1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আমিরাতিরা তাদের জাতীয় সত্তা সংরক্ষণে উৎসুক

সংযুক্ত আরব আমিরাত বলতে যাঁরা মরুভূমির বালি, সাদা জোব্বা, উটের দৌড় আর শিকরে বাজ বোঝেন – তাঁরা খুব ভুল বোঝেন না৷ সেই সঙ্গে আকাশছোঁয়া বাড়ি আর লক্ষ লক্ষ বহিরাগত শ্রমিক-কর্মচারীর নাম করা যেতে পারে৷

default

আমিরাতের নারীদের পোশাক আবাইয়া

ইউএই-র ৮৫ লাখ বাসিন্দার মাত্র ১১ শতাংশ আসলে আমিরাতি৷ এদের সত্তার ভিত্তি হলো তাদের ‘ট্রাইব' বা সম্প্রদায় এবং সেই সংক্রান্ত প্রথা ও রীতিনীতি৷ এই সম্প্রদায়গুলি ছিল বেদুইন উপজাতির অঙ্গ, কাজেই তাদের আদত জীবনধারা ভবঘুরে বেদুইনদের জীবনধারার অনুরূপ৷ আমিরাতের পুরুষরা পায়ের গোড়ালি অবধি ঢাকা সাদা কান্দুরা পরেন, মহিলারা পরেন ঢিলেঢালা কালো আবাইয়া৷ এই পোশাক এবং সেই সঙ্গে সমৃদ্ধির স্পষ্ট চিহ্ন – এই দুই দেখে আমিরাতের আদি বাসিন্দাদের বহিরাগতদের থেকে আলাদা করা যায়৷

শারজা-র সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকার বিভাগের পরিচালক আবদুলআজিজ আল-মুসল্লম বলেন: ‘‘আমরা যদি নানা ধরনের মানুষদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত না থাকি, তাহলে আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব৷ বিপুল সংখ্যক অ-আমিরাতিদের উপস্থিতি আমাদের নিজেদের সত্তা বজায় রাখতে বাধ্য করেছে৷''

Arabische traditionelle Bekleidung Abaya

আবাইয়া পরিহিত এক নারী

বলতে কি, ইউএই-তে পশ্চিমি বেশভূষায় সজ্জিত পশ্চিমি মহিলাদেরও কোনো কমতি নেই৷ সে বিচারে আমিরাতের মানুষজনের কোনো সংকীর্ণতা নেই – দুবাইয়ের নামি-দামি শপিং মলগুলোয় পশ্চিমি মহিলাদের পাশেই আবাইয়া পরিহিত আমিরাতি মহিলাদের দেখতে পাওয়া যাবে৷

আমিরাতিদের কাছে ট্রাইবাল অ্যাফিলিয়েশন বা সাম্প্রদায়িক সত্তা হলো তাদের সামাজিক পরিচিতির ভিত্তিপ্রস্তর৷ লেখক ও বুদ্ধিজীবী সঈদ হামদান বলেন: ‘‘আমাদের সমাজের প্রকৃতি হলো সম্প্রদায় ভিত্তিক৷ মরুভূমি, উপকূল এবং পর্তাঞ্চলের আলাদা-আলাদা ট্রাইব বা সম্প্রদায় আছে৷'' এক্ষেত্রে আল-মুসল্লম কয়েকটি বৃহৎ বহিরাগত সম্প্রদায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সাংস্কৃতিক সত্তা বজায় রাখার গুরুত্বের কথা বলেন৷ বৃহৎ বহিরাগত সম্প্রদায় বলতে তিনি দৃশ্যত একদিকে এশিয়ার দেশগুলি থেকে আগত শ্রমিক, অন্যদিকে পশ্চিমা অতিথি ও কর্মচারীদের কথা বলছেন৷

আমিরাতে যে সব বিদেশি কাজ করেন, তাঁদের নিজেদের স্কুল, উপাসনামন্দির ইত্যাদি আছে৷ কিন্তু বহু দশক আমিরাতে কাটানোর পরেও নাগরিকত্ব পাওয়া তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব৷ বিবাহের ক্ষেত্রেও আমিরাতের পুরুষরা আমিরাতি মহিলাদেরই বিবাহ করেন – যদিও কিছু কিছু পুরুষ বিদেশিনীদের দ্বিতীয় পত্নী হিসেবে রাখেন, যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷

আমিরাতিদের সামাজিক মেলামেশার ভিত্তি হল স্বকীয় বাসভবনে ‘মজলিস', যা কিনা একটি বেদুইন প্রথা৷ নয়ত আমিরাতিরা গন্ধ মাখতে ভালোবাসেন, নামকরা পশ্চিমি ডিজাইনার লেবেল লাগানো কান্দুরা ইত্যাদি পরেন – নয়ত অভিবাসন এবং নতুন প্রযুক্তির দ্বিবিধ চাপে পড়া জাতীয় সত্তাকে বিগত ৪০ বছরের মতো আগামীতেও বজায় রাখার চেষ্টা করে যান৷

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন