1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফিচার

আমাদের ‘লোকাল হিরো’ যাঁরা

পলান সরকার, মাসুদ ও এক ভ্যানচালক – এঁরাই আমাদের লোকাল হিরো৷ তাঁদের নাম প্রস্তাব করে ডয়চে ভেলের লোকাল হিরো প্রতিযোগিতায় প্রথম তিনটি পুরস্কার জিতেছেন যথাক্রমে শিলা রানী, এসএম আনোয়ার কবীর ও মো. তানভীর হাসান৷

বিশ্বের লোকাল হিরোরা কারা? কারা সেই মানুষ, যাঁরা সমাজ পরিবর্তনে কাজ করছেন? অপ্রাণ চেষ্টা করছেন অভাবে-অনটনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে? হ্যাঁ, তাঁদের কথাই জানতে চেয়েছিলাম আমরা৷ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম তাঁদেরই গল্প৷ আপনারা সেই ডাকে সাড়া দিয়েছেন৷ গত এক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগুনতি লোকাল হিরোদের সন্ধান পেয়েছি আমরা, শুধুমাত্র আপনাদের জন্য৷ আপনারাই আমাদের খোঁজ দিয়েছেন সেই সব মানুষদের, যাঁরা বিশ্বের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থেকেও গরিব-দুস্থ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন অথবা মানবাধিকারের জন্য লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত৷

এই আন্তরিক সহযোগিতা, সাহায্যের জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ৷ গত কয়েক সপ্তাহে আপনাদের পাঠানো গল্পগুলি যাচাই করে বিশ্বের বিভিন্ন কোণ থেকে লোকাল হিরোদের বেছে নিয়েছি আমরা৷ বাংলা ভাষায় রাজশাহীর শিলা রানী, সিরাজগঞ্জের এসএম আনোয়ার কবীর ও বগুড়ার মো. তানভীর হাসান যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার জিতেছেন৷ তাঁদের পাঠানো লোকাল হিরোদের চিনে নিন আপনিও –

ডায়াবেটিসের কারণেই এলো সেই চিন্তা
বয়স এখন ৯৫৷ তাতে কি? এখনও হেঁটে হেঁটে গ্রামের মানুষের মাঝে আলো বিতরণ করেন রাজশাহীর বাঘার এই মানুষটি৷ প্রতিদিন কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ আর বগলে করে বই নিয়ে গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই ধার দিয়ে আসেন, আর ফেরত নিয়ে আসেন আগের ধার দেয়া বইগুলো৷ শুরুটা হয়েছিল বছর ত্রিশেক আগে৷ তখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে বেশি করে হাঁটার পরামর্শ দেন৷ সেই সময় বুদ্ধিটা মাথায় আসে পলান সরকারের৷ তিনি চিন্তা করে দেখলেন, শিক্ষার্থীরা যে তাঁর বাড়ি থেকে বই নিয়ে যায় সেটা না করে তিনি নিজেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসবেন৷ এতে করে তাঁর অনেকখানি হাঁটাও হবে৷ সেই থেকে শুরু৷ এখন তিনি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, অন্য গ্রামবাসীদেরও বই ধার দিয়ে থাকেন৷ এভাবে গত ৩০ বছর ধরে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের মধ্যে আলো বিতরণ করছেন৷ পলান সরকারের এই উদ্যোগ অন্য আরও অনেককেই উদ্বুদ্ধ করছে৷

জ্ঞানের আলো ছড়ান মাসুদ
ভূমিহীন পরিবারের সন্তান ছিলেন মাসুদ৷ দারিদ্র্যতার মধ্যেও তিনি নিজেকে শিক্ষিত করেছেন৷ আর এখন নিজ গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে৷ ২০-২৫ জন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর চাকরিরও ব্যবস্থা হয়েছে মাসুদের স্কুলে৷ স্কুলের পাশাপাশি তিনি একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে রিকশাচালক – যে কেউ মাসুদের লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারে৷

অন্যরকম ভ্যানচালক
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে এমন একজন ভ্যানচালক আছেন, যাঁর সঙ্গে আরোহীরা কখনও ভাড়া নিয়ে সমস্যায় পড়েন না৷ কারণ বিনয়ী ঐ ভ্যানচালক কখনও বেশি ভাড়া চান না৷ আবার কেউ কম ভাড়া দিলেও তিনি রাগ করেন না৷ শুধু তাই নয়, কোনো আরোহী চলে যাবার সময় যদি ভ্যানে কিছু ফেলে যায় তাহলে ঐ ভ্যানচালক সেগুলো ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেন৷ অন্যের সমস্যার সময় সাধ্যমত সহায়তার চেষ্টাও করেন তিনি৷

এছাড়াও, সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছেন – নেত্রকোণার রফিকুল ইসলাম, বগুড়ার এমএ বারিক, মাগুরার মো. সালমান শাহ, সিরাজগঞ্জের মো. মিজানুর রহমান এবং ঢাকার লিনা সেন৷ বলা বাহুল্য, বৈধ উপায়ে প্রেরিত গল্পগুলো থেকেই বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়েছে৷ বিজয়ীদের সঙ্গে ডয়চে ভেলে কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই যোগাযোগ করবে৷

পুরস্কার:
বিজয়ী: স্মার্টফোন ও একটি লোকাল হিরো প্যাকেজ
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান: আইপড ও একটি লোকাল হিরো প্যাকেজ

ইংরেজি ভাষাতে লোকাল হিরো হয়েছেন এক বাঙালি নারী৷ সেই সুভাসিনী মিস্ত্রীর গল্প পড়ুন৷

লোকাল হিরোদের নিয়ে ডিডাব্লিউ-র কয়েকটি প্রতিবেদন:
পল্লির মানুষের সেবা করেন তথ্যকল্যাণীরা
প্রত্যেক বস্তিতে টয়লেট নির্মাণের স্বপ্ন কলাবতীর
ময়লা জমা দিন, ডাক্তার দেখিয়ে যান
শরণার্থীদের বন্ধু এক জার্মান নাগরিকের কথা

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়