা সুঁই ধরার মতো কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে৷ আর ডিমেনশিয়া বা আল্সহাইমার, অর্থাৎ ‘স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়া রোগ' হলে ধীরে ধীরে রোগীর স্মৃতি লোপ পেতে থাকে৷ এক পর্যায়ে শারীরিক ক্রিয়াকর্মেও এর প্রভাব পড়ে এবং রোগীর মৃত্যু হয়৷ এ দুটি রোগের কোনো চিকিৎসা এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই৷

মানুষ বা জটিল মস্কিষ্কের প্রাণীর স্নায়ুক্ষয় শুরু হলে বিজ্ঞানীরা তা থামানোর চেষ্টা করতে পারেন৷ কিন্তু ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ নতুন করে তৈরির কোন পথ এখনো তারা খুঁজে পাননি৷ কিন্তু কম্ব জেলির মস্তিষ্ক কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আবার নতুন করে তৈরি হয়৷ এমনকি গবেষণাগারে একটি কম্ব জেলির মস্তিষ্ক চারবারও তৈরি হতে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা৷

তাঁরা বলছেন, মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নতুন করে তৈরির পথ খুঁজে বের করতে পারলে আল্সহাইমার ও পারকিনসন্স ডিজিজসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগ নিরময়ে নতুন দিগন্তের উন্মাচন হবে৷

জেকে/ডিজি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়