1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আল-কায়েদার বাংলাদেশি প্রধান সমন্বয়কারী আটক

আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) বাংলাদেশি প্রধান সমন্বয়কারী ও উপদেষ্টাসহ ১২ জঙ্গিকে আটক করেছে র‌্যাব৷ রাজধানী ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে৷

Bangladesch Aktivist Hizb-ut-Tahrir Dhaka Zusammenstöße Polizei

(ফাইল ফটো)

জঙ্গিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির উপকরণ, বিভিন্ন ধরনের ছুরি এবং জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব৷ তারা জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুফতি মাইনুল ইসলাম একিউআইএস-এর বাংলাদেশি প্রধান সমন্বয়ক এবং মাওলানা জাফর আমিন উপদেষ্টা৷ আর বাকি ১০ জন সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য৷

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম জানান, ‘‘মাইনুল ইসলাম একটা সময় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি) সঙ্গেও জড়িত ছিলেন৷ লেখক অভিজিৎ রায় ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস খুন হওয়ার পর একিউআইএস-এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব স্বীকার করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল৷''

র‌্যাব-এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘‘ঈদের পর রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে চেয়েছিল আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ বাংলাদেশ শাখার জঙ্গিরা৷''

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠন একিউআইএস-র প্রধান সমন্বয়কারী মাইনুল ইসলাম, উপদেষ্টা মুফতি জাফর আমিন, সক্রিয় সদস্য সাইদুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন এবং আব্দুর রহমান বেপারীকে আটক করা হয়৷ এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য আল-আমিন, মোজাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, আবুল হাশেম, রবিউল ইসলাম এবং হাবিবুল্লাহ আটক হয়৷ পরবর্তীতে তৃতীয় দফায় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮ বর্ধনবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শহিদুল ইসলাম, আলতাব হোসেনকে আটক করে র‌্যাব৷

তাদের হেফাজত থেকে আড়াই লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড, এক লিটার এসিটন, এক কেজি গন্ধক, এক কেজি সালফার, ৪শ' গ্রাম পটাশিয়াম ক্লোরেট, ৫৫০টি মার্বেল, ২ লিটার গ্লিসারিন, ৫ কেজি সোডিয়াম-বাই কার্বনেট, ৫টি জার, ৫ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ১৫টি বিস্ফোরক ডিভাইসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্যও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়৷ তাদের কাছে নগদ ৪৯ হাজার ৪শ' ৯৪ টাকাও পাওয়া যায় বলে খবর৷

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব-এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জানান, ‘‘ঈদের পর রাজধানীতে হামলা চালাতে তারা রাজধানীর মিরপুরে বাসা ভাড়া করে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুদ করেছিল৷'' তারা জঙ্গি হামলার বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য বগুড়ার একটি মাদ্রাসা নির্ধারণ করেছিল৷ এছাড়া কিছু সদস্য ইতিমধ্যে রাজধানীতে এসে নেতাদের সঙ্গে দেখা করে প্রশিক্ষণ নিতে বগুড়ায় গেছে বলে জানান তিনি৷

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘‘আটক জঙ্গিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, তারা হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সক্রিয় সদস্য৷ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর সঙ্গে এদের মতাদর্শের মিল না থকালেও উদ্দেশ্যের মিল থাকায় একিউআইএস-র হয়ে কাজ করছিলেন৷''

তিনি দাবি করেন, ‘‘২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হুজির যে সব সদস্য কারাগারে রয়েছে, তাদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে হস্তান্তরের সময় হামলা চালিয়ে অথবা আদালত থেকে হামলা চালিয়ে মুক্ত করে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের৷''

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর সঙ্গে আল-কায়েদার যোগাযোগের কথা আগেই জানা গেছে৷ এবার হুজির সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানা গেল৷ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে গত মাসে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার৷ আর হুজি আগেই নিষিদ্ধ করা হয়৷

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সংগঠনগুলো হলো – জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি), শাহাদাৎ-ই আল-হিকমা, হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়