1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আল্সহাইমার্স নিরাময়ে ভিটামিন বি

সারা বিশ্বে প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ আল্সহাইমার্স রোগে আক্রান্ত৷ অনেকদিন ধরেই এই রোগের কথা আমরা শুনে আসছি৷ কিন্তু এতদিনেও এই রোগ প্রতিরোধে বা রোগটি সারাতে কোন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি৷

default

আল্সহাইমার্স এর চিকিৎসা চলছে

তবে ব্রিটিশ গবেষকদের বিশ্বাস, তারা হয়তো এই রোগটি নিরাময়ের একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন৷

আল্সহাইমার্স 'এর মূল লক্ষণ হল স্মৃতিভ্রম৷ সারা বিশ্বে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত৷ ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৪০ বছরে প্রতি ৮৫ জনের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হবে৷ রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, কিন্তু প্রতিকারের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না৷ তবে বেশ কিছু ব্রিটিশ গবেষক বিশ্বাস করেন, আল্সহাইমার্স নিরাময়ের একটি উপায় তারা বের করেছেন৷ তা হল ভিটামিন বি৷ এই ভিটামিন বি-র তীব্র ডোজ রোগটি সারিয়ে তুলতে পারে৷

মস্তিষ্কের সংকোচন

বাস্তব সত্য হল, আমাদের বয়স যত বাড়বে, আমাদের মস্তিষ্ক ততই কম কাজ করবে৷ মস্তিষ্ক আকারেও ছোট হতে থাকে৷ প্রতি বছর ০.৫ শতাংশ হারে ছোট হতে থাকে মস্তিষ্ক৷ তবে তা হয় ৬০ বছর পার হওয়ার পর থেকে৷ যে কারণে মস্তিষ্ক আকারে ছোট হতে থাকে তার নাম ‘মাইল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্ট' সংক্ষেপে এমসিআই৷ এর লক্ষণ হল স্মৃতির সঙ্গে ভাষা তাল মিলিয়ে চলতে পারে না৷ এটা আলজাইমারসের মূল লক্ষণ নয়৷ তবে কোন কোন ক্ষেত্রে তা হতেও পারে৷ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, ভিটামিন বি-র তীব্র ডোজ মস্তিষ্কের এই সংকুচিত হওয়াকে রোধ করতে পারে৷ প্রফেসর ডেভিড স্মিথ বললেন,‘‘ এই প্রথম একটি গবেষণার মধ্যে দিয়ে আলজাইমারসের প্রাথমিক অবস্থা নির্ণয় করা গেল৷ ধীরে ধীরে কীভাবে রোগটি মস্তিষ্ককে গ্রাস করে, তা বোঝা গেছে৷ এতদিন যত ধরণের গবেষণা চালানো হয়েছে, সেগুলো সব ব্যর্থ হয়েছে৷ শুধু এই গবেষণাই সফল হয়েছে৷''

Alzheimerpatient

আল্সহাইমার্সে আক্রান্ত রোগী

অথচ গবেষণাটি ছিল খুবই সহজ এবং অল্প সময়ের৷ ১৬৮ জন এমসিআই রোগীর ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়৷ তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা হয়৷ একটি দলকে ভিটামিন বি সিক্স, বি টুয়েল্ভ এবং বি নাইন বা ফোলিক অ্যাসিড দেওয়া হয়৷ অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসেবো পিল – অর্থাৎ যা দেখতে ওষুধের মত হলেও আসলে তার মধ্যে ওষুধের কোনো গুণাগুণ নেই৷ দু বছর চলে এই গবেষণা৷ পরে তাদের সবার ব্রেন স্ক্যান করা হয়৷ যারা প্লাসেবো পিল সেবন করছিলে,ন তাদের সবারই মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়েছে তা স্পষ্ট ধরা পড়ে৷ অন্যদিকে যারা ভিটামিন নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফলাফল হয় চমকপ্রদ৷ কারো কারো মস্তিষ্ক সংকোচন হ্রাস পেয়েছে ৩০ শতাংশের মত, কারো কারো ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ৷ ৮০ বছর বয়স্ক জন হফ ছিলেন ভিটামিনখেকোদের দলে৷ বেশ ভাল বোধ করছেন বলে তিনি জানান৷ জন বললেন,‘‘ আমার অবস্থা হয়তো আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে, কিন্তু আমি তা কখনোই টের পাইনি৷ যদি সবকিছু আগের চেয়ে ভাল হয়, তাহলেই তা টের পাওয়া যায়৷ আমার স্ত্রী আমাকে বার বার বলছিল আমার অবস্থার উন্নতি হয়েছে৷''

সামাধান পাওয়া গেল তাহলে ?

প্রশ্ন, তাহলে কি সমাধান আমার পেয়ে গেলাম? মস্তিষ্ক সংকোচনের সঙ্গে মানবদেহের রক্তে এক ধরণের পদার্থের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ পদার্থের নাম হোমোসিস্টাইন৷ রক্তে যত বেশি হোমোসিস্টাইন থাকবে, তত দ্রুত মস্তিষ্ক সংকুচিত হবে৷ ভিটামিন বি রক্তে হোমোসিস্টাইনের মাত্রা কমিয়ে দেয়৷ এর ফলে সংকোচনও হয় অনেক ধীর গতিতে৷ প্রফেসর রবিন জ্যাকোবিও গবেষণা আর সাফল্যের আনন্দে আটখানা৷ কিন্তু তিনি নিজেকে বেশ সংযত রেখেছেন৷ প্রফেসর জ্যাকোবি জানান, ‘‘ আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না, এই ভিটামিনগুলোই আল্সহাইমার্সকে দূরে রাখতে সক্ষম কিনা৷ অথবা আল্সহাইমার্স নিরাময়ে সহায়ক কিনা৷ মস্তিষ্কের সংকোচন হচ্ছে অত্যন্ত ধীর গতিতে, শুধুমাত্র সেটাই আমরা দেখাতে আর প্রমাণ দিতে পেরেছি৷''

তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন বি সেবনের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে৷ বয়স্কদের হাত এবং পা অবশ হয়ে আসতে পারে৷ এছাড়া অতি মাত্রায় ফোলিক অ্যাসিডের কারণে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে যে কোন শরীরে৷ তাই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা৷ যেভাবেই হোক আল্সহাইমার্সকে হার মানাতেই হবে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়