1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আপিলে সাজা কমিয়ে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে বুধবার৷ তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷

Delwar Hossain Sayedee kriegsverbrechen Todesurteil Bangladesch

(ফাইল ফটো)

যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের এই রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম৷ এছাড়া রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভরত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। পুলিশের ছোড়া কাঁদুনে গ্যাস ও গরম জলে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে৷

ওদিকে, সাঈদীর আপিলে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতি ও রবিবার সারা দেশে মোট ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী, যে দলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ পাঁচ মাস অপেক্ষমান থাকার পর, আপিল বিভাগের বুধবারের কার্যতালিকায় রায়ের বিষয়টি এক নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন৷ বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন – বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী৷ এটি হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের দ্বিতীয় রায়৷

‘সাঈদীর প্রাপ্য মৃত্যুদণ্ড’

এর আগে সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তির আশা ব্যক্ত করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম৷ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড আশা করে৷ ট্রাইব্যুনাল যেসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আপিল বিভাগও সেসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে৷ এছাড়া অন্য অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে৷

এ মামলায় রিভিউ-এর সুযোগ আছে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি আগে থেকেই বলে এসেছি যে এটা বিশেষ আইন৷ এ আইনে রিভিউ-এর সুযোগ নেই৷ কাদের মোল্লার মামলায় আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন দায়ের করেছিল৷ আপিল বিভাগ ওই আবেদন শুনানি শেষে খারিজ করে দেয়৷ ফলে রিভিউ করার সুযোগ নেই৷ তারপরও ঐ রায়ের কপি আমি এখনো পাইনি৷ কপি পাওয়া গেলে বোঝা যাবে এ মামলায় রিভিউ করা যাবে কিনা৷''

‘সাঈদী খালাস পাবেন’

অন্যদিকে সাঈদী বেকসুর খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘এ মামলা নিয়ে সারা দুনিয়ার আগ্রহ রয়েছে৷ এ মামলাতেই স্কাইপ কেলেঙ্কারি ও সাক্ষী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে৷ ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালী হত্যা মামলায় সাঈদী আসামী ছিলেন না৷ এত সব বিষয়ের পর আমরা আশা করছি যে, সুপ্রিম কোর্ট ন্যায় বিচার করবে এবং সাঈদী খালাস পাবেন৷''

সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমার বাবা নির্দোষ৷ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি৷''

উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১৷ সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার দু'টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল৷ আরো ছয়টি অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলেও দু'টি অভিযোগে ফাঁসির আদেশ হওয়ায়, সেগুলোতে কোনো দণ্ড দেয়নি ট্রাইব্যুনাল৷ এ রায়ের পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে৷ ওই সহিংসতায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়৷

কে এই দেলাওয়ার শিকদার?

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর ২৮শে মার্চ আপিল করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী৷ অন্যদিকে দোষি প্রমাণিত হলেও সাজা না হওয়া ছয় অভিযোগে তাঁর শাস্তি চেয়ে আপিল করে সরকারপক্ষ৷ গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়৷ ৪৯ কার্যদিবস শুনানিতে আসামিপক্ষে মূল শুনানি করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান৷ অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম৷ এ মামলার শুনানিতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং দেলাওয়ার শিকদার এক ব্যক্তি কিনা – সে প্রশ্ন বারবার উত্থাপিত হয়েছে৷ আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং দেলাওয়ার শিকদার আলাদা ব্যক্তি৷ তাঁদের পিতার নামও আলাদা৷ রাষ্ট্রপক্ষ একটি ডকুমেন্টও হাজির করতে পারেনি যেখানে শিকদার পরিবর্তন করে সাঈদী যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে৷ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, দেলাওয়ার শিকদার এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একই ব্যক্তি৷ সাক্ষীরা কোথাও বলেনি যে দেলাওয়ার শিকদার এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আলাদা ব্যক্তি৷ এরপর গত ১৬ই এপ্রিল চূড়ান্ত শুনানি শেষে সাঈদীর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে আপিল বিভাগ৷

প্রেক্ষাপট

এর আগে যুদ্ধাপরাধের একটি মামলা আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছিল৷ ওই রায় অনুযায়ী জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর৷ মারা যাওয়ার কারণে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলিমের মামলাটির ইতি টেনেছে আপিল বিভাগ৷ জামায়াতের আরেক নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিল শুনানি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে৷ এছাড়া শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলাটি৷ দু'টি ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের নয়টি মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে৷ জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীসহ পাঁচ জনের মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়