1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’

বাঙালির কাছে আবদুল গাফফার চৌধুরী এক সুপরিচিত নাম৷ রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে তাঁর লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন নিয়মিতই পত্রিকায় প্রকাশ হয়৷ বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন গাফফার চৌধুরী৷ তাঁর অন্যতম সৃষ্টি একটি কবিতা৷

default

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…

এই কবিতা গাফফার চৌধুরী লিখেছিলেন বহুকাল আগে, ১৯৫২ সালে৷ দেশে তখন ভাষা আন্দোলন চলছে, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাস্তায় তখন আপামর জনতা৷ ২১শে ফেব্রুয়ারি গুলি চলে সেই আন্দোলনে৷ প্রাণ হারান রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতরা৷ সেইদিনের সাক্ষী গাফফার চৌধুরী৷ তিনি বলেন, সেসময় বাংলাদেশ আন্দোলনমুখর ছিল৷ কেননা, ভাষা আন্দোলন তো ৫২ সালেই শুরু হয়নি, ১৯৪৮ সালে শুরু হয়, যখন মি. জিন্নাহ ঊর্দূকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন৷ তারপর এই আন্দোলন গড়াতে গড়াতে ৫২ সালে এসে রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের সূচনা হয়৷

শহীদ রফিকের মরদেহ

গাফফার চৌধুরী শহীদ রফিকের মরদেহ দেখেছিলেন৷ পুলিশের গুলিতে রফিকের মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল৷ ৫২'র ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ তিনি৷ কি দেখেছিলেন সেদিন? সেসময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী গাফফার চৌধুরী বললেন, ‘আমি আরো দু'জন বন্ধু নিয়ে গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের আউটডোর কক্ষে৷ সেখানে বারান্দায় শহীদ রফিকের লাশ ছিল৷ মাথার খুলিটা উড়ে গেছে৷ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন ছাত্র৷ তিনি তাঁর ক্যামেরায় রফিকের ছবি তোলেন৷'

একটি লাশ, একটি কবিতা

রফিকের মরদেহ দেখে গাফফার চৌধুরীর মনে হয়েছিল, যেন তাঁর নিজের ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে৷ তখনই তাঁর মনে গুনগুনিয়ে ওঠে একটি কবিতা, ‘‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি''৷ তিনি বলেন, এই কবিতায় প্রথমে আব্দুল লতিফ সুর দেন৷ তারপরে আলতাফ মাহমুদ সুর দেন৷ আলতাফের সুরেই এটা প্রভাত ফেরির গান রূপে গৃহীত হয়৷

‘ওরা মোর মুখের ভাষা কাইড়্যা নিতে চায়...'

২১শে ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনায় বাঙালি বুঝতে পেরেছিল, তারা আসল স্বাধীনতা পায়নি৷ তাই ভাষা স্বাধীনতা, তথা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তখন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র৷ গাফফার চৌধুরীর কথায়, ফেব্রুয়ারিতে রক্তপাতের পরে এটা শিক্ষিত-অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের আন্দোলন হয়ে দাঁড়ায়৷ যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় আব্দুল লতিফের গানে, ‘‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়্যা নিতে চায়''৷

তিনি বলেন, এই চেতনা বা বোধটুকু সাধারণ মানুষের মধ্যেও এসেছিল যে, আমার বাপ-দাদা'র জবান ওরা কাইড়্যা নিতে চায়৷ সুতরাং আন্দোলনটা তখন আর কোন এক শ্রেণির মধ্যে সীমিত ছিলনা৷ বাঙালি মাত্রই এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটা সেক্যুলার জাতীয়তার চেতনায় উন্নীত হয়৷

বাংলা ভাষায় পরিবর্তন

গাফফার চৌধুরী বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন যেমন দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি৷ সহজ করে বললে, একটি ভাষাকেন্দ্রিক জাতির আন্দোলন, স্বাধীনতা, উত্থান সবই তাঁর নখদপর্নে৷ তাঁর কাছে জানতে চাই, গত কয়েক দশকে বাংলা ভাষার ধরণবরনে কোন পরিবর্তন কি খুঁজে পান? উত্তরে গাফফার চৌধুরী, বাংলা ভাষায় দারুণ পরিবর্তন হয়েছে৷ সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- এর যুগ থেকে শুরু করে বা বঙ্কিমের ভাষা যেরকম প্রমথ চৌধুরীর আমলে পরিবর্তিত হয়ে অনেকটা কথ্য ভাষায় রূপ নিয়েছিল, তেমনি আজকের বাংলা ভাষা অনেকটাই গণভাষায় পরিণত হয়েছে৷ অন্যদিকে আবার আমাদের বাংলা ভাষায় গ্রহণি শক্তি বেশি৷ আরবি, ফারসি, ইংরেজি - সব ভাষা থেকেই আমরা শব্দ আহরণ করি৷ এখনও সেই আহরণ পর্ব চলেছে৷

অবাঞ্ছিত শব্দ

গাফফার চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে দেখবেন নব প্রযুক্তির যেসব শব্দ রয়েছে, তা বাংলা ভাষা খুব দ্রুত আহরণ করেছে৷ এই ব্যাপারে একটা বিপদও আছে৷ দ্রুত আহরণ করলে অনেক সময় অবাঞ্ছিত শব্দও ঢুকে পড়ে ভাষায়৷ বাংলা ভাষায় তাও হয়েছে৷

পরিবর্তিত বাংলা ভাষাকে আরো সমৃদ্ধ এবং সুগঠিত করতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন এই গুণী লেখক, সাংবাদিক৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচিত প্রতিবেদন