1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বার্ষিকী

গত ৮ই মার্চ পালিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বার্ষিকী৷ ১৯১১ সালের ৮ই মার্চ থেকেই নিয়মিত পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ গত একশ বছরে কী পেয়েছে নারী, কতদূর এগিয়ে গেছে নারী? আর কীই বা বাকি রয়েছে?

default

নারী দিবসে প্রতিটি দেশে ব়্যালি বের করা হয়

শুরুটা হয়েছিল ঠিক এভাবে৷ নারীদের ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু নারী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ১৯০০ সালে অ্যামেরিকায়৷ প্রতি বছরই কোন একটি সময়ে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হতে থাকে৷ এরপর ১৯০৮ সালে প্রায় পনেরো হাজার মহিলা নিউ ইয়র্ক সিটিতে মিছিল বের করেন৷ দাবি ছিল কাজের নির্দিষ্ট সময় স্থির করা, বেতন বাড়ানো এবং ভোটাধিকার৷ এরপর ১৯০৯ সালে অ্যামেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি ২৮শে ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ওমেন'স ডে অর্থাৎ জাতীয় নারী দিবস নামে একটি দিন ধার্য করে৷

১৯১০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে মহিলাদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷ জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক দলের ক্লারা সেটকিন সর্বপ্রথম প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের কথা বলেন৷ কীভাবে তা পালন করা যেতে পারে, তাও বিশদভাবে উপস্থিত সকলে বুঝিয়ে দেন৷ সেই সম্মেলনে মাত্র ১৭টি দেশ থেকে প্রায় দেড়শ জন মহিলা উপস্থিত ছিলেন৷ এরা সবাই কোন না কোনভাবে বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, জড়িত বা তার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন৷ তখন সাদরে গ্রহণ করা হয় ক্লারা সেটকিনের প্রস্তাব৷ ১৯১১ সালে প্রথম বারের মত আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়৷

Afrika Burn Festival in Südafrika

নারী স্বাধীনতা

এরপর আসলো বহু প্রতীক্ষিত ১৯১১ সালের মার্চ মাস৷ তখনও তারিখ ঠিক করা হয়নি৷ প্রথমবারের মত অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড ১৯শে মার্চ পালন করে আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ প্রতিটি দেশে ব়্যালি বের করা হয়৷ তাতে অংশগ্রহণ করে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ৷

১৯১৩ এবং ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে রাশিয়া ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে৷ ১৯১৩ সালে আলোচনার মাধ্যমে ৮ই মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্থির করা হয়৷ এরপর থেকে ৮ই মার্চের অর্থ হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন,‘‘আমি এখনো সাবেক পূর্ব জার্মানিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের কথা মনে করতে পারি৷ তখনো নারীদের সব ক্ষেত্রে পূর্ণ অধিকার ছিল না৷ যদিও সবাই কাজ করতো৷ বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের দেখাই যেত না৷ আমরা বাচ্চারা এই দিনে মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতাম৷ পৃথিবীর অনেক দেশে মহিলাদের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল না৷ বাইরে একা যাওয়ার অনুমতি এরা কেউ পেত না৷ কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও এদের ছিল না৷ কেউ যদি কাজ করতে যেত, তাহলে সঙ্গে একজন পুরুষ থাকতে হতো৷ সেকারণেই আমাদের সবার জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ বিশ্বায়নের এই যুগে কোনো মহিলা পিছিয়ে থাকতে পারে না, থাকবে না৷ যার যে অধিকার প্রাপ্য, তা তাকে দিতে হবে৷ আর একারণেই আমাদের উচিত দুস্থ এসব মহিলার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া৷''

আজ একশ বছর পরে শুধু হাতে গোনা কয়েকটি দেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজেরবাইজান, বেলারুশ, বুর্কিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চীন, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কির্গিজিস্তান, লাওস, মাদাগাস্কার, মোলদাভিয়া, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, নেপাল, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, এবং জাম্বিয়ায় ৮ই মার্চ সরকারি ছুটি৷ এর মধ্যে নেপাল, চীন এবং মাদাগাস্কারে শুধু মহিলারা ছুটি পান৷

শুরু হয়েছে নতুন একটি শতাব্দী৷ যদি একশো বছর আগে দৃষ্টি ফেরানো যায়, তাহলে বলতেই হবে পরিবর্তন হয়েছে লক্ষ্য করার মত৷ যেখানে নারীদের ভোটাধিকার পর্যন্ত ছিল না সেখানে আজ বেশ কিছু দেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে নারীরা৷ বেশ সাফল্যের সঙ্গেই তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছেন৷ কেউ প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, কেউ বা প্রধানমন্ত্রী৷ ফার্স্ট লেডিরাও আজ আর পিছিয়ে নেই৷ এদের সবাইকে সাহস যুগিয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন