1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আফ্রিকায় সবার জন্য পেনশন – কতটা সম্ভব

জনসংখ্যাবিদ ভালেরি গোলাজ উগান্ডায় বসবাস করেন৷ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক স্টাডির সমীক্ষা ‘আইএনইডি’-তে অন্যান্যদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি৷ তাঁদের কথায়: ‘‘আফ্রিকায় বেশিরভাগের জন্য অবসর ভাতার ব্যবস্থা নেই৷’’

এই সমীক্ষায় গবেষকরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন, আফ্রিকার দেশগুলি বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জগুলিকে কীভাবে মোকাবেলা করছে৷ তাঁরা জানান যে, মহাদেশটির উত্তরের দেশগুলিতে বড় ধরনের একটা অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে৷ কিন্তু সেসব দেশেও অল্পসংখ্যক মানুষ পেনশন ভোগ করেন, বলেন আইএনইডির গবেষক ভালেরি গোলাজ ৷ সাহারার দক্ষিণের দেশগুলিতে পেনশন ব্যবস্থার তেমন কোনো কাঠামোই গড়ে ওঠেনি৷ ‘‘কিছু সরকারি ও বেসরকারি বিভাগে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷ তাও আবার অল্প সংখ্যক মানুষের জন্য৷''

এছাড়া পুরুষ ও নারীর মধ্যেও রয়েছে বড় পার্থক্য৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিউনেশিয়ায় ষাটোর্ধ্ব পুরুষদের ৩০ শতাংশ পেনশন পান৷ অন্যদিকে, এই বয়সি নারীদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ অবসরভাতা ভোগ করে থাকেন৷

সরকারি পেনশনের ব্যবস্থা

১৯৬০-এর দশক থেকে আফ্রিকার অধিকাংশ দেশই সরকারি পেনশন চালু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলি সহায়তা দিচ্ছে৷

কিন্তু আফ্রিকার অনেক দেশেই কার্যকরী ও সংগঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ নেই৷ ফলে বিশেষ করে পশ্চিম ও সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশগুলিতে ১০ শতাংশেরও কম প্রবীণ ব্যক্তি অবসরভাতা পান৷ মরিশাস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার অবস্থা তুলনামূলকভাবে অনেকটা ভালো৷

অবসরভাতা ছাড়া বর্ষীয়ানদের কষ্টেসৃষ্টে জীবন কাটাতে হয় সেখানে৷ শারীরিক ও মানসিক দিয়ে একেবারে ভেঙে পড়া না পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাঁদের, নয়ত পরিবারের সাহায্য সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়৷ কিন্তু পরিবারের লোকজনও এখন সহজে পাশে এসে দাঁড়াতে পারছে না৷ কেননা ভৌগোলিক দিক দিয়ে অনেক সময় দূরে বসবাস করতে হয় তাদের৷ কিংবা তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই নিজেদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়৷ এছাড়া আফ্রিকায় বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে৷

প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি

জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী, আগামী ৪০ বছরে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাবে৷ এই সব মানুষকে সাহায্য করার জন্য আফ্রিকার দেশগুলিতে একটি মডেল নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷ আর তা হলো, ‘নিঃশর্তে ন্যূনতম আয়'-এর ব্যবস্থা করা৷ এই মডেলটি ল্যাটিন অ্যামেরিকার দেশগুলিতে বেশ সফল হয়েছে৷ এতে অক্ষম সব মানুষের জন্য সরকারি ভাতা বা আয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে৷

এই মডেলটি নিয়ে এখন উগান্ডায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে৷ পেনশনের দিক দিয়ে আফ্রিকার সবচেয়ে কাহিল দেশ এটি৷ ৬৫ উর্ধ্ব ব্যক্তি ও আহতদের জন্য যে পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে তাও খুব সামান্য, মাসে ১০ ডলারের মতো৷ কিন্তু পেনশনভোগীর সংখ্যা বা অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর মতো সামর্থ্য দেশটির নেই৷

বেসরকারি পেনশন

এখন দেখা যাক বেসরকারি পেনশনের ক্ষেত্রে অবস্থাটা কীরকম? বড় বড় জীবনবিমা কোম্পানিগুলি আফ্রিকার বাজারের দিকে এখনও নজর দেয়নি৷ বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা,আইএলওর সামাজিক বিমাবিষয়ক সমন্বয়কারী থারসিস কানাগু৷ তার বদলে এক ধরনের ‘অতিরিক্ত পেনশনের' ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷ যাকে কর্মপ্রতিষ্ঠানের পেনশনও বলা যেতে পারে৷ ‘‘তবে মালিকপক্ষ এই পেনশনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি৷ বরং এগিয়ে আসছে ট্রেড ইউনিয়নগুলি৷ তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দরকষাকষি করছে৷'' জানান থারসিস কানাগু৷

Sudanesische Bäuerin reinigt ausgedroschene Sorgum-Körner

জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী, আগামী ৪০ বছরে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাবে

স্বাস্থ্য রক্ষ্যায় প্রয়োজন অর্থ

আইএলও মনে করে, প্রবীণভাতা ও সামাজিকবিমার মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে৷ এই দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা যায় না৷ কারো নির্দিষ্ট আয় থাকলে সে মৌলিক চাহিদাগুলি বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করবে৷ অন্যদিকে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে অর্থেরও প্রয়োজন৷ প্রবীণরা সেবাখাতে খরচ করতে গিয়ে যাতে দারিদ্র্যের কবলে না পড়েন সে জন্য আইএলও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ভার কমানোর নানা রকম উপায় বের করার চেষ্টা করছে৷ এটা করা যেতে পারে জাতীয় বিমা সিস্টেম কিংবা কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন বিমার মাধ্যমে৷ শেষেরটির বেলায় বেশ বড় সাফল্য দেখা গিয়েছে৷ বিশেষ করে সেনেগাল, বেনিন কিংবা রুয়ান্ডায়৷

এই পদ্ধতিতে বিমা-সংঘের মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ সদস্যকে প্রতি বছর সেবাখাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়৷ তবে পর্যাপ্ত ও বিশেষ করে প্রবীণদের উপযোগী আধুনিক সেবা সার্ভিস এখনও গড়ে ওঠেনি আফ্রিকায়৷ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের দেখা মেলে শুধু বড় বড় শহরগুলিতে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন