1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বেলজিয়াম

আরব আমিরাতের আট নারীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক ধনাঢ্য পরিবারের আটজন নারীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে বেলজিয়ামের আদালতে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ – কাজের অনুমতিপত্র ছাড়া গৃহপরিচারিকাদের ইউরোপে এনে অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য করেছেন৷

ধনাঢ্য পরিবারটি অঢেল সম্পদ ও অর্থের জন্য সারা বিশ্বেই পরিচিত৷ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব কিনে পরিবারটি প্রথম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে আসে৷

সেই পরিবারের শেখা আল নেহায়ান ২০০৮ সালে তাঁর সাত কন্যাকে নিয়ে এসেছিলেন বেলজিয়ামে৷ রাজধানী ব্রাসেলসের কনরাড হোটেলে লাক্সারি স্যুটে ছিলেন তাঁরা৷ ছিলেন কয়েক মাস৷ অভিজাত পরিবারের সদস্যদের বিলাসবহুল কক্ষে অবস্থান কোনো সংবাদ শিরোনামে আসতো না সঙ্গে এক দল গৃহপরিচারিকাকেও নিয়ে না এলে৷ শেখা আল-নেহায়ান এবং তাঁর মেয়েদের সেবা-যত্নের জন্য আনা হয়েছিল ২০ জন গৃহপরিচারিকা৷ ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ক পারমিট', অর্থাৎ কাজের অনুমতি নিয়েই শুধু গৃহপরিচারিকা বা অন্য কোনো কর্মীকে সঙ্গে আনা যায়৷ অথচ ওই ২০ জন গৃহকর্মীকে আনা হয়েছিল কাজের অনুমতিপত্র ছাড়া৷ অবৈধভাবে এনে তাদের সঙ্গে ন্যূনতম মানবিক আচরণও করা হয়নি৷ ধনাঢ্য পরিবারের নারীরা লাক্সারি স্যুটে থাকলেও সেবা-যত্নকারীদের শুতে হতো মাটিতে৷ পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হতো না৷ কিন্তু খাটানো হতো প্রায় ২৪ ঘণ্টা৷ দিন-রাতের যে কোনো সময় ডাক পড়তো৷ পান থেকে চুন খসলেই শুরু হতো চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নানা ধরনের হুমকি-ধামকি৷ এক গৃহকর্মী পালিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ না জানালে  ইউরোপের বুকে,  অভিজাত হোটেলে ২০ নারীর এমন মানবেতর জীবনযাপনের খবর কোনোদিন হয়ত জানাই যেত না৷ 

অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নেমে পড়ে পুলিশ৷ জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিজাত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই সত্য৷ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাও হয় বেলজিয়ামের আদালতে৷ কিন্তু শুনানি শুরু হতে হতে পার হয়ে যায় নয়টি বছর৷

বেলজিয়ামের মানবাধিকার সংস্থা মিরিয়া-র মুখপাত্র পাট্রিসিয়া লেকক মনে করেন, অধিকার বঞ্চিত এবং নির্যাতিত ২০ গৃহকর্মীর জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার পথে প্রতিবন্ধকতা অনেক৷ এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের অভিযুক্তরা সব সময়ই তাদের দেশের আইনের প্রসঙ্গ তুলে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন৷ প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশের আইনেই গৃহকর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেই৷ গৃহকর্মীরা যে বাড়িতে কাজ করেন, সেই বাড়ির কর্তাই আইনত তাঁদের স্থানীয় অভিবাবক৷ বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ফিলিপাইন্স ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে অনেক নারীকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে সব রকমের অধিকার বঞ্চিত করা হলেও প্রতিকারের কোনো সুযোগ কেউ পান না৷ বিনা বেতনে কাজ করিয়ে কারণে-অকারণে অমানুষিক নির্যাতন চালালেও গৃহকর্মীরা কর্মস্থল পরিবর্তনের কথাও ভাবতে পারেন না৷ গৃহকর্তার অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও চাকরি করার সুযোগও নেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আইনে৷

বেলজিয়ামের চলমান মামলায় ২০ গৃহকর্মী কাঙ্খিত রায় পেলেও অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা দৃশ্যত প্রায় অসম্ভব, কেননা, অভিযুক্তরা ঘটনার পরই দেশে ফিরে গেছেন৷ দু'দেশের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি নেই যার সুবাদে অভিযুক্তদের বেলজিয়ামে ফিরে বিচারের সম্মুখীন হতে বাধ্য করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার৷ তবুও মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, মামলায় শেখা আল নেহায়ান ও তার মেয়েদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুগ যুগ ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়া গৃহকর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন এবং ভবিষ্যতেও হয়ত অনেকে অভিযোগ দায়ের করতে উদ্বুদ্ধ হবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন