1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আফগানিস্তানে বেআইনি গর্ভপাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

এশিয়ায় জন্মের হার সবচেয়ে বেশি যে দেশটিতে, সেই আফগানিস্তানে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখনও ট্যাবু৷ সমাজে পরিত্যাজ্য হওয়ার ভয়ে ও অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেক নারী বেআইনিভাবে গর্ভপাত করান৷

default

একটি ছবির দৃশ্য এটি

‘‘আমি গর্ভপাতের জন্য ওষুধ খেয়েছি৷'' নীচু স্বরে বলেন লিনা৷ এতে তাঁর আফসোস নেই৷ কারণ তাঁর আর কেন উপায় ছিলনা৷

‘‘আমার স্বামীকে এক হামলার অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়৷ তার আগেই আমি গর্ভধারণ করি৷'' বলেন বছর কুড়ির এই তরুণী৷

‘‘তা না হলে আমার পরিবার লজ্জায় পড়তো৷ সবাই জিজ্ঞাসা করতো, এই বাচ্চা কীভাবে হলো?''

রক্ষণশীল সমাজে টিকে থাকা

লিনা তাঁর আসল নাম নয়৷ প্রকৃত নাম প্রকাশ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়৷ আফগানিস্তানের ছোট্ট এক জায়গায় বসবাস করেন তিনি৷ সেখানকার লোকজন অত্যন্ত রক্ষণশীল৷ স্বামী ছাড়া গর্ভধারণের কোনো গুজব হলেও মুখ দেখানোর অবস্থা থাকে না পরিবারের, হতে হয় একঘরে৷

এ ক্ষেত্রে সাধারণত মেয়েরাই হন ভুক্তভোগী৷ অনিচ্ছাকৃতভাবে সন্তান গর্ভে এলে গর্ভপাত করিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চান বহু মেয়ে৷ ‘‘আমার পরিচিত অনেক মেয়েই এই কাজটি করেছে৷ ডাক্তারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে খাওয়ার পর গর্ভের বাচ্চাটি মারা যায়৷'' বলেন লিনা৷

গর্ভপাত নিষিদ্ধ

যদিও ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানে গর্ভপাত নিষিদ্ধ৷ ব্যতিক্রম হলো, যদি প্রসবকালে মায়ের জীবন বিপন্ন হওয়ার কিংবা বাচ্চাটির গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ এছাড়া গর্ভপাত করালে কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে৷ এমনকি ধর্ষণ বা ইন্সেস্ট থেকে সন্তানসম্ভবা হলেও গর্ভপাত করানো যাবে না৷ বলেন পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাট শহরের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক মালিকা পাইঘাম৷ মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে ইন্টারনাল মেডিসিনের তিন জন ডাক্তার ও একজন গাইনোকোলোজিস্ট প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পর গর্ভপাত করান৷ এছাড়া এতে ইসলামি উলামা পরিষদ ‘শুরা উলামা'-র অনুমোদনপত্রও লাগে৷

অনেক সময় কোনো উপায় থাকে না

লিনার গর্ভপাত করাও ছিল বেআইনি৷

‘‘আমি জানি গর্ভপাত হলো সন্তানকে খুন করা৷ কিন্তু আমার তখন একটাই চিন্তা ছিল৷ হয় আত্মহত্যা করতে হবে, নয়তো বাচ্চাটিকে হত্যা করতে হবে৷''

লিনার আরো তিন সন্তান রয়েছে৷ মেয়েদের কাছ থেকে বহু সন্তান আশা করা হয়, বিশেষ করে পুত্র সন্তান৷ কেননা মনে করা হয়, ভবিষ্যতে তাঁরা পরিবারের দায়িত্ব নিতে ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারে৷ আফগানিস্তানের কঠোর রক্ষণশীল সমাজে ‘জারজ' সন্তান কল্পনাও করা যায় না৷

এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে আফগানিস্তানে জন্মের হার সবচেয়ে বেশি৷ অনেক নারী কম সন্তান চাইলেও শিক্ষার অভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন না তাঁরা৷ জাতিসংঘের শিশু সাহায্য সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী ৭৯ শতাংশ মেয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করেন না৷ পরিবারকে ছোট রাখার জন্য গর্ভপাতই তাদের একমাত্র ভরসা৷

জীবনের ঝুঁকিও থাকে

অন্যদিকে গর্ভপাত বেআইনি বলে গর্ভপাতের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীদের কাছে যেতে হয় তাদের৷ এই সব ধাত্রী প্রায়ই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন৷ রক্তপাত ও জটিলতাকে আয়ত্তে আনতে পারেননা তাঁরা৷ জানান আফগানিস্তানের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র আডেলা মুবাশের৷

অনেক নারী আবার বেসরকারি হাসপাতালে যান গর্ভপাতের জন্য৷ সেখানে খরচও অনেক বেশি৷ বিয়ের আগে যে সব তরুণী অবাঞ্ছিতভাবে গর্ভধারণ করে, তাদের গর্ভপাতের জন্য এই সব হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া অনেক সময় গতি থাকে না৷ জানান এক বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি৷

অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও একটি সুষ্ঠু স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি আফগানিস্তানে৷ গত দশ বছরে মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেলেও সারা বিশ্বে এখনও তা সর্বোচ্চ৷ ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানে প্রতি দুই ঘণ্টায় একজন নারী গর্ভকালীন জটিলতার কারণে মারা যান৷

প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কর্মীর অভাব

ডক্টর্স উইদাউট বডার্সের সেভেরিন কালুভেয়ার্টস সমালোচনা করে বলেন, ‘‘আফগানিস্তানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর অভাব রয়েছে৷ পুরুষ গাইনোকোলজিস্টকে দেখাতে চান না মেয়েরা৷ অন্যদিকে নারী ডাক্তার রয়েছেন খুব কমই৷''

সেভেরিন কালুভেয়ার্টস ও তাঁর সহকর্মীরা এ ব্যাপারে শিক্ষাদানের ওপর গুরুত্ব দেন৷ ‘‘আমরা মেয়েদের স্বাস্থ্য ও জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকি৷ কেননা আমরা জানি এতে করে মা ও শিশুর জীবন রক্ষা হতে পারে৷''

আজ লিনাও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন৷ তাঁর দাবি, সমাজের এই সমস্যার ব্যাপারে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে৷ তিনি আশা করেন, ‘‘দেশের গণমাধ্যম ও ইসলামি কর্তৃপক্ষ জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আরো সোচ্চার হবেন৷ সমাজের ট্যাবুর কারণে এতো গর্ভপাত আর ঘটবে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন