1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আফগানিস্তানে নারী অধিকার আবার কি হোঁচট খাচ্ছে?

বহু সমস্যা সত্ত্বেও গত বছরগুলিতে আফগানিস্তানের মেয়েরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পেরেছেন৷ প্রশ্ন উঠতে পারে, ২০১৪ সালেও কি এই প্রবণতা বজায় থাকবে?

২০০১ সালে তালিবানদের পতনের পর আফগানিস্তানে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে৷ সংবিধানে নারী পুরুষের সমানাধিকার সংরক্ষিত হয়েছে৷ ২.৮ মিলিয়নের বেশি মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে৷ জাতীয় সংসদে প্রায় ৩০ শতাংশ সাংসদ নারী৷

কারজাই সরকার লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে৷ ২০০৯ সালে নারী নির্যাতন রোধক একটি আইন পাস হয়েছে৷ এই আইনে শুধু ধর্ষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধেই শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি৷ বাল্যবিবাহ, জোর করে বিয়ে দেওয়া, নারী ব্যবসা ইত্যাদিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়৷ কিন্তু আইন থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ৷

Afghanistan Protest gegen Gewalt an Frauen

আফগানিস্তানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদের ছবি

আইনকানুনের শ্লথ গতি

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনর নাভি পিল্লাই সমালোচনা করে বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধক আইনকানুন খুব শ্লথ গতিতে অগ্রসর হচ্ছে৷ পুলিশ, সরকারি প্রসিকিউটর, আদালত মেয়েদের রক্ষা করার জন্য সরকারি হাতিয়ারগুলি কাজে লাগানোর ব্যাপারে গড়িমসি করছে৷ অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তির চেয়ে সমঝোতার মাধ্যমে মিটমাট বা মীমাংসা করতে আগ্রহী আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ৷ বলেন ‘আফগানিস্তান অ্যানালিস্টস নেটওয়ার্ক'-এর সারি কুভো৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘সঠিক সংযোগ ও টেলিফোন নম্বর থাকলে অপরাধীরা সেই ‘ন্যায়বিচারই' পায়, যা তারা নিজেরা সঠিক বলে মনে করে৷''

দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারব্যবস্থা

বিশেষজ্ঞরা একে রাজনীতি প্রভাবিত দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারব্যবস্থা বলে অভিহিত করেন৷ সম্প্রতি সংসদে একটি আইনের খসড়া পেশ করা হয়, যাতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়৷ আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে আইনের এই খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়৷

তালেবানের পতনের পর আফগানিস্তানে নারী অধিকার সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হয়েছিল৷ কিন্তু আজও পিতৃতান্ত্রিক সমাজের ঘেরাটোপেই রয়ে গেছে দেশটি – বলেন সারি কুভো৷ তাঁর কথায়, ‘‘মেয়েদের যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে বাবা কিংবা স্বামীর ওপর নির্ভর করতে হয়৷''

জাতিসংঘের নারী সংস্থা ‘ইউএন উইমেন'এর নির্বাহী পরিচালক ফুমজিলে ম্লামবো এনচুকা-ও মনে করেন, আফগানিস্তানের নারীরা শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছেন৷ বৈষম্যমূলক সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এর মূল কারণ৷ তাঁর মতে, ৯০ শতাংশ আফগান নারী সহিংসতার শিকার৷ সহিংসতা বলতে শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক ক্ষেত্রে সব ধরনের দমনমূলক কর্মকাণ্ডই বোঝায়৷ ইদানীং উচ্চপদস্থ নারী-সরকারি কর্মচারীদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে৷

অগ্রগতি বিনষ্ট হতে পারে

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ‘‘গত কয়েক বছরের অগ্রগতি আইনকানুন ও রাজনীতির ফাঁকফোকরে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে৷'' বলেন সারি কুভো৷ আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার করা হলে এই সম্ভাবনা আরো বেড়ে যেতে পারে৷ সেনাবাহিনীর একটা অংশ ছোট আকারে প্রশিক্ষণকারী হিসাবে থাকবে কিনা, উন্নয়ন সাহায্যই বা কী ভাবে চলবে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়৷

কারজাই পরবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তালিবান তাদের হামলা আরো তীব্র করবে কিনা সেটাও দেখার বিষয়৷ নারী অধিকারের বিষয়টিতে নতুন সরকারের ভূমিকা কীরকম হবে, সেটাও অস্পষ্ট৷

সারি কুভো মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত হবে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আফগানিস্তানের নতুন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়