আনোয়ার ইব্রাহিম – কয়েদি থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী | বিশ্ব | DW | 17.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মালয়েশিয়া

আনোয়ার ইব্রাহিম – কয়েদি থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী

তিনি মালয়েশিয়ার দীর্ঘ সময়ের বিরোধী নেতা৷ বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন৷ তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও অবশেষে রাজনীতির শিখরে প্রত্যাবর্তন বিরোধীদের আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে, জুগিয়েছে এগিয়ে চলার খোরাক৷

মুক্তিলাভের পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমার জীবনের ট্যাগলাইন হতে পারে ‘কারাগার থেকে প্রাসাদে'৷

মালয়েশিয়ার রাজা পঞ্চম মুহম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুয়ালালামপুরেনিজের বাড়িতে ফিরেছেন ইব্রাহিম৷ ২০১৫ সালে তাঁকে যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তা থেকে রাজা প্রবীণ নেতাকে মুক্তি দিয়েছেন৷ ইব্রাহিমের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷

৭০ বছর বয়সি ইব্রাহিমের ‘পিপলস জাস্টিস পার্টি' ক্ষমতায় আসা চারদলীয় জোট ‘কোয়ালিশন অফ হোপ'-এর শরিক৷ প্রাক্তন এক সতীর্থের সঙ্গে যৌন সংসর্গের দায়ে ২০১৫ সালে ইব্রাহিমকে পাঁচ বছরের কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়৷ মালয়েশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী, মুক্তি পাওয়ার পাঁচ বছর পর্যন্ত কেউ প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না, যদি না রাজা তাঁকে মার্জনা করেন৷ এই পরিস্থিতিতে তিন বছর আগে সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিমের রাজনৈতিক ভবিষ্যত সবদিক থেকেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল৷

তবে মালয়েশিয়ার রাজনীতি সর্বদাই চমকে ভরা৷ ইব্রাহিমের থেকেও বড় মাপের কোনো রাজনীতিক যদি মালয়েশিয়ায় থাকেন, তিনি ৯২ বছরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহম্মদ৷ এই মাহাথির কখনও ইব্রাহিমের গুরু, কখনও তাঁর বিপর্যয়ের কারণ, কখনও আবার সহযোগী৷

৯ মে'র নির্বাচনে বারিসান নাশ্যানালের পরাজয়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছেন৷ ইব্রাহিম কবুল করেছেন যে, এটা সম্ভব হয়েছে মহাথিরেরই অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে৷ রাজার কাছ থেকে ক্ষমালাভের পর ইব্রাহিম বলেন, ‘‘বন্দি থাকার সময় বোঝা যায় স্বাধীনতার গুরুত্ব কোথায়৷ কারও ক্ষেত্রে যেন এমনটা না হয়৷ এ সময়টা অনেকে আমার পাশে থেকেছেন৷ তবে এটা ঠিক যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মানুষকে কারারুদ্ধ করা আমাদের বন্ধ করতে হবে৷''

রাজনীতিতে নিজের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে ইব্রাহিম বলেন, ‘‘আমি কখনও লড়াই ছাড়িনি৷ আমি রাজনীতিতেই ছিলাম৷ শারীরিকভাবে না হলেও ছিলাম৷ মাহাথিরের শেষ বার্তাটি ছিল খুব স্পষ্ট, আবেদনময়৷ সেই বার্তা আমি শুনেছি৷ তাঁর পাশেই থেকেছি৷''

রাজনীতিতে ফেরার পর এবার বিদেশ সফরের পরিকল্পনা করেছেন ইব্রাহিম৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি হার্ভার্ড ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যাব৷ কয়েকটি মুসলিম দেশও সফর করব৷ আমাকে এটা প্রচার করতে হবে যে, যুক্তি ও সহিষ্ণুতাই ইসলামের পথ৷ এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করা যাবে৷''

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে ইব্রাহিম জানান, ‘‘জনতার প্রতি অন্যায়, অপরাধ, চরম দুর্নীতি এ দেশের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এর জবাব তাঁকে দিতেই হবে৷ আমি অবশ্য তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি৷ কারণ আমি এগিয়ে যেতে চাই৷ নাজিবের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই৷''

মাহাথিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার ব্যাপারে ইব্রাহিম বলেন, ‘‘আমার লক্ষ্য দেশের মঙ্গল৷ মাহাথির আমার মুক্তির জন্য অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন৷ সংস্কারের লক্ষ্যেও তিনি অবিচল৷ আমার তাঁর প্রতি ক্ষোভ থাকবে কেন?''

আনোয়ারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সেটা ১৯৬০ সাল৷ তখন তরুণ ছাত্র নেতা ইব্রাহিম ‘মুসলিম ইউথ মুভমেন্ট অফ মালয়েশিয়া' (এবিআইএম) গঠন করেছিলেন৷ ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইব্রাহিম৷ সেসময় তিনি সুদক্ষ বাগ্মিতায় গ্রামীণ জীবনের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন৷ এছাড়া তৎকালীন শাসক বারিসান ন্যাশানালের সঙ্গে ইউনাইটেড মালয়েজ ন্যাশানাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) জোটেরও তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি৷

ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের পক্ষ থেকে ইউএমএও-তে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পান তিনি৷ ১৯৮২ সালে সেই আমন্ত্রণ স্বীকার করেন ইব্রাহিম৷ এরপরই তাঁর উত্থান ঘটে৷ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে ১৯৯৮ সালে তিনি ‘এশিয়ান অফ দ্য ইয়ার'-এর শিরোপাও পান৷

ইব্রাহিমের রাজনৈতিক জীবন উত্থান-পতনে ভরা৷ ২০১৪ সালের ভোটে যখন তাঁর জয়ের সম্ভবনা উজ্জ্বল, ঠিক তখনই ধাক্কা খান আনওয়ার ইব্রাহিম৷ দশ বছর আগে স্ত্রীয়ের গাড়িচালকের সঙ্গে যৌন সংসর্গের যে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, আদালতের সেই নির্দেশ পালটে যায়৷ ফিরে আসে পুরনো অভিযোগ৷ আবারো জেলে যেতে হয় ইব্রাহিমকে৷

এদিকে রাজনীতির পট পরিবর্তন হতে থাকে৷ নাজিবের প্রতি বিরক্ত মাহাথির জোট ছেড়ে নয়া দল গঠন করেন৷ যে দলের হয়ে তিনি ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে সে দলেরই প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করেন তিনি৷ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রতিশ্রতি দেন, জনতা তাঁকে ক্ষমতায় ফেরালে ইব্রাহিমের মুক্তির উদ্যোগ নেবেন তিনি স্বয়ং৷ ৯মে ভোটে জেতার পর কথা রেখেছেন মহাথির৷ অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন আনওয়ার ইব্রাহিম৷

রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইব্রাহিম বলেন, ‘‘দেশে নতুন ভোর এসেছে৷ আমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই৷ জনতা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, আমি তা পূরণ করতে চাই৷''

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উচ্চাশা কি তাঁর নেই? ইব্রাহিম বলেন, ‘‘আমি মাহাথিরকে সমর্থন জোগাতে চাই যাতে তিনি সংস্কারের কাজ শেষ করতে পারেন৷ এ জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দরকার নেই৷''

ব্রেন্ডা হাস/পিএস         

নির্বাচিত প্রতিবেদন