1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আবারও ভিক্ষুকমুক্ত ঢাকা গড়ার সিদ্ধান্ত

ঢাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ প্রথম পর্যায়ে ঢাকার সাতটি এলাকায় এই অভিযান চলবে৷ এরপর পুরো রাজধানীকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে৷

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী৷ তিনি অভিযান শুরুর ঠিক দিনক্ষণ না জানালেও ঈদের পরে সেটা শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে৷

মন্ত্রী জানিয়েছেন অভিযানের আগে মাইকিং করে ভিক্ষুকদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে৷ প্রথম পর্যায়ে ঢাকার বিমানবন্দর, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা ও রেডিসন হোটেল এলাকা, বেইলি রোড এবং রাজধানীর কূটনৈতিক জোন ও দূতাবাস এলাকাগুলো ভিক্ষুকমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে সরকার৷ তিনি জানান, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করতে গত বছরের ২২ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ এবার বাস্তবায়ন করা হবে৷ মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে এর আগে উদ্যোগ নিয়েও অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন৷ এখন আমরা আর ব্যর্থ হতে চাই না৷

Bangladesch Dhaka Bettler

অভিযানের আগে মাইকিং করে ভিক্ষুকদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে (ফাইল ফটো)

এর আগে ভিক্ষুকদের ধরে নিয়ে ভবঘুরে কেন্দ্রে আটক অথবা ঢাকার বাইরে রেখে আসা হয়েছে৷ এবার কি করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাজটি এমনভাবে করব যেন আর ভিক্ষা না হয়৷'' বাংলাদেশ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণে ‘অনেক কিছুই' করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা তা দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করুন৷'' তিনি বলেন, ভিক্ষুক চক্রের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে পুরো দেশকেই ‘পরিবর্তন' করা হবে৷

মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সবার নাগরিক অধিকার দেয়ার কথা বলেছেন৷ এরপরেও কেন তারা ভিক্ষা করবে? আমরা তো সরকারে আছি, আমরা ঘোড়ার ঘাস কাটি নাকি?''

সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সারা দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভিক্ষুক আছে৷ এর মধ্যে ঢাকা শহরেই ভিক্ষুকের সংখ্যা ৫০ হাজার৷ আর ঈদ ও কোরবানিসহ নানা উৎসবে ৫০ হাজার মৌসুমী ভিক্ষুক যোগ হয় ঢাকায়৷ তাদের হিসাবে ঈদ, কোরবানি এবং শবে বরাতে ঢাকায় কমপক্ষে এক লাখ ভিক্ষুক সক্রিয় থাকে৷ তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে মনে করা হয়৷

২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা' নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্চ আদালতে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে রিট হয়৷ আদালত ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি শিশু ভিক্ষাবৃত্তিসহ সর্বপ্রকার ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে৷ ঐ বছরের ৯ জানুয়ারি রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়৷ একই সঙ্গে রাজধানীতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়৷ এরপর ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে৷ আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়৷ তবে তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি৷

সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর জানায়, ‘‘কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের সব ভিক্ষুককে জরিপের আওতায় আনা হয়৷ ১০টি এনজিওর মাধ্যমে ঢাকা শহরকে ১০টি জোনে ভাগ করে ১০ হাজার ভিক্ষুকের ওপর জরিপ পরিচালনা করে তাদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়৷'' এর উদ্দেশ্য হলো ভিক্ষুকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা শহরের দুই হাজার ভিক্ষুকের পুনর্বাসন এবং পর্যায়ক্রমে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসন৷

ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ভিক্ষুকের সংখ্যা বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও জামালপুর জেলাকে নির্বাচন করে প্রতি জেলা থেকে পাঁচশ জন করে মোট দুই হাজার জনকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়৷ তবে পুনর্বাসনের বাস্তব কাজ শুরু হয়নি৷ এগুলো কাগজে কলমেই আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়