1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আবার ভারত-পাকিস্তান বাগযুদ্ধ – কিন্তু কেন?

গত কয়েক মাস কিছুটা শান্ত থাকা দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে যেন বাক্যের ঝঞ্ঝনা শুরু হয়েছে৷ কিন্তু তা-তে কোনো পক্ষের লাভ হচ্ছে কি?

তাঁর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, তাঁর দেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের পরিত্রাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে৷ অপরদিকে পাকিস্তানের চিরকালের অভিযোগ যে, ভারত ঢাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রয়াসকে প্রেরণা এবং মদত দিয়েছিল৷ বিশেষজ্ঞরা এবার বলছেন যে, বাংলাদেশে মোদীর সর্বাধুনিক মন্তব্য পাকিস্তানের অভিযোগকেই আরো জোরদার করেছে – অপরদিকে বাঙালিদের নিজস্ব সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে৷

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ গত বুধবার সেনেটে বলেন যে, মোদীর মন্তব্য পাকিস্তানের ‘‘ভেঙে যাওয়ায়'' ভারতের সংশ্লিষ্ট থাকার স্বীকৃতি৷ সেনেটে অন্যান্য মন্ত্রীরা পশ্চিমের বালুচিস্তান প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে নতুন দিল্লির সমর্থন ও সাহায্যের কথা বলেন৷

Indien Narendra Modi trifft Nawaz Sharif in Neu-Dheli 26.05.2014

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ

লাহোরের রাজনৈতিক কর্মী ইদ্রিস আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন: ‘‘(মোদীর মন্তব্য) সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়৷ এ কথা বলে তিনি ঢাকার কোনো উপকার করেননি৷ তিনি সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন যে, ভারত বাংলাদেশের সংগ্রামে নৈতিক ও রাজনৈতিক সাহায্য দিয়েছে৷ কিন্তু এর ফলে ইসলামাবাদে যুদ্ধপন্থিরাই উৎসাহ পাবে৷''

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বৃহস্পতিবার ভারতের একটি সংবাদপত্রকে বলেন: ‘‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী খোলামনে বলেছেন যে, ভারত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছে৷ এর অর্থ পাকিস্তানে হস্তক্ষেপ নয়, কেননা বন্ধু প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, যার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ৷ কাজেই এটি একটি তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক দেশের আরেক দেশের প্রতি সমর্থন৷''

ওদিকে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার উপমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর বুধবার বলে বসেছেন যে, ভারত ‘‘আমাদের বাছাই করা স্থান এবং সময়ে ‘শল্যচিকিৎসা মূলক' আক্রমণ চালাবে'' – যার পটভূমিতে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিয়ানমারে অবস্থানকারী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আন্তঃ-সীমান্ত আক্রমণ৷ ‘‘পশ্চিমে গোলযোগের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,'' রাঠোর সেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন৷ প্রশ্নটা ছিল: ভারত পাকিস্তান সীমান্তে অনুরূপ আক্রমণ চালাতে পারে কিনা৷

পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াও আসে দ্রুত৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধরি নিসার আলি খান বৃহস্পতিবার বলেন: ‘‘আমাদের সামরিক বাহিনী যে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে পুরোপুরি সক্ষম এবং ভারতীয় নেতাদের দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করা উচিত৷'' ভারতের পাকিস্তানকে মিয়ানমারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয় – তিনি আরো যোগ করেন৷ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রহিল শরিফও ভারতকে ‘‘পাকিস্তানের ওপর কুনজর'' দেওয়া সম্পর্কে সাবধান করে দেন৷

এই নতুন বাগযুদ্ধ থেকে শুধু উভয় দেশের সামরিক বাহিনী, অস্ত্রশিল্প, উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা লাভবান হবে, বলে ইদ্রিস আহমেদ মনে করেন: ‘‘ভারতীয় রাজনীতিকরা কা-র উপকার করার চেষ্টা করছেন? (পাকিস্তানের) প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বেসামরিক সরকারের নিশ্চয় নয়৷ তাঁরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হর্তাকর্তা এবং তাঁদের তাঁবেদার ইসলামপন্থিদের দেশে বিদ্বেষ ও যুদ্ধবাজ পরিবেশ সৃষ্টি করার সুযোগ এনে দিচ্ছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়