1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

আমিও কি পপুলিস্ট?

পপুলিজমের ভূত তাড়া করে ফিরছে পৃথিবীকে৷ কিন্তু পপুলিজমটা ঠিক কী এবং কতটা ভয়ংকর সে বিষয়ে তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা এখনও একমত হতে পারেননি৷ ডয়চে ভেলের ফেলিক্স স্টাইনারও জানেন না, তিনি পপুলিস্ট কিনা৷

‘আমি কি পপুলিস্ট?' ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদন পড়ার পর থেকে আমি নিজেকে এই প্রশ্ন করেই যাচ্ছি৷ উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয়, সেটা কি খুব খারাপ হবে? গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুসারে ৩০ শতাংশ জার্মানই নিজেদের পপুলিস্ট এবং আরো ৩৪ শতাংশ জার্মান নিজেদের আংশিকভাবে পপুলিস্ট বলে মনে করেন৷

মানুষ সবসময় ‘দুই-তৃতীয়াংশের সমাজ'-এর কথা বলে৷ এখানে বাকি এক-তৃতীয়াংশ অন্যদের পাওয়া সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়৷ এই গবেষণা অবশ্য ননপপুলিস্টদেরই মুখ বন্ধ করে দিয়েছে৷

ডানপন্থি রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে যখন পপুলিজম বাবহার করা হয়, তখন শব্দটিকে নোংরা শব্দ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়৷ বামপন্থিদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য৷ আমার স্কুলে আমাকে শেখানো হয়েছিল যে, পপুলিজম হচ্ছে মানুষের সামনে এমন কিছু প্রতিজ্ঞা করা যা কীভাবে পূরণ করতে হবে, জানে না কেউ৷

এই সংজ্ঞা অনুসারে জার্মানির সবচেয়ে বড় পপুলিস্ট হচ্ছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট (এসপিডি) এবং লেফ্ট পার্টি বা বাম দল৷ এরা বিভিন্ন বিষয়ে বিচারের কথা বলে – যাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচের সম্ভাবনা – কিন্তু কোথা থেকে সে অর্থ আসবে, তা কেউ জানে না৷ এর সবশেষ উদাহরণ হলো এসপিডি চ্যান্সেলর মার্টিন শুলৎসের ভোকেশনাল ট্রেনিং ফান্ডের প্রস্তাব৷ এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে চাকরিজীবীরা কোর্সের জন্য ২০ হাজার ইউরো করে পাবেন৷

কে পুরোপুরি পপুলিস্ট আর কে আংশিক, তা নির্ধারণে আটটি প্রশ্ন নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশন৷ পপুলিস্টদের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা, বহুত্ববাদের বিরোধিতা এবং জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া৷ অতএব, চলুন সেই পরীক্ষায় অংশ নেয়া যাক৷

ফেলিক্স স্টাইনার

ফেলিক্স স্টাইনার, ডয়চে ভেলে

না, আমি প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করি না, এমনকি সেটা রাজনীতির ক্ষেত্রেও না৷ বরং, আমি মনে করি দেশের সবচেয়ে ভালো ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হওয়ার অধিকার জনগণের আছে৷ এ কারণেই একজন ব্যাংক ম্যানেজার যখন মাসে অনেক বেশি বেতন পান, তখন চ্যান্সেলরের বেতন মাত্র ১৫ হাজার ইউরো হওয়াটা আমাদের জন্য মানহানিকর৷ যারা যতটা গণমান্য, বেতনের মধ্য দিয়ে তার প্রতিফলন হওয়া উচিত৷

আমি কি জনগণের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেই? সব বিষয়ে গণভোট নেয়ার মতো ইচ্ছাও এর মধ্যে অন্তর্নিহিত৷ ব্রিটিশরা ১৩ মাস আগে এটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে যে কিছু জটিল বিষয় গণোভোটের উপযুক্ত নয়৷ জার্মানদের এমন সুযোগ দেয়া হলে তারাও ইতিহাসের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ‘ভুলভাবে' নিতে পারতো৷

বিভিন্ন রাজ্য এবং মিউনিসিপালিটিতে গণভোটের ফলের দিকে নজর দিতে হবে৷ তাহলেই দেখা যাবে গণতন্ত্র আকৃষ্ট করে না – এ কারণে অধিকাংশ নাগরিক ভোট দিতে না যাওয়াতেই ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে৷ আমি মনে করি, যখন সবচেয়ে ভালো ব্যক্তিটা পার্লামেন্টে আমার প্রতিনিধিত্ব করছে, তখন তাদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে, এবং নানা বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে, তাদের সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ম্যান্ডেট রয়েছে৷

একটা প্রশ্ন বাকি রইল৷ আমি কি বহুত্ববাদের বিরোধী? অবশ্যই না৷ সর্বশেষ পার্লামেন্ট বিভিন্ন ইস্যুতে একটা সমষ্টিগত একঘেয়েমি সৃষ্টি করেছিল, যা আমাকে প্রচণ্ড রাগান্বিত করেছে৷ বিভিন্ন মত নিয়ে আলোচনার কোনো বিষয়ই ছিল না সেখানে৷ দুই বছরে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে, যাদের অনেকের নিজেদের পরিচয়ের প্রমাণ পর্যন্ত নেই৷ কিন্তু এই বিষয়ে একটা বিতর্ক পর্যন্ত হয়নি৷

বিয়েতে সমতা এবং অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এক মিনিট করে৷ পার্লামেন্টে গত চার বছরে যে পরিমাণ বিতর্ক হয়েছে, টিভি টক শো বা ডিনার টেবিলেও এর চেয়ে বেশি বিতর্ক হয়ে থাকে৷

এ সব কারণে, আমি ফ্রি ডেমোক্র্যাটস (এফডিপি) এবং অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি), গ্রিন পার্টি অথবা লেফ্ট পার্টিকে পার্লামেন্টে দেখতে চাই৷ তাতে যদি জার্মানির পার্লামেন্টে কিছুটা হলেও বহুমতের প্রতিফলন ঘটে৷

শুধু এএফডির সমর্থকদেরই পপুলিস্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে, যা হাস্যকর৷ যারা সবুজ দল বা খ্রিষ্টীয় সমাজতন্ত্রীদের ভোট দেয় তাদের চেয়ে এমনকি এফডিপির সমর্থকদেরও এর চেয়ে বেশি পপুলিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ এই দলের সাফল্য কামনা কি আমাকেও পপুলিস্ট বানিয়ে দেয়?

ফেলিক্স স্টাইনার/এডিকে

এ বিষয়ে আপনি কী ভাবছেন? মন্তব্য করুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়