1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আশার আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা৷ তবে এ আলো জ্বালিয়ে রাখতে দু'পক্ষকেই কাজ করতে হবে৷ দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে হবে৷

নরেন্দ্র মোদীর শনি এবং রবিবাবের ঢাকা সফর শেষ হয়েছে৷ তবে ঢাকায় এখনও এই সফরকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা, চলছে সুশীল সমাজের বিশ্লেষণ৷ এই সফরে মোট ২২টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে৷ বিনিময় হয়েছে আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির কাগজ৷ কেটে গেছে দীর্ঘদিনের ছিটমহল সমস্যা৷ কিন্তু মেলেনি তিস্তার পানি৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমরা অতীতের অমীমাংসিত বিষয় সাফল্যের সঙ্গে কাটিয়ে উঠেছি৷ এটি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে৷''

তিনি আরো বলেছেন, ‘‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ৷ এ সফর আমার স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকবে৷ এই সফর ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করবে৷''

এই সফরে বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ চুক্তিও হয়েছে৷ ভারতের জন্য বাংলাদেশে হবে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন৷ ভারতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করবে৷

Bangladesch Ankunft Narendra Modi Premierminister Indien

মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে এখনও চলছে নানা আলোচনা, চলছে বিশ্লেষণ

এছাড়া ভারত ২০০ কোটি ডলার নতুন ঋণ দেবে৷ ভারত চাইছে এখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতের ৫০ মানুষের হাজার কর্মসংসংস্থান করতে৷

সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভারতীয় বিনিয়োগ, বিদুৎকেন্দ্র স্থাপন – এ সব বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকতে হবে৷ এই বিনিয়োগে দক্ষতা এবং প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ৷ একইসঙ্গে কোন ধরণের জনশক্তি নিয়োগ করা হবে, তাও দেখতে হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কী লাভ হবে, আমাদের জনশক্তি সেখানে নিয়োগ করা হবে কিনা – তা স্পষ্ট করতে হবে৷ কোনো অস্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিনিয়োগ কাম্য নয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার৷ কিন্তু মোদী আসলে তিস্তার পানির ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো আশার কথা শোনাতে পারেননি৷''

তবে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে৷ সম্পর্কের এই গতি যদি ধরে রাখা যায়, তাহলে আশা করা যায় যে, তিস্তার পানিরও সমাধান হবে৷ কিন্তু শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ৫২টি নদী নিয়ে ভাবতে হবে৷ সব নদী নিয়ে একসঙ্গে বসে পানি সমস্যার সামাধান করতে হবে৷''

ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শান্তনু মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মোদীর ঢাকা সফরে অন্তত তিনটি ইতিবাক দিক আমার চোখে পড়েছে৷

নির্বাচনের আগের মোদী এখন এক রূপান্তরিত মোদী৷ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ নিয়ে তিনি যে মনোভাব দেখিয়েছেন, তা আর এখন নেই৷ তিনি যেন এখন বাংলাদেশের বন্ধু মোদী৷ তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নিতে চাইছেন, যা অনেক সুখপ্রদ৷''

ড. মজুমদার আরো জানান, ‘‘তাছাড়া তাঁর এই মনোভাব শুধু বাংলাদেশ-ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷ বৈরিতা নয়, পারস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমেই উন্নয়ন সম্ভব –মোদী এই ইঙ্গিত দিচ্ছেন৷ শুধু তাই নয়, দুই দেশেই ভারত এবং বাংলাদেশ বিরোধিতাও কমে এসেছে৷''

রাষ্ট্রজ্ঞিানের এই শিক্ষক অবশ্য এ কথাও বলেন, ‘‘যে বিনিয়োগ চুক্তিগুলো হয়েছে, তা বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু বিষয় যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে৷ আইন, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ – এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে৷''

তাঁর মতে, ‘‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এই যে নতুন দরজা খুলেছে, তা যেন হয় পারস্পরিক সম্মান এবং শ্রদ্ধার ভিত্তিতে৷ শুধু যেন অর্থনীতিকে বিবেচনা করা না হয়৷''

শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘‘সম্পর্কের এই আশার আলো যদি জ্বালিয়ে রাখা যায় তাহলে তিস্তা কেন, আরো অনেক দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান সহজ হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়