1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আফগানিস্তানে স্বস্তি, শঙ্কা এবং ক্ষোভ

অবশেষে নতুন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে আফগানিস্তান৷ আশরাফ গনিকে প্রেসিডেন্ট এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে দেশের ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এর ফলে অচলাবস্থা কাটলেও আফগানিস্তানের অনেকে খুশি হতে পারেননি৷

default

আশরাফ গনিকে (ডানে) প্রেসিডেন্ট এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে (বামে) ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’ ঘোষণা করা হয়েছে

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা গেল রবিবার৷ সেদিন সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকে বসেছিলেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আশরাফ গনি এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ৷ রাজধানী কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে আশরাফ গনিকে প্রেসিডেন্ট এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷

অচলাবস্থা কাটানোর স্বার্থে ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা' নাম দেয়া হলেও আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আসলে প্রধানমন্ত্রীর সমান ক্ষমতাই উপভোগ করবেন৷ বৈঠক শেষে আশরাফ গনি বা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ অবশ্য কোনো বিবৃতি দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাননি৷

তাই বলে দুই পর্বের ভোট শেষে ভোটের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখে দুই প্রার্থীর এভাবে আপোশরফায় সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেমে নেই৷ অধিকাংশ আফগান স্বস্তিই পেয়েছেন৷ গত এপ্রিলে প্রথম এবং জুনে দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা কাটছিল না৷ অবশেষে একটা দফারফা যে হয়েছে তাতেই স্বস্তি পেয়েছেন অনেকে৷

জাতীয় ঐক্যের আশা

প্রধান দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যে অবশেষে পারস্পরিক বিরোধ দূরে রেখে এক সঙ্গে সরকার পরিচালনায় রাজি হয়েছেন, কারো কারো কাছে এটাই বড় স্বস্তির ব্যাপার৷ কাবুলের বাসিন্দা তানিন সুলাইমানখাইল তাঁদের একজন৷ রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের আগ্রহ কমছিল – এ বিষয়টি উল্লেখ করে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কয়েক মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ হারিয়েছি৷ প্রচুর মানুষ বেকারত্ব বরণ করছিল৷ অবশেষে যে এ অবস্থার অবসান হতে চলেছে তা ভেবেই আমি খুশি৷''

ভোট কোনো গুরুত্বই পেল না!

তিন মাস ধরে চলল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ অথচ ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগেই নিজেদের মধ্যে আপোশ করে ফেললেন আশরাফ গনি এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ৷ এই ব্যাপারটি অনেকের ভালো লাগেনি৷ তাঁরা মনে করেন, এর ফলে তাঁরা যে কষ্ট করে ভোট দিলেন সেই ভোট কোনো মূল্য পেল না৷ এমন হতাশা নিয়েই কাবুলের হামেদ বললেন, ‘‘আমি দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম৷ কিন্তু ভোটের তো কোনো গুরুত্বই দেয়া হলো না৷ জাতীয় ঐক্যের সরকার হয়তো ভালোই হবে, তবে তাঁরা আফগানদের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়৷''

সময়ের অপচয়

অশান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশন যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেনি এ নিয়ে অনেক আফগান নাগরিকই ক্ষুব্ধ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্ত ক্ষোভ আর অসন্তোষের কথা জানাচ্ছেন তাঁরা৷ টুইটারে মোদাসের লিখেছেন, ‘‘বছরের সেরা দুই মিথ্যে: ১.আমরা জনগণের ভোটের প্রশ্নে কোনো আপোশ করবো না৷ ২. এক ঘণ্টার জন্যও আমরা কোনো প্রতারকের সরকারকে বরদাশত করবো না৷''

রামিন আনোয়ারি তাঁদের ভোটকে এমন গুরুত্বহীন হয়ে যেতে দেখেও বিস্মিত নন৷ তাঁর মতে, ‘‘নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই ‘বিজয়ী' এবং সময়ের এমন অপচয় মেনে নেয়া শুধু আফগানিস্তানেই সম্ভব৷ গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ সময় দেখছি!''

জার্মান সংস্থা কনরাড-আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান নিলস ভ্যরমার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ‘‘যে নির্বাচন হয়েছে তাকে সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ বলা মুশকিল৷ আফগানিস্তানের অনেকেই মনে করেন, নির্বাচনটাকে শুধু একটি শব্দেই বর্ণনা করা উচিত আর তা হলো – প্রহসন৷'’

নির্বাচিত প্রতিবেদন