1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

‘আমি আবার হাঁটতে পারছি!'

প্যারাপ্লেজিকরা কোমরের নীচে থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত৷ হয়ত কোনো দুর্ঘটনা থেকে৷ সাধারণত তাঁদের জীবন কাটে হুইলচেয়ারে বসে৷ কিন্তু এক্সোস্কেলিটন নামের একটি রোবোট স্যুট পরিয়ে তাদের আবার চলচ্ছক্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়৷

শুনলে সায়েন্স ফিকশন বলে মনে হবে: পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষরা কি একটি রোবোট স্যুটের কল্যাণে আবার হাঁটতে পারেন? যেমন নরব্যার্ট হর্শমান, যিনি একটি গুরুতর মোটর দুর্ঘটনার পর প্যারাপ্লেজিক, অর্থাৎ নিম্নাঙ্গে পক্ষাঘাতগ্রস্ত৷ বাদবাকি জীবন হুইলচেয়ারে কাটানোর চিন্তাটা তাঁর কাছে অসহ্য বলে মনে হয়েছিল৷ তিনি শোনালেন, ‘‘আমার মাসের পর মাস সময় লেগেছে এটা বুঝতে যে, আমি প্যারাপ্লেজিক৷ ডাক্তাররা বলেছেন, ‘আমরা আপনাকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করা শিখিয়ে দেব, কিন্তু পায়ে হাঁটার কথা ভুলে যান৷'''

২০ বছর হুইলচেয়ারে বসে কাটানোর পর নরব্যার্ট সত্যিই আজ আবার হাঁটতে শিখছেন – একটি এক্সোস্কেলিটনের সাহায্যে৷ এক্সো মানে ‘বাইরের', আর স্কেলিটন মানে কঙ্কাল৷ এক্সোস্কেলিটন ব্যবহার করতে হলে পায়ের স্নায়ুগুলোতে অন্তত কিছুটা অনুভূতি থাকা দরকার৷ ত্বকের ওপর বসানো ইলেক্ট্রোড স্নায়ুর যা কিছু সংকেত, তা ধরে রেখে কম্পিউটারকে প্রদান করে, কম্পিউটার সেই সংকেত প্রক্রিয়াজাত করে৷

যন্ত্রের সাহায্যে পা ফেলা

নরব্যার্টের ট্রেনিং শুরু হল৷ পায়ের গোছে, হাঁটুতে এবং কোমরে লাগানো ছোট ছোট মোটর পায়ের নড়াচড়াকে আরো জোরদার করে ও নরব্যার্টকে হাঁটতে সাহায্য করে৷ নরব্যার্ট বললেন, ‘‘কোন পর্যন্ত আমি নিজে নড়াচড়া করছি, আর কোত্থেকে যন্ত্র সেটাকে সম্পূর্ণ করে দিচ্ছে, এটা না জেনেই নিখুঁত পা ফেলাটা একটা দারুণ ব্যাপার৷''

প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দেখা গেছে যে, তিন মাস ট্রেনিং-এর পর পেশেন্টের চলাফেরা, পেশিশক্তি আর সমন্বয়, সব কিছুই বাড়ে৷ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, পেশেন্ট যাতে দৈনন্দিন জীবনে আরো স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন৷ নরব্যার্ট হর্শমানের পক্ষে যা শুভশূচনা৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি চাই, এতটা প্রগতি করতে, যাতে আমি আবার কিছুদূর পায়ে হেঁটে যেতে পারি – সেটা ঘটতে চলেছে, বলেই আমার ধারণা৷ এছাড়া আমি আমার মেয়েকে প্রমিস করেছি যে, সে আর একটু বড় হলেই আমি তার সঙ্গে নাচব৷ কিন্তু ততদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে আরো কিছুটা সময় লাগবে৷''

পক্ষাঘাতগ্রস্ত শল্যচিকিৎসক

ডাক্তার মির্কো আখ নিজেই প্যারাপ্লেজিক৷ গোটা ইউরোপে একমাত্র জার্মানির বোখুম শহরেই এক্সোস্কেলিটন নিয়ে স্টাডি চলেছে৷ ডাক্তার আখ প্রথমে তা নিজের ওপর পরীক্ষা করে দেখেন, সে পরীক্ষা সফলও হয়৷

বোখুমের ব্যার্গমান্সহাইল ক্লিনিকের শল্যচিকিৎসক ড. মির্কো আখ বলেন, ‘‘আগে বলা হতো, ক্রনিক প্যারালিসিসের ক্ষেত্রে পেশেন্টের অবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়৷ কিন্তু এক্সোস্কেলিটন নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে লক্ষণীয় প্রগতি অর্জন করা গেছে৷''

মির্কো আখ নিজে শল্যচিকিৎসক৷ অপারেশন থিয়েটারে তিনি যা করেন, সেটা তাঁর সতীর্থদের চেয়ে আলাদা কিছু নয়৷ তাঁর পেশেন্টরাও তাঁরই মতো প্যারাপ্লেজিক৷ তবে হুইলচেয়ারে বসা ডাক্তার দেখে সকলের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়৷ তাঁর মতে, ‘‘যে সব রোগীরা সদ্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, তারা কখনো-সখনো আমাকে দেখে চমকে ওঠেন৷ তাদের চোখে এক হিসেবে আমি একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা তাদের সাহস দেয়; অন্যদিকে তারা ভাবেন, আমার মতোই ভবিষ্যতে তাদের জীবন কাটাতে হবে হুইলচেয়ার সাথে নিয়ে – যা তারা মেনে নিতে চান না৷''

তাঁর বিশেষভাবে নির্মিত হুইলচেয়ারের কল্যাণে ডাক্তার বাখ কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই অপারেশন করতে পারেন৷ তাঁর কাছে এটা তাঁর স্বাভাবিক পেশা – যদিও উচ্চপ্রযুক্তির কল্যাণে৷ মেরুদণ্ডের চোট সারানো আজও পুরোপুরি সম্ভব নয়, পেশেন্টের চলচ্ছক্তি পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়৷ তবে সারা বিশ্বে বিজ্ঞানীরা তা নিয়ে কাজ করছেন৷ এক্সোস্কেলিটন ব্যবহার করে প্যারাপ্লেজিকরা যেন একটা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন: ‘আমি আবার হাঁটতে পারছি!'

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক