1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আফগান নারীদের দুর্দশা

জানুয়ারি মাসের শেষে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হল আফগানিস্তান সম্মেলন৷ বিষয় ছিল আফগানিস্তানের নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন৷ কিন্তু মহিলাদের সমস্যা আলোচনার শীর্ষে স্থান পায়নি

default

আফগান নারীদের জীবনে কোন পরিবর্তন আসেনি

সম্মেলনে নারীদের করুণ অবস্থার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ না করায় আফগান নারীদের সমস্যাকে আর একবার অবহেলা করা হল৷

প্রশ্ন, নারী অধিকার কি দর কষাকষির বিষয় ? মোটেই তা নয়৷ লন্ডনের আফগানিস্তান সম্মেলনে তা-ই বেশ পরিস্কার করে জানিয়ে দেয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো৷ তারা সোচ্চার হয়েছিল সেসব রাজনীতিকের সামনে যারা সেই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তালেবান শাসন পতনের ৯ বছর পরও আফগান নারীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি৷ মেয়েদের জন্য নতুন স্কুল তৈরি করা হয়েছে ঠিকই বা পুরনো স্কুলগুলো মেরামত করা হয়েছে, নিয়োগ করা হয়েছে নতুন শিক্ষিকাদের কিন্তু কেউই খুব উৎফুল্ল নন৷ কারণ আফগান নারীদের জীবন এখনও নিরাপত্তাহীন৷ ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছে আফগান নারী এবং মেয়েরা৷

Flash-Galerie Afghanistan , Land und Leute

সবাই স্বাবলম্বী হতে চায়

কান্দাহারের মেয়ে শাহিদা - পেশায় আইনজীবী৷ সাধারণ আফগান মহিলাদের সাহায্য করতে ব্যস্ত তিনি৷ তবে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে শুধু তাঁকে বাড়ি, বাড়ি যেতে হয়৷ এ নিয়ে শাহিদা খুবই বিরক্ত৷ কেন এসব মেয়ে বাড়িতে বসে আছে ? এই বয়সে এই সময়ে তাদের ব্যস্ত থাকা উচিৎ স্কুলে, কলেজে বা কর্মস্থানে, হাসপাতালে - যেখানে নারীশক্তির প্রয়োজন৷ শাহিদা কখনও পরামর্শ দেন, কখনও সমঝোতায় সাহায্য করেন, কখনওবা শুধু নালিশ শোনেন৷

কান্দাহার এই সময়ের আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে৷ তালেবান জঙ্গিরা এই অঞ্চলে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ কিন্তু তারপরেও ৫০ বছর বয়স্কা এবং তিন সন্তানের জননী শাহিদা কোন কিছুকেই ভয় পান না৷ নির্ভয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শাহিদা, প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন নারী অধিকার৷ শাহিদা জানালেন, বিদেশে প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র বা প্রচার মাধ্যমে জানানো হয় - আফগানিস্তান এখন নিরাপদ, যে কেউ এসে এখানে কাজ করতে পারে৷ সব বাজে কথা৷ নারীদের সমস্যা আগের মতই আছে৷ সবাই দরিদ্র অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম৷ যেমন ধরা যাক, একজন মহিলা গর্ভবতী৷ অথচ তাঁর আশেপাশে কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল পাওয়া যাবে না৷ অথবা আদালতে কখনোই কোন মহিলা কোন মামলায় জিততে পারবেন না৷ পুরুষের বিরুদ্ধে কোন মহিলারই জেতার কোন সম্ভাবনা নেই৷ আইনের দৃষ্টিতে তাঁর অধিকার যদি থেকেও থাকে তারপরেও কোন মহিলা জিততে পারবেন না৷

Flash-Galerie Afghanistan Land und Leute Tazi

সাধারণ জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে ট্যাঙ্কের গর্জন

আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত৷ এবং সেই গণতন্ত্র অনুসারে মহিলারা কাজে যেতে পারেন, মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে৷ বাস্তবে কিন্তু এর কোনটিই পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না৷ এখনও প্রায় ৯০ শতাংশ আফগান নারীর আক্ষরিক জ্ঞান নেই৷ এর মূল কারণ হল বাড়িতে বাবা বা স্বামী কোন অবস্থাতেই তাদের বাড়ির বাইরে যেতে দিতে চান না৷ তারা ভয় পান যে কোন সময় যে কোন আত্মঘাতী হামলায় এরা হয়তো মারা যেতে পারে৷ বিমান হামলা বা ন্যাটোর হামলা সারাক্ষণই চলছে৷ অথবা কোন পুরুষই চাননা একজন মহিলা জ্ঞান গরিমায় তাঁর চেয়ে এগিয়ে যাক, তাঁর চেয়ে বেশি শিক্ষিত হোক৷ শাহিদা শোনালেন ভয়ঙ্কর কাহিনী৷ কান্দাহারে গত বছর প্রায় ২৫ জন মেয়ে মারা গেছে বা মেরে ফেলা হয়েছে৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাবা বা ভাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে৷ নির্মমভাবে তারা মেয়ে বা বোনকে জবাই করেছে৷ কারণ মেয়েটি স্কুল যেতে চেয়েছিল, পড়াশোনায় আগ্রহ দেখিয়েছিল, স্বাবলম্বী হতে চেয়েছিল৷

Kufa Frauen Kinder Waisenhaus Kabul Afghanistan

আফগান মেয়েরা পড়াশোনা করতে চায়, শিক্ষিত হতে চায়

এসব মৃত্যুর ঘটনাগুলো পুলিশকে জানানো হয় না৷ হলেও পুলিশ না শোনার বা জানার ভান করে৷ কিন্তু যদি দেখা যায় যে বা যারা মেয়েটির হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী এবং তারা তালেবান গোষ্ঠীর তাহলে তো কথাই নেই৷ ধরেই নেয়া হয় - মেয়েটি নিশ্চয়ই ভালো কোন মেয়ে না৷ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী একটি ভাল-ভদ্র মেয়েকে কখনোই মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয় না৷

সারা দেশে নিরাপত্তার আরো অবনতি হয়েছে৷ নারী অধিকারের কোন ধারণাই কারো মধ্যে নেই৷ বিদেশি সেনার উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বাড়েনি বলেই মনে করেন শাহেদা৷ আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বললেন, একদিকে তালেবান, যারা সারাক্ষণই অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছে৷ আরেকদিকে ন্যাটো ও আইসাফ বাহিনী এবং এরপরে আফগান সরকার৷ আমরা অসহায় মহিলারা একেবারে মধ্যে - আটকে রয়েছি৷ কোন সমস্যা হলে কার কাছে যেতে হবে, কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কে আমাদের সমস্যা বুঝবে এর কোনটিই আমরা বুঝে উঠতে পারি না৷ তাই আমরা ঘরে বসে থাকি, নিজেদের আটকে রাখি কারণ সেটাই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ৷

প্রতিবেদক: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদক: আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়