1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের কাজে অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন আইএসএস মানবজাতির পারস্পরিক সহযোগিতার এক অভিনব উদাহরণ৷ বিশ্বের ১৬টি দেশের সহযোগিতার ভিত্তিতে তিলে তিলে গড়ে উঠছে এই কাঠামো৷ অসংখ্য মহাকাশচারী ইতিমধ্যেই ঘুরে গেছেন এই স্টেশন, রেখেছেন তাঁদের অবদান৷

default

মানব জাতির অসাধারণ সৃষ্টি এই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন

Astronauten auf der ISS

আইএসএস’এর বাইরে কর্মরত মহাকাশচারীরা

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস-এ পৃথিবী থেকে পালা করে মহাকাশচারীরা যান, সেখানে কিছুদিন কাটিয়ে আবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসেন৷ যে কোন সময়েই ৬ জন মহাকাশচারী সেখানে বসবাস করতে পারেন৷ তাঁদের মূল্যবান সময় যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য আগে থেকেই তাঁদের কাজকর্ম স্থির করা থাকে৷ কেউ গবেষণাগারে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান৷ কেউ পৃথিবী থেকে আনা কোন যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ স্পেস স্টেশনে যুক্ত করেন৷ কেউ বা রক্ষণাবেক্ষণের অন্যান্য কাজ করেন৷

Astronauten auf der ISS

আইএসএস’এর ভিতরে মহাকাশচারীরা

পরিবহন সঙ্কট

বিশাল এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় উন্নতির কাজ চালিয়ে যাওয়া, একের পর এক অংশ যুক্ত করা – এসব মোটেই সহজ কাজ নয়৷ মূলত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযানগুলিই স্পেস স্টেশনে মানুষ ও পণ্য পরিবহন করে আসছে৷ কিন্তু মার্কিন মহাকাশফেরি প্রকল্পের আয়ু প্রায় শেষ হয়ে আসায় দেখা দিচ্ছে নতুন সঙ্কট৷ মাত্র ৩টি মহাকাশফেরি এখনো চালু অবস্থায় রয়েছে৷ ‘এন্ডেভার'এর সাম্প্রতিক অভিযানের পর আর মাত্র ৪ বার কোন মার্কিন মহাকাশফেরি আইএসএস'এর দোরগোড়ায় আসবে৷ আগামী ১৮ই মার্চ ‘ডিসকভারি'র এক অভিযান শুরু হওয়ার কথা৷ ফলে ভবিষ্যতে মূলত রাশিয়ার মহাকাশযানগুলির উপরেই নির্ভর করতে হবে৷ তবে আকারে ছোট হওয়ায় বড় মাপের পণ্য পরিবহনে তেমন উপযুক্ত নয় রাশিয়ার যানগুলি৷

BdT Spaceshuttle Endeavour wartet

‘এন্ডেভার' সহ ৩টি মার্কিন মহাকাশফেরির আয়ু শেষ হলে পরিবহনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেবে৷

স্পেস স্টেশনের বিন্যাস

আইএসএস বিভিন্ন মডিউল বা অংশে বিভক্ত৷ এর মধ্যে ‘ট্র্যাঙ্কুইলিটি' বা শান্তির আবাস নামের মডিউলটি পৃথিবীর দিকে মুখ করে রয়েছে৷ ইটালিতে তৈরি করা হয়েছিল এই অংশ৷ আচমকা শরীর খারাপ লাগলে চিকিৎসার জন্য লাইফ সাপোর্ট যন্ত্রপাতি রয়েছে এই অংশের মধ্যে৷ রয়েছে ব্যায়াম করার ব্যবস্থা এবং একটি শৌচাগার৷ সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশফেরি ‘এন্ডেভার'এর মহাকাশচারীরা স্পেস স্টেশনের এই অংশে বেশ কিছু রদবদল করলেন৷ এছাড়া নানারকম তার বদলে রক্ষণাবেক্ষণের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাজও শেষ করলেন তাঁরা৷

Eine künstlerische Interpretation von der Tranquility genannte Verbindungsknoten Nr. 3

‘ট্র্যাঙ্কুইলিটি'র নতুন ৭ জানালার গম্বুজ

সেখানে তাঁরা বসালেন গম্বুজের মত এক অংশ, যার ৭টি জানালার সামনে বসলে পৃথিবীর অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়৷ প্রত্যেকটি জানালার আলাদা শাটার রয়েছে – চাইলেই বন্ধ করে দেওয়া যায়৷ কোন মহাকাশযান স্পেস স্টেশনে এলে সেটিকেও দূর থেকে দেখা যাবে এই সব জানালার সামনে বসলে৷ যে কোন সময় দুজন মহাকাশচারী ইচ্ছে করলে এই বিশাল গম্বুজের মধ্যে ভেসে বেড়াতে পারেন৷ জানালাগুলি দিয়ে তাঁরা প্রায় যে কোন দিকের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন৷ একদিকে শোভা পাচ্ছে পৃথিবী – বাকি সব দিকে মহাকাশের অতল গহ্বর৷ অসাধারণ সেই অভিজ্ঞতা৷ এই জানালা বসানোর কাজ মোটেই সহজ ছিল না৷ দু-দুবার মহাশূন্যে বেরিয়ে এই কঠিন কাজ সারতে হয়েছে৷ স্পেস স্টেশনের ‘ডেস্টিনি' নামের গবেষণাগারে ‘কানাডা-আর্ম ২' নামের রোবোট হাত এই কাজে সাহায্য করেছে৷

Eine künstlerische Interpretation von der Tranquility genannte Verbindungsknoten Nummer 3

বাইরে থেকে ‘ট্র্যাঙ্কুইলিটি'র দৃশ্য

সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ

এন্ডেভারের এবারের অভিযানে আরও কিছু কাজ সারতে হয়েছে৷ যেমন স্পেস স্টেশনে দুর্লভ জল পরিশোধন করে তা বার বার ব্যবহার করার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার কিছু যন্ত্রাংশ বাতিল করে নতুন যন্ত্রাংশ বসাতে হয়েছে৷ ‘ট্র্যাঙ্কুইলিটি' মডিউলের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ থার্মাল চাদর মুড়ে দেওয়া হয়েছে৷ কোন মহাকাশযান যাতে সরাসরি ‘ট্র্যাঙ্কুইলিটি'র সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তা সম্ভব করতে বসানো হয়েছে ডকিং পোর্ট৷ নতুন এই বাসস্থানে প্রবেশ করতে যাতে সুবিধা হয়, তার জন্য বসানো হয়েছে বিশেষ হাতল৷

‘এন্ডেভার'এর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে আইএসএস প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হল৷ গোটা প্রকল্পের মূল্য প্রায় ১০,০০০ কোটি ডলার – যার সিংহভাগই এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে৷ কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মহাকাশ সংস্থা নাসা'র এবারের বাজেটে বেশ কিছু কাটছাঁট করেছেন৷ বেসরকারী উদ্যোগে বাণিজ্যিক বিকল্প খোঁজার প্রস্তাব রেখেছে ওবামা প্রশাসন৷ তবে কাটছাঁট সত্ত্বেও ২০১৫ সাল থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই স্পেস স্টেশন চালু রাখা যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু একবার এমন এক বিশাল ও অভিনব সুযোগ ভোগ করার পর মানবজাতি কি আবার পিছিয়ে পড়ার মত বোকামি করতে পারে?

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়