1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে অপহৃত সুইডিশ খেলোয়াড়!

আর্জেন্টিনায় প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল আয়োজক হয়ে, ১৯৭৮ সালে৷ সেই আসর নিয়ে বিতর্কের এখনো অবসান হয়নি৷ ৩৬ বছর পর আবার আলোচনায় ফিরেছে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ৷ সেবার নাকি সুইডেনের এক খেলোয়াড়কে অপহরণ করে অস্ত্রধারীরা৷

default

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি মুহূর্ত

সামরিক শাসনের আওতায় আর্জন্টিনা তখন আতঙ্কের জনপদ৷ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে, সামরিক শাসনের সময়ে আর্জেন্টিনার কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষকে বেআইনিভাবে কারাবন্দি করা হয়৷ অনেকের আর হদিস পাওয়া যায়নি৷ সুইডেনের ১৭ বছর বয়সি তরুণী ডাগমার হ্যাগেলিনও বিশ্বকাপের আগের বছর গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনায়৷ তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ সেবার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা৷ কিন্তু নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ফুটবলার ইয়োহান ক্রুইফ আর্জেন্টিনায় যেতে রাজি ছিলেন না বলে বিশ্বকাপের আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নেন৷

ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে রাল্ফ এডস্ট্রম জানিয়েছেন, ১৯৭৮-এর বিশ্বকাপ চলার সময় তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল৷ সুইডিশ রেডিওর এক তথ্যচিত্রে সাবেক এই ফুটবলার বলেছেন, এক সন্ধ্যায় তিনি একা একা হাঁটছিলেন৷ হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ায়৷ অস্ত্রের মুখে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলের বেসমেন্টের একটি ঘরে৷ সেখানে বসেছিলেন দশাসই চেহারার এক লোক৷ রোদ চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে ভদ্রলোক রাল্ফ এডস্ট্রমের পরিচয় জানতে চান৷ সেই মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ৬১ বছর বয়সি রাল্ফ বলেছেন, ‘‘আমার বুক ধকধক করছিল৷ আমি কোথা থেকে এসেছি জানতে চাইলে কিছু না বলে পরিচয় পত্র বের করে বলি, আমি সুইডেনের নাগরিক, বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি৷ তারপর আর কিছু না বলে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়৷''

তথ্যচিত্রে রাল্ফ এডস্ট্রম জানান, সুইডেন দল এমনিতেই তখন নানান সমস্যায় জর্জরিত ছিল, তাই নিজে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও পরিবারের সদস্য আর ঘনিষ্ঠ দু-একজন বন্ধু ছাড়া ঘটনাটির কথা আর কাউকে জানাননি৷ তাঁর ভয় ছিল, সতীর্থদের জানালে সুইডেনের পারফর্ম্যান্সে এর প্রভাব পড়তে পারে৷

দ্বিতীয় পর্বে আর্জেন্টিনা অবশ্য সেবার সু্ইডেনের গ্রুপে ছিল না৷ আর্জেন্টিনা ছিল গ্রুপ ‘বি'-তে৷ সেই গ্রুপে আরো ছিল ব্রাজিল, পোল্যান্ড আর পেরু৷ নিজেদের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দু ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট করে পেয়েছিল আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল৷ তবে গোল পার্থক্যে ব্রাজিলই ছিল শীর্ষে৷ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল পোল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল পেরু৷ ব্রাজিল পোল্যান্ডকে হারায় ৩-১ গোলে৷ সেদিনই একটু পরে শুরু হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচ৷ ফাইনালে যেতে হলে ৪-০ গোলে জিততে হতো আর্জেন্টিনাকে৷ আর্জেন্টিনা জেতে ৬-০ গোলে৷ পেরুর গোলরক্ষক ছিলেন আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত৷ ম্যাচে তাঁর পারফর্ম্যান্স এত জঘণ্য ছিল যে অনেকেই ধরে নেন, পেরু ইচ্ছে করে হেরেছে৷ সেই ম্যাচ নিয়ে আজও বিতর্কের শেষ নেই৷ ব্রাজিলের ম্যাচ আগে হওয়ায় সমীকরণটা জেনে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা৷ ওই বিশ্বকাপের পর থেকে তাই গ্রুপের সব শেষ ম্যাচ হয় একদিনে, এক সময়ে৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়