1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আরেক রাজাকার কমান্ডারের ফাঁসি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘রাজাকার ' ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যাসহ পাঁচটি অভিযোগের বিচার করে আদালত৷

সোমবার তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন৷ অন্য দু'জন সদস্য হলেন – বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক৷ রায়ে বলা হয়, মোবারকের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে৷

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার টানমান্ডাইল গ্রামের ৩৩ জনকে গঙ্গাসাগর দীঘির পাড়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতাকারী আব্দুল খালেককে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ তবে অপর তিনটি অভিযোগ থেকে মোবারককে খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল৷

প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান রায়ের পরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘‘দুটি অভিযোগে মোবারক দোষী প্রমাণিত হয়েছে৷ আমরা সন্তুষ্ট৷ সে যে রাজাকার ছিল – এটি আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে বোঝাতে পেরেছি৷'' ওদিকে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ৷

একাত্তরে মোবারক ও তার সহযোগীদের হাতে নিহত আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩রা মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করেন৷ ঐ মামলায় মোবারক আগাম জামিন নিলেও, ২০১২ সালের ৬ই জুন যুদ্ধাপরাধের মামলাটি ট্রাইব্যুনালে আসার পর, তদন্ত শেষে গত বছর অভিযোগ দাখিল করা হয়৷ এরপর ১২ই মার্চ ট্রাইব্যুনাল তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠায়৷ পরে মামলার সাক্ষী এবং যুক্তি-তর্ক শেষে চলতি বছরের ২রা জুন মামলার বিচারকাজ শেষ হয়৷

৬৪ বছর বয়সি মোবারক একাত্তরে আখাউড়ার রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিল৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসনের তৈরি রাজাকারের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে৷

একাত্তর পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও, পরে মোবারক স্থানীয় আওয়ামী লীগে যোগ দেয়৷ ২০১১ সালে অবশ্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে৷

এ পর্যন্ত মোট ১২ জনের ফাঁসির দণ্ড

২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়৷ ২০১৩ সালের ২১শে জানুয়ারি প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচচু রাজাকারের ফাঁসির রায় দেয়া হয়৷ তিনি এখনও পলাতক৷

এরপর পর্যায়ক্রমে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও, উচ্চ আদালত তাঁকে ফাসির দণ্ড দেয়, যা কার্যকর হয়েছে ইতিমধ্যেই৷

জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হলেও উচ্চ আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়৷

জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তার এই দণ্ড বহাল আছে৷

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমকে গতবছর ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷ সেই দণ্ড মাথায় নিয়েই মারা যায় গোলাম আযম৷

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ বন্দি অবস্থায় মারা যায় আলীম৷

বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে একাত্তরের দুই আল-বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড৷

একাত্তরে আল-বদর কমান্ডার ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকেও আদালত মুত্যুদণ্ড দিয়েছে৷

ফরিদপুরের রাজাকার কমান্ডার জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়েছে৷ আর সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়