1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

আফগানিস্তানের শিক্ষাজগত – এক দশকে বিরাট সাফল্য

পাশ্চাত্যের দেশগুলির সহযোগিতায় আফগানিস্তানের শিক্ষাবিভাগ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে জার্মানির অংশগ্রহণে এক্ষেত্রে অনেক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে৷ আশা, এই ধরনের সহায়তা আগামী দশ বছরেও অব্যাহত থাকবে৷

‘‘২০০১ সালে আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০০০৷ ছিলেন না কোনো ছাত্রী৷ বর্তমানে ২৬টি সরকারি ইউনিভার্সিটিতে ৮০.০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন৷ এক দশকের মধ্যে এটা একটা বিরাট প্রসার৷'' বলেন জার্মান ছাত্র বিনিময় কর্মসূচি ডিএএডির আলেক্সান্ডার কুপ্ফার৷ আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় সেক্টরকে পুনর্গঠনের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি৷

ঐতিহাসিক ও সামাজিক পরিবর্তন

অবশ্য কুপ্ফার অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন৷ তাঁর মতে, এখন আফগানিস্তানে ঐতিহাসিক ও সামাজিক দিক দিয়ে এক বিরাট পরিবর্তন শুরু হয়েছে৷ ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করা চলে একে৷ তবে কয়েক বছরের মধ্যে আফগানিস্তান উন্নয়নের দিক দিয়ে ইউরোপের সমমানের হয়ে উঠবে, এই আশা একেবারে অবাস্তব৷ এই জন্য কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে৷''

আগামী দশ বছরে যা সম্ভব হতে পারে তা হলো, ‘‘শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও উন্নতমানের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি চালু করা৷ ব্যাচেলর কোর্সের জন্য আরো মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক প্রয়োজন৷ আর মাস্টার্স কোর্সের জন্য দরকার ডক্টরেট ডিগ্রিধারী শিক্ষক৷ আগামী দশ বছরের মধ্যে এই লক্ষ্যের অনেকটাই পূরণ হওয়া সম্ভব৷'' বলেন ডিএএডির কুপ্ফার৷

এই পর্যন্ত ডিএএডির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩০০০ আফগানকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ আরো ৩০০০ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীকে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷

জার্মানির সহায়তায় বহু কিছু অর্জিত হয়েছে

আফগান বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আসিম নূরবখশ ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘‘গত ১২ বছরে বন্ধুপ্রতীম জার্মানির সহায়তায় শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে৷'' তাঁর ইচ্ছা ভবিষ্যতে আরো শিক্ষার্থীকে জার্মানিতে ডক্টরেট করার সুযোগ দেওয়া হোক৷ যাতে তাঁরা স্বদেশে ফিরে গিয়ে শিক্ষকতা করতে পারেন৷

আফগানিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে ‘করেসপন্ডেন্স কোর্স' চালু করার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে৷ আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে৷ এতজনকে জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির নেই৷ ২০১২ সালে ১৪০,০০০ আবেদনকারী ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেন৷ কিন্তু মাত্র ৪১,০০০ জনকে ভর্তি করা হয়৷ করেসপন্ডেন্স কোর্স চালু হলে এই সমস্যার কিছুটা সুরাহা হবে৷

জনসাধারণের অর্ধেকই শিশু কিশোর

আফগান জনসাধারণের ৫০ শতাংশ ১৫ বছর ও তারও কম৷ স্কুল শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ছুটবে৷ তাদের সংখ্যাটা প্রতি বছরই বাড়ছে৷ সেই সময়ের জন্য এখনই প্রস্তুত হতে হবে৷ বলেন কুপ্ফার৷ তাঁর মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যবোধের পরিবর্তন করা উচিত৷ জার্মানির মতো আফগানিস্তানেও সামাজিক দিক দিয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পেশার দিকে ঝুঁকতে চায় অনেকে৷ আর এই কারণে ডাক্তারি পড়ার জন্য ভিড় বাড়তে থাকে৷ কিন্তু নার্সিং-এর মতো সেবামূলক পেশাগুলিকে উপেক্ষা করা হয়৷ যেখানে এক্ষেত্রে কর্মীর অভাব প্রকট৷

জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জিআইজেড আফগানিস্তানে পেশাগত দিকটা দেখাশোনা করছে৷ কাবুলে কর্মরত সংস্থার মুখপাত্র গুস্টাফ রাইয়ারও মনে করেন, আফগানিস্তান অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠে সামনের দিকে বিরাট পদক্ষেপ দিয়েছে৷

তাঁর ভাষায়, ‘‘আমরা কিছুদিন আগে আমাদের কর্মসূচির অন্তর্গত ৫০টি পেশামূলক স্কুল পর্যবেক্ষণ করেছি৷ বিস্ময়ের সাথে অনেক নতুন স্কুল কিংবা নির্মীয়মান স্কুলভবন লক্ষ্য করেছি৷ যেগুলির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই৷''

তালিবানদের ব্যাপারে আশঙ্কা তেমন বড় নয়

এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও তালিবানের উত্থানের সম্ভাবনাও এসে যায়৷ রাইয়ার অবশ্য এ ব্যাপারে তেমন উদ্বিগ্ন নন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখানে জার্মান সেনাবাহিনী আসার আগে থেকেই কাজ করছি৷ আশা করি ২০১৪ সালের পরও এখানে কাজ করতে পারবো৷''

নারীশিক্ষা ও নারী উন্নয়নের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি৷ তালিবান জঙ্গিদের আমলের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে আসবে না বলে মনে করেন জার্মান এই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ৷ জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে৷ গত ৩০ বছরে যা হারিয়েছে, সেটা এখন অনুভব করছেন তাঁরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন