1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আফিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগে পাকিস্তানে বিক্ষোভ

পাকিস্তানি স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ আফিয়া সিদ্দিকি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের গুলিকরে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে নিউ ইয়র্কের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ৷

default

আফিয়া সিদ্দিকির বিরুদ্ধে রায়ে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বড় শহরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

অনেক পাকিস্তানিই মনে করেন, তিন সন্তানের জননী ৩৭ বছর বয়সি এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের' আরেক নির্দোষ শিকার৷

নিউ ইয়র্কের আদালতে আফিয়া সিদ্দিকিকে দোষী সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বড় শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন বৃহস্পতিবার৷ বিক্ষোভকারীদের একজন লাহোর হাই কোর্টের আইনজীবী আকসির আব্বাসি৷

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে সব জায়গাতেই অভিযুক্তরা ‘বেনেফিট অফ ডাউট' বা সন্দেহাতীতভাবে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত বলে সুবিধা পেয়ে থাকেন৷ কিন্তু আফিয়া তা পাননি বরং এক্ষেত্রে আদালত তা পেয়েছে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন৷ এটা বিচারপ্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিমালার বিরোধী৷''

২০০৮ সালে আফগানিস্তানের গজনীতে মার্কিনিদের হাতে গ্রেপ্তার হন আফিয়া৷ পড়ে থাকা একটি পিস্তল হাতে তুলে নিয়ে সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসা মার্কিন সেনাদের দিকে গুলি ছোঁড়েন তিনি৷ তার আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো অবস্থা নেই আফিয়ার৷ আইনজীবীদের একজন এলেইন শার্প বলছিলেন, ‘‘১৮ মাস ধরে নিঃসঙ্গভাবে আটক থাকার পর তিনি আর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না৷ শেষপর্যন্ত আমিই তাকে সাক্ষ্য দিতে দাঁড় করাতে পেরেছিলাম, কিন্তু তাকে প্রস্তুত করার জন্য আমি দুই ঘন্টারও কম সময় পেয়েছি৷''

আফিয়া সিদ্দিকি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন৷ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে তাকে যারা চিনতেন তাদের সবাই বলেছেন, আফিয়া অত্যন্ত ভদ্র এবং ইসলামের প্রতি তার বিশেষ দরদ ছিল৷ ২০০৩ সালে করাচি থেকে তিন সন্তানসহ উধাও হয়ে যান তিনি৷ সেসময় আফিয়ার পরিবারের অভিযোগ ছিল গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাদের অপহরণ করেছে৷ এরপর আফগানিস্তানের বাগরাম কারাগারে গোপনে তাকে আটকে রাখা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ এ নিয়ে তখন অনেক মাতামাতি হলেও ২০০৮ সালে গজনীতে ওই গুলির ঘটনার আগে গণমাধ্যমে আর তার নাম শোনা যায়নি৷

নিউ ইয়র্কের আদালতে কেবল গজনীর ওই ঘটনারই বিচার হয়েছে৷ তাকে অপহরণ বা বাগরামে আটকে রাখা সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি৷

আফিয়া সিদ্দিকির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি৷ যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে বিভিন্ন সময়ে আল-কায়েদাকে অর্থায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হামলা পরিকল্পনার কথা বলে এসেছেন৷ তার আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, আফিয়ার বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বৈতনীতি অনুসরণ করেছে মার্কিন প্রশাসন৷

প্রতিবেদন : মুনীর উদ্দিন আহমেদ

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়