আলোকসজ্জায় নতুন মাত্রা আনছেন জার্মান লাইট ডিজাইনার | অন্বেষণ | DW | 10.02.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

আলোকসজ্জায় নতুন মাত্রা আনছেন জার্মান লাইট ডিজাইনার

স্থাপত্যের ক্ষেত্রে শুধু ডিজাইন নয়, আলোকসজ্জাও গুরুত্বপূর্ণ৷ কৃত্রিম আলো ছাড়াই যদি সেই আলোকসজ্জা সম্ভব হয়, তাহলে তার মাত্রাই আলাদা৷ জার্মানির এক ডিজাইনার তাঁর অভিনব আইডিয়ার মাধ্যমে লাইট ডিজাইনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছেন৷

ভিডিও দেখুন 04:22

আলো ও ডিজাইনের মধ্যে নতুন ‘সেতুবন্ধ’

বন শহরের কাছে একটি রেস্তোরাঁ যাতে দিনের আলো এবং রাতের অন্ধকারেও অপরূপ হয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আন্দ্রেয়াস শুলৎস বিশেষ আলোকসজ্জা সৃষ্টি করেছেন৷ ডিজাইনার হিসেবে তিনি অবশ্য শুরু থেকেই আলোকসজ্জার সঙ্গে পারিপার্শ্বিকের মেলবন্ধনে বিশ্বাস করেন৷ শুলৎস বলেন, ‘‘আইডিয়া ছিল এমন সারফেস রাখা, যার উপর আলো পড়লে বেশি প্রতিফলন ঘটবে না৷ এমন নিষ্প্রভ এক সারফেস, সামনের কাচেও যার প্রতিফলন ঘটবে না৷ ফলে বাইরে তাকালে সেই সারফেস চোখেই পড়বে না৷ এটাই ছিল কনসেপ্টের আইডিয়া৷''

ড্রাখেনফেল্স রেস্তোরাঁর ইজারাদার হিসেবে হেয়ারমান নলডেন সহজেই আলোকসজ্জা বদলানোর সুযোগ থাকায় খুশি৷ তিনি বলেন, ‘‘সন্ধ্যার সময় আমি এর সুফল পাই৷ তাছাড়া ড্রাখেনফেল্স শুধু দিনের বেলায় খোলা থাকে না, এখানে অনেক অনুষ্ঠানও হয়৷ সন্ধ্যায় অন্ধকার নামলে আলোর প্রয়োজন হয়৷''

সিলিংয়ের আলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সাজানো যায়৷ টেবিল-চেয়ার নাড়াচাড়া করলেও আলোর ছটা ঠিক টেবিলের মাঝে ফেলে প্রয়োজনীয় আবহ সৃষ্টি করা সম্ভব৷ চৌকো রঙিন এলইডি বাতিগুলি সত্যি নজর কাড়ার মতো৷ এর মধ্যে লালের ছটা ড্রাগনের রক্তের রংয়ের প্রতীক৷ এটাই ‘ড্রাখেনফেল্স' রেস্তোরাঁর নিজস্ব রং৷ নিজস্ব অনুষ্ঠান থাকলে কোম্পানিগুলি তাদের ব্র্যান্ডের রংও ব্যবহার করতে পারে৷

এখানকার আলোকসজ্জার কনসেপ্টের জন্য আন্দ্রেয়াস শুলৎস ও তাঁর টিম এ বছর হোটেল-রেস্তোরাঁ বিভাগে জার্মান লাইট ডিজাইন পুরস্কার পেয়েছেন৷ তবে এটাই আন্দ্রেয়াস শুলৎসের সংস্থার একমাত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকল্প নয়৷ লাইপসিশ শহরে মাটির নীচে এক লোকাল ট্রেন স্টেশনের আলোকসজ্জার জন্যও স্বীকৃতি পেয়েছে এই টিম৷ সেখানে কৃত্রিম আলো দিয়েই প্ল্যাটফর্মে দিনের আলোর আবহ তৈরি করা হয়েছে৷ বল্টিক সাগর উপকূলে এক শিল্পকলার মিউজিয়ামের আলোর ডিজাইনের জন্যও পুরস্কার পেয়েছেন তাঁরা৷

আন্দ্রেয়াস শুলৎস বলেন, ‘‘এখানে প্রশ্ন ছিল, কীভাবে এই ভবনকে এমনভাবে আলোকিত করা যায়, যাতে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন না পড়ে৷ অর্থাৎ দিনের আলোকে ঠিকমতো কাজে লাগানো, তার ‘ডায়নামিক' বা গতিশীল চরিত্র ধরে রাখা, প্রদর্শনীর ঘরগুলিকে প্রাণবন্ত করে তোলা – এ সব ছিল চ্যালেঞ্জ৷ কারণ একদিকে সংগ্রহশালার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ দিনের আলো শিল্পকর্মের ক্ষতি করতে পারে৷ তার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে৷ এই সিস্টেমে আমরা সেটা করতে পেরেছি৷''

১৯৯১ সাল থেকে বন ও বার্লিনে আন্দ্রেয়াস শুলৎসের দপ্তর রয়েছে৷ ২৬ জন কর্মীদের মধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাইট ডিজাইনার৷ তাঁদেরই একজন মার্টিনা ভাইস৷ তিনি বলেন, ‘‘একেবারে মৌলিক বিষয়গুলি শিখতে হয়৷ দিনের আলো নিয়েও অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হয়৷ যেমন মানুষের উপর বা দপ্তরে কাজের জায়গায় তার প্রভাব কী?''

আন্দ্রেয়াস শুলৎস এমন অপ্রচলিত আইডিয়ার মাধ্যমে আলো ও ডিজাইনের মাধ্যমে এক সেতুবন্ধ গড়ে তুলছেন৷ জার্মানির ‘ডয়চে টেলেকম' কোম্পানির জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি সেতু গড়ে দিয়েছেন তিনি৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘এক টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি যে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে, এই সেতুর মাধ্যমে সেটা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম৷ গোটা সেতু জুড়ে এক মিডিয়া স্ক্রিন রয়েছে, যা একেবারে সেতুর মাপেই তৈরি৷ এর মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়৷''

আন্দ্রেয়াস শুলৎস নিজে অবশ্য এই স্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যে লাইট ডিজাইন তাঁর কাছে আলোকসজ্জার চেয়ে অনেক বড় বিষয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়