1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আরো এক মামলায় হুকুমের আসামি খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়েছে৷ বিএনপি বলছে, তাঁকে চাপে রাখতেই মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে৷ ওদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, নাশকতা ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাইছেন খালেদা৷

Bangladesch Khaleda Zia vor dem Gericht in Dhaka

ফাইল ফটো

৬ই জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালে এ পর্যন্ত ৮০ জন নিহত হয়েছে৷ এর মধ্যে পেট্রোল বোমা এবং আগুনে নিহত হয়েছেন ৫২ জন৷ এ সব নাশকতা ও হত্যার ঘটনায় মামলা হচ্ছে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে৷ এই মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়েছে৷

খালেদাকে হুকুমের আসামি করে সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে মঙ্গলবার, ঢাকার আদালতে৷ সোমবার নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে খালেদার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা হয়েছে মামলাটি৷

এর আগে ঢাকার আদালতেই হরতাল-অবরোধে ৪২ জনকে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয় ২রা ফেব্রুয়ারি৷

Unruhen in Bangladesch 05.01.2015

অবরোধ-হরতাল, আগুন জ্বলেছে (ফাইল ফটো)

এছাড়া খুলনা, পঞ্চগড় এবং কুমিল্লাতেও চারটি মামলায় খালেদাকে হুকুমের আসামি করা হয়৷

আইজীবী মাহবুবুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘কোনো অপরাধে যদি কেউ প্ররোচনা দেন, তাহলে সেই অপরাধের মামলায় তাঁকে হুকুমের আসামি করা যেতে পারে৷ এর মানে হলো, অপরাধে প্ররোচনাদানকারীই হলেন হুকুমের আসামি বা অ্যাবেটর৷'' তিনি বলেন, ‘‘এই প্ররোচনা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ – দু'ভাবেই হতে পারে৷ আর প্ররোচনার উপায় নানা রকমের হতে পারে৷ অস্ত্র, ভাষা, বক্তব্য, বিবৃতি, আদেশ প্রভৃতি৷''

দণ্ডবিধির ১১৪, ১০৯ এবং ১৪৯ ধারায় হুকুমের আসামি বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান৷

তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার বক্তব্য, বিবৃতি বা আদেশে যদি হত্যা বা নাশকতার কথা না থাকে, তাহলে হরতাল-অবরোধে নাশকতা বা হত্যায় তাঁকে হুকুমের আসামি হিসেবে আদালতে প্রমাণ করা কঠিন হবে৷

Bangladesh Festnahme der Opposotionsführerin Khaleda Zia

গুলশানের গেট বন্ধ (ফাইল ফটো)

কারণ আইনে হুকুমের আসামি হিসেবে প্রমাণ করতে হলে হুকুমদাতা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দিয়েছেন বলে প্রমাণ করতে হয়৷''

এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তিনি কোনো নাশকতা করছেন না বা নাশকতা করার নির্দেশও দিচ্ছেন না৷ সরকারের লোকজনই নাশকতা করে উল্টে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে৷ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে তারা৷''

তাঁর কথায়, ‘‘খালেদা জিয়াকে চাপে রাখতেই এইসব মিথ্যা মামলা হচ্ছে৷ এরকম ১০০টি মিথ্যা মামলা দিয়েও খালেদা জিয়াকে চাপে রাখা যাবে না৷''

তবে তিনি বলেন, ‘‘সত্যিই যদি কেউ অপরাধের হুকুমদাতা হন, তাহলে অবশ্যই তিনি হুকুমের আসামি হবেন৷ তাঁর শাস্তি অপরাধীর সমান৷ আর খালেদার বিরুদ্ধে যাঁরা মিথ্যা মামলা করছেন, মামলা সাজাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উল্টে মামলা হওয়া উচিত৷ কারণ বাংলাদেশের আইনে মিথ্যা মামলা করা অপরাধ৷''

তিনি দাবি করেন, ‘‘অতীতে আন্দোলনের নামে নাশকতা করার জন্য বরং শেখ হাসিনাকে তখন হকুমের আসামি করা যেত৷''

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সহ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছেন না৷ তিনি অবরোধ-হরতালের নামে পেট্রোল বোমা, আগুনে মানুষ পোড়ানো, মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চাইছেন৷ তার বড় প্রমাণ হলো, তাদের কোনো নেতা-কর্মী মাঠে নেই৷ তাদের নেতারা দৃশ্যমানভাবে নয়, গোপনে বিবৃতি দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন৷

সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে বোমা ও পেট্রোল বোমা হামলা, আগুন৷ আর তাতে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এইসব হত্যা এবং নাশকতার দায় তাই খালেদা জিয়ার৷ সে'কারণেই তাঁকে হুকুমের আসামি করা হচ্ছে৷''

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘‘অতীতে শেখ হাসিনা গণআন্দোলন করেছেন৷ সেখানে যে টুকটাক সহিংসতা হয়নি তা নয়, তবে তা ছিল গণরোষের বহিঃপ্রকাশ৷ আন্দোলন সফল করার উপায় নয়৷ আন্দোলনে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন৷ রাজনেতিক আন্দোলন হয়েছে৷ তাই সেই আন্দোলনকে সহিংস বলে শেখ হাসিনাকে দায়ী করা যাবে না৷ তাছাড়া বিএনপি যা করছে, তা সন্ত্রাস৷''

মনিরুজ্জামান মনির আরো বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে কেউ যদি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আন্দোলনের নামে এখনকার মত সহিংসতা করে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে৷ আন্দোলন করতে হবে মানুষকে সাথে নিয়ে, সহিংসতা দিয়ে নয়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়