1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

আপনি কি স্মার্টফোন আসক্ত?

স্মার্টফোন ব্যবহার কি আজকাল আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে? জার্মান বিজ্ঞানীরা কিন্তু তেমনটাই ভাবতে শুরু করেছেন৷ বিষয়টি নিয়ে তাই শুরু হয়েছে গবেষণা৷ আর এই গবেষণায় সহায়তা করছে একটি অ্যাপ৷

ভিডিও দেখুন 04:12

গবেষণার সাহায্যে অ্যাপ

মানুষের অপরিহার্য সঙ্গী হয়ে উঠছে স্মার্টফোন৷ সবসময় সবার সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চান তাঁরা৷ একইসঙ্গে ফেসবুক দেখা, ই-মেল চেক কিংবা গেম খেলার মতো ব্যাপারতো রয়েছেই৷ এজন্য অনেকে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ বার ফোন চালু করেন৷ অনেকটা মোবাইল আসক্তির ব্যাপার৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘মেন্থল' নামের একটি স্মার্টফোন অ্যাপ প্রকাশ করেছেন৷ এই অ্যাপ একজন মানুষের স্মার্টফোন ব্যবহারের হিসেব রাখে৷ কতবার ফোন আনলক করা হয়েছে, কোন কোন অ্যাপস কতক্ষণ ব্যবহার হয়েছে এমন সব তথ্য৷ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা যেন আসক্ত হয়ে না পড়েন সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এটা৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক আলেক্সান্ডার মার্কোভেৎস এই বিষয়ে বলেন, ‘‘অ্যাপটি স্মার্টফোন ব্যবহারের নানা তথ্য সংগ্রহ করে৷ কখন ফোনটি খোলা হয়েছে, কোন অ্যাপ কখন চালু করা হয়েছে – এসব তথ্য সেটি আমাদের সার্ভারে পাঠায়৷ আমরা এগুলো পর্যালোচনা করি৷ কোন অ্যাপ কতবার ব্যবহার হয়েছে তাও জানা যায়৷ ফোন ব্যবহারকারীকেও এসব তথ্য জানানো হয়৷''

অ্যাপ জানাচ্ছে আসক্তির কথা

প্রায় এক লাখের বেশি মানুষ অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন৷ তারা একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণারও অংশ হয়ে গেছেন৷ স্মার্টফোন আসলে কোন কাজে লাগে, তা অ্যাপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা৷

অধ্যাপক মার্কোভেৎস এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দিনে তিন ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয়৷ আরো লক্ষ্যণীয় হচ্ছে, ফোনের সঙ্গে ব্যবহারকারীর গড় ‘ইন্টাব়্যাকশন' হয় ১৩০ বার৷ অর্থাৎ প্রতি সাড়ে সাত মিনিটে একবার ফোনের বোতামে হাত রাখেন একজন ব্যবহারকারী৷''

স্মার্টফোনের এমন ব্যবহার কর্মক্ষেত্রের জন্যও ক্ষতিকর৷ বিশেষ করে এর ফলে মানুষের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে৷ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্মার্টফোন আসক্তি' বলে এখনো কিছু নেই৷ তবুও গবেষকরা, এভাবে স্মার্টফোন ব্যবহারকে একধরনের আসক্তি হিসেবেই বিবেচনা করছেন৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. ক্রিস্টিন মোনটাগ বলেন, ‘‘আসলে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতায় আসক্তির একটি ব্যাপার লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ সহনশীলতার মাত্রা বাড়ছে৷ সন্তুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ফোন ব্যবহারের পরিমাণও বাড়ছে৷ নতুন আইফোন ভালো লাগায় আজ হয়ত এক ঘণ্টা ব্যবহার করা হলো, কিন্তু কাল সেটা বেড়ে দু'ঘণ্টা কিংবা তিন ঘণ্টা হয়ে যায়৷ এক পর্যায়ে ফোন ছাড়া থাকাটা আতঙ্কের মনে হয়৷''

তিনি বলেন, হয়ত কেউ বাড়িতে ভুল করে ফোন রেখে বাইরে গেল৷ কিন্তু ফোনের কথা মনে আসায় আবার ফিরে আসলো ফোনটি নিতে৷ কেননা ফোন ছাড়া নিজেকে গোটা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন তাঁরা৷ মনে হয়, হায় খোদা, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবো না, ফেসবুক আপডেট দেখতে পারবো না৷''

আসক্তির সঙ্গে জিনের সম্পর্ক

যে-কোনো ধরনের আসক্তির সঙ্গে জিনের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন গবেষকরা৷ কোষ গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা বোঝার চেষ্টা করেন ঠিক কোন ধরনের জিনের সঙ্গে আসক্তির সম্পর্ক রয়েছে৷ ড. মোনটাগ বলেন, ‘‘আমরা গবেষণায় এক ধরনের জিন পেয়েছি যেটি ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেটির সঙ্গে ইন্টারনেট আসক্তিরও সম্পর্ক রয়েছে৷ এভাবে আমরা বিভিন্ন আসক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত জিন নিয়ে গবেষণা করতে পারছি৷''

গবেষকরা ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে সম্ভবত স্মার্টফোন আসক্তিকেও স্বীকৃতি দেয়া হবে এবং এই আসক্তি দূর করার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে৷ মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর৷

আসক্তি দূরের উপায়

‘মোবাইল আসক্তি' থেকে দূরে থাকতে অধ্যাপক মার্কোভেৎসের এই ডিজিটাল ডায়েটটি অনুসরণ করা যেতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথম কথা হচ্ছে, সোফায় শুয়ে ক্লিক করার দরকার নেই৷ আমি শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ফোন ব্যবহার করি৷ অথবা আমি আমার ব্যবহার সংযত করি৷ যেমন সন্ধ্যা সাতটার পর কোনো কিছু নয়৷ সপ্তাহে একদিন কিছু করবো না৷

তিনি বলেন, ‘‘আরেকটি পরামর্শ সবার জন্য: দয়া করে একটি হাতঘড়ি কিনুন৷ কেননা সময় দেখতে গিয়ে অনেকে স্মার্টফোন চালু করেন এবং এরপর অন্যদিকে যান৷ আমি যদি এমন অ্যাপের ব্যবহার কমাতে পারি তাহলে সেটা সহায়ক হবে৷''

‘মেন্থল' অ্যাপ ব্যবহার করে আপনিও আপনার ফোন ব্যবহারের প্রবণতা যাচাই করতে পারেন৷ উদ্বেগজনক পর্যায়ে গেলে সতর্ক হোন৷

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়