1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আরাবিয়া কাপ – মেয়েদের জন্য ফুটবল

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেয়েদের বিশ্বকাপ ফুটবল৷ তবে ফুটবলের ছোঁয়া আর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে আরব বিশ্বের মেয়েদের মধ্যেও৷ সম্প্রতি বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হল আরাবিয়া কাপ৷ আরব মেয়েদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে ফুটবল৷

default

২০১০ আরাবিয়া কাপের লোগো

আরাবিয়া কাপে অংশগ্রহণ করেছিল লেবানন, জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, কাতার, বাহরাইন এবং প্যালেস্টাইন৷ এসব দেশের তরুণীরা মেতেছে ফুটবল খেলায়৷ কেউ কেউ চুলে বেণি করে আর কেউ কেউ স্কার্ফ পরেই মাঠে নেমে গেছে৷ এসব ফুটবলপ্রেমী মেয়েদের স্লোগান, ‘জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া৷' এর মূল কারণ হল ২০১১ সালের প্রমীলা বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জার্মানিতে৷ এই মেয়েরাও অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলে৷

আরাবিয়া কাপ শুরুর আগেই বাহরাইনের রাজধানী মানামায় হাজির হয় এই মেয়ে ফুটবল খেলোয়াড়রা৷ জর্ডানের মেয়ে রিমা মুসা তাদেরই একজন৷ রিমা মুসা জানাল, ‘‘আমরা খুব পরিশ্রম করি৷ আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা জিতবো৷ অন্যান্য দলের চেয়ে আমাদের দল বেশ ভালো৷ আমরাই সবচেয়ে ভাল খেলি৷''

প্রতিযোগিতা যে অত্যন্ত তীব্র সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই৷ দশদিনের সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আশেপাশের দেশ থেকে হাজির হয়েছিল মেয়েরা৷ সবাই জড়ো হয়েছিল বাহরাইনের মানামায়৷

Bend it like Beckham

মুসলিম মেয়েরা ফুটবল খেলছে

সবার লক্ষ্য ছিল একটাই– যেভাবেই হোক জার্মানির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতেই হবে৷ আরাবিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন দেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে৷ শুধু তাই নয় – আরাবিয়া কাপ জেতার পুরস্কার হল – বিজয়ী দেশ এক সপ্তাহের জন্য বিশেষ একটি প্রশিক্ষণ পাবে জার্মানিতে৷ এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন৷

২৯ বছরের রিমা মুসা অনেক ছোট বেলা থেকেই ফুটবল খেলেন৷ তবে সেসময় শুধু ভাই আর প্রতিবেশীর ছেলেদের সঙ্গেই খেলা সীমিত থাকতো৷ এরপর ২০০৫ সালে জর্ডানের মহিলা ফুটবল দল যখন গঠন করা হয় তখন রিমা মুসা সেখানে তার জায়গা করে নেন৷ তার পরিবারের কাছ থেকে কোন ধরণের বাধা আসেনি বরং সবসময়ই সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘‘শুরুতে সবাই একটু বাঁকা চোখে দেখতো৷ মেয়েদের জন্য ফুটবল খেলা – বিষয়টি অনেকের কাছেই বোধগম্য হয় নি৷ তবে এর কিছুদিন পরেই পরিস্থিতি পাল্টায়৷ এর মধ্যে জর্ডানে মেয়েদের ফুটবল খেলা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷ মেয়েরা ফুটবল খেলছে এই ব্যাপারটা গ্রহণযোগ্য হয়৷''

তবে খুব সহজেই যে সবাই রিমা মুসার মত সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে তা কিন্তু নয়৷ অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে প্রতিটি মেয়েকে৷ জানান মণিকা স্টাব৷ ফিফার পক্ষ থেকে তিনি প্রমীলা ফুটবলে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন আরব বিশ্বে৷ তাঁর মতে সংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বাধা থাকা সত্ত্বেও আরব বিশ্বের মেয়েরা ফুটবলে আগ্রহী৷ বললেন, ‘‘বাবা-মা'রা বলেন, ফুটবল ছেলেদের জন্য মেয়েদের জন্য নয়৷ এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে৷ মেয়েরা যে ফুটবল খেলায় আনন্দ পাচ্ছে, আগ্রহী হচ্ছে তা তুলে ধরতে হবে৷ এর পাশাপাশি সবচেয়ে ভয়াবহ যে খবর ছড়িয়ে পড়ছে তা হল – কোন মেয়ে ফুটবল খেললে তার নাকি আর কখনো বাচ্চা হবে না, স্বামী তো দূরের কথা৷ এই ধরণের বদ্ধমূল ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমাজের ভেতর থেকেই সচেতনতার প্রয়োজন৷''

রিমা মুসার প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের কারণেই হোক আর অন্য যে কোন কারণেই হোক – আরাবিয়া কাপ জিতে নিয়েছে জর্ডান৷ মেয়েদের ক্রীড়া নৈপুণ্য দলটিকে এক সপ্তাহের জন্য জার্মানিতে আনতে সক্ষম হয়েছে৷ জর্ডানের প্রমিলা ফুটবল দল পেয়েছে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ এক প্রশিক্ষণ পর্বের সুযোগ৷ এছাড়া ২০১১ সালের প্রমীলা বিশ্বকাপে জর্ডানের দলটি সারা বিশ্বকে তাদের খেলা দেখানোর সুযোগ পাবে৷ সেটাই বা কম কী ?

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক