1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের এক দশক পূর্তি

গত ১০ বছর ধরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উপরে মহাকাশের সীমানায় বিরাজ করছে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন৷ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে ভাসমান এই গবেষণাগার৷

default

মানবজাতির সব সাফল্যের মত স্পেস স্টেশনও প্রথম দিকে জনমানসে যে আগ্রহের সৃষ্টি করত, আজ তা অনেক কমে গেছে৷ অথচ ২০০০ সালের ২রা নভেম্বর যখন মহাকাশে মানুষের এই স্থায়ী আস্তানা চালু হলো, তখন বিস্ময় যেন কাটছিল না৷ শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে বিশ্বের সব মহাকাশ শক্তি একযোগে কাজ করলে কী ফল পাওয়া যায়, তারও প্রথম দৃষ্টান্ত দেখা গেল৷ ১৫টি দেশ মিলে তিলে তিলে তৈরি করেছে স্পেস স্টেশন৷ তবে প্রকল্পের প্রথম সারিতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও ক্যানাডার মহাকাশ সংস্থাগুলি৷ শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই রুশ-মার্কিন সহযোগিতার দ্রুত ফল দেখতে পেয়েছিল গোটা বিশ্ব৷ সেদিন রুশ মহাকাশচারী ইউরি গিডজেঙ্কো ও সের্গেই ক্রিকালেভ এবং মার্কিন মহাকাশচারী বিল শেপার্ড পাশাপাশি ভাসতে ভাসতে স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করেছিলেন৷ বিগত এক দশকে প্রায় ২০০ মহাকাশচারী এই স্টেশনে থেকে গেছেন এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আওতার বাইরে ৬০০রও বেশি পরীক্ষা চালিয়েছেন৷ গত বছর থেকে স্টেশনে স্থায়ীভাবে ৬ জন থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷

মঙ্গলবার দশম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্পেস স্টেশনেও ছোটখাটো এক উৎসব হয়ে গেল৷ সেসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৩ মার্কিন ও ৩ রুশ মহাকাশচারী৷ সেদিন ছিল বিশেষ ভূরিভোজের আয়োজন৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা'র প্রধান চার্লস বোল্ডেন তাঁদের শুভেচ্ছা বার্তা শোনান৷ তিনি বলেন, স্টেশনের দ্বিতীয় দশকে এই স্টেশনকে ভিত্তি করে আমরা মহাকাশের আরও গভীরে পৌঁছতে পারবো৷ স্পেস স্টেশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষ মঙ্গলগ্রহ ও আরও দূরে যাবার শিক্ষা অর্জন করছে৷ নাসা'র আইএসএস প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান মাইক সাফ্রেডিনি বলেন, মানবজাতি এর আগে সম্ভবত এত দুরূহ কাজ করতে পারে নি৷

Europäisches ISS-Labor Columbus bereit zur Übergabe Titel

জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত স্পেস স্টেশন গড়ে তোলার কাজ কিন্তু শেষ হয় নি৷ আসলে একটি করে মডিউল বা অংশ পৃথিবী থেকে নিয়ে এসে মহাকাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে এই পরিকাঠামো৷ প্রতিনিয়ত তাতে যোগ করা হচ্ছে নতুন কোনো অংশ, বা বদলানো হচ্ছে পুরানো কোনো অংশবিশেষ৷ বর্তমানে গোটা স্টেশনের আয়তন প্রায় এক ফুটবল মাঠের মতো৷ তবে মহাকাশচারীদের থাকার জায়গা অনেকটা ৫টি ঘরের এক ছোট বাড়ির মতো৷ আগামী বছর এই নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা৷

এতকাল মার্কিন ‘স্পেস শাটল' বা মহাকাশফেরী ভারি বস্তুগুলি স্পেস স্টেশনে নিয়ে আসতো৷ সপ্তাহান্তে স্পেস শাটল ‘ডিসকভারি'র এক অভিযানে স্পেস স্টেশনে যোগ হবে নতুন একটি ঘর, যা তৈরি করেছে ইটালির মহাকাশ সংস্থা৷ এতকাল এই অংশটিকে পরিবহনের কাজে লাগানো হত৷ এখন এটি একটি স্থায়ী ঘর হিসেবে স্টেশনের অংশ হয়ে উঠবে৷ আগামী বছর স্পেস শাটল কর্মসূচি চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিবহন একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে৷ স্পেস স্টেশনে যাতায়াতের জন্য অবশ্য মহাকাশচারীরা রাশিয়ার অপেক্ষাকৃত ছোট অথচ নির্ভরযোগ্য ‘সোয়ুজ' মহাকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন৷

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি এত বড় কর্মকাণ্ড চালু রাখার আর্থিক ব্যয়ভার ও ব্যবস্থাপনার দিকটিও ফেলনা নয়৷ বিশেষ করে দুনিয়াজুড়ে সরকারি স্তরে বর্তমানে ব্যয় কমানোর যে উদ্যোগ চলছে, তার কোপ মহাকাশ অভিযানের উপর পড়া অত্যন্ত স্বাভাবিক৷ মার্কিন প্রশাসনও এমন অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস আপাতত ২০২০ সাল – অর্থাৎ আরও এক দশকের জন্য আইএসএস প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা দেবার অঙ্গীকার করেছে৷ এর আগে ২০১৫ সালেই এই সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল৷ এই অনিশ্চয়তা কেটে যাবার ফলে স্পেস স্টেশনে আরও নতুন পরীক্ষা চালানোর পথ প্রশস্ত হয়ে গেল৷ তবে বিশাল ব্যয়ভারের কারণে গোটা প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বার বার যে প্রশ্ন ওঠে, তা বন্ধ হয়ে যাবে – এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই৷

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে শুধু মহাকাশচারী নয়, ঘুরে গেছেন ৭ জন পর্যটকও৷ এমন এক বিরল অভিজ্ঞতার জন্য অবশ্য পকেট থেকে ২ কোটি ডলার বেরিয়ে যায়৷ দৈনিক ব্যয় সম্পর্কে কিছু তথ্যই একটা সার্বিক ধারণা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট৷ আসলে যে কজন মানুষই থাকুক না কেন, গোটা বছর ধরে পৃথিবীর বুক থেকে ৩৫০ কিলোমিটার উপরে তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানো বড় একটা চ্যালেঞ্জ৷ খাদ্য, পানীয়, জামাকাপড় থেকে শুরু করে সব রসদই আসে পৃথিবী থেকে৷ টয়লেট-বাথরুমের জন্য জলের সরবরাহ ও বর্জ্য পদার্থ দূর করাও জটিল এক প্রক্রিয়া৷ জনপ্রতি খাবার খরচ দৈনিক প্রায় ৩৫০ ইউরো৷ সপ্তাহে ৭ দিন একই খাবার খেতে হয়৷ পাঁউরুটি নিষিদ্ধ, কারণ তার গুঁড়ো স্টেশনের পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে৷ তবে গত ১০ বছরে এই স্টেশন যথেষ্ট বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক