1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আমার-আপনার রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্র জয়ন্তীর ছায়া পড়ে, আমেজ ঘনায় এই প্রবাসেও৷ সারাটা জীবন যে কবির গান আর কবিতাকে পাথেয় করে যাত্রা, তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ তো আমাদের সবার৷

default

আমি যখন ক্লাশ সেভেনে, পিতৃদেব তখন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁর বই লিখতে শুরু করলেন৷ সেই সুবাদে তে'তলা থেকে বড়মামীমার সুদৃশ্য, বাঁধানো রবীন্দ্র রচনাবলী এলো গ্যামাক্সিন দেওয়া কাঁচের আলমারি ছেড়ে একতলায় জল-কাদা আর খালিপায়ে ফুটবল খেলা ছেলেপিলেদের ভিড়ে৷ বাবা পড়ছেন আর লিখছেন, আর সেই সঙ্গে আমি আর আমার দিদি বুঝি-না-বুঝি খণ্ডের পর খণ্ড পড়ে ফেললাম৷ শুনলাম বাবা মা'কে বলছেন: পড়ুক৷ বোঝার জন্য তো সারা জীবন আছে৷

আরশোলাও পাখি!

নজরুলের অগ্নিবীণা নিয়ে যখন সব বিপ্লবী বঙ্গসন্তান মশগুল, বাবা ছিলেন সেই আমলের রবীন্দ্র ভক্ত৷ পরে শান্তিনিকেতনে কাজ করেছেন৷ নন্দলাল বোসের কাছে শুনেছেন, কিভাবে কবি টেবিলে বসে লেখার সময় তাঁর কালির দোয়াতে একটি আরশোলা পড়ে যায়৷ দোয়াত মুক্ত হবার পর আরশোলাটি নাকি কবির একটি ফটোগ্রাফের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়৷ ছবিটির দশা হয় এই, যেন রবীন্দ্রনাথ কোনো দুর্বোধ্য জালের মধ্যে দিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন, চোখের কোণায় অশ্রু৷ রবীন্দ্রনাথ আরশোলার এই চিত্রকর্ম খানিকক্ষণ নিরীক্ষণ করে, কি খেয়ালে ছবিটা টেনে নিয়ে তলায় স্বাক্ষর করে দিলেন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ এ'টি ছিল আমার প্রিয় গল্প৷

Rabindranath Tagore

কবিগুরুর নিজ হাতে লেখা চিঠি

শেষের কবিতা নয়, গান

আমি তখন কলেজে, পড়ি ইংরিজি সাহিত্য৷ কলকাতার কোন এক ক্লিনিকে মা'য়ের অপারেশন হয়েছে৷ রাত্রে খোঁজ নিতে আমি আর বাবা৷ কথা হচ্ছে, শেক্সপীয়ার বড় না রবীন্দ্রনাথ বড়৷ বাবা বললেন, গ্রিক দার্শনিক প্লেটো নাকি একবার বলেছিলেন: ‘‘ইফ আই ক্যান মেক দ্য সং'স অফ এ নেশন, আই ডো'ন্ট কেয়ার হু মেকস ইটস ল'স'' - অর্থাৎ ‘আমি যদি একটি জাতির গান লিখে যেতে পারি, তো সে জাতির আইন কে সৃষ্টি করল, তা'তে আমার কিছু আসে যায় না'৷ রবীন্দ্রসঙ্গীতের কল্যাণে রবীন্দ্রনাথ শেক্সপীয়ারকে টেক্কা দিলেন৷ গোটা ব্যাপারটা ঠাট্টার সুরে হলেও, পিতৃদেব সারা জীবন ধরে আইন, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস এবং ধর্ম নিয়ে চর্চা করার পর একেবার প্রান্তিক সময়ে এসে ঐ রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়েই তাঁর শেষ লেখাটা লিখছিলেন৷ শেষ করে যেতে পারেননি৷

চারুকলা

আর আমি হলে কি লিখতাম? লিখতাম শুনতে শুনতে কান পচে যাওয়া গান ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী'-তের কথা: গানটার বিশেষত্ব কি জানেন? পদের অন্তাক্ষরে মিল নেই৷ ছন্দের জাদুতে সেটা কেউ খেয়ালই করে না৷ লিখতাম দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া সেই ‘যখন পাতায় পাতায় বিন্দু বিন্দু ঝরে জল': এটা হল ক্যামেরার ক্লোজ-আপ৷ পরের লাইনেই সেটা কথায় এবং সুরে ছড়িয়ে গিয়ে হল: ‘শ্যামল বনান্তভূমি করে ছলছল'৷ কিন্তু মজাটা এই যে, বিস্তীর্ণ বনান্তভূমির ‘ছলছল' করে ওঠার অর্থ, বনভূমি সজল সে আঁখি৷

বাঙালীর মানসিকতার কতোটা যে রবীন্দ্রনাথ, সেটা হিসেব করতে একবার ইউনেস্কো'কে ডাকলে হয় না?

প্রতিবেদক: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়