1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

আধ্যাত্মিক স্থান: হফহাইমে বাহাই উপাসনালয়

প্রায় ৫০ বছর আগে ফ্রাংকফুর্টের কাছাকাছি হফহাইম-লাঙেনহাইনে বাহাই ধর্মের একটি উপাসনালয় নির্মিত হয়৷ ধ্যান ও মিলনের এক অপূর্ব স্থান৷ প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় সেখানে৷

হফহাইম-লাঙ্গেনহাইনে ৪৪০০ মানুষ বসবাস করেন৷ যেখানে বয়ে গেছে ছোট একটি নদী, রয়েছে একটি পিজ্জারিয়া৷ টাউনুস পার্বত্যাঞ্চলে অরণ্যঘেরা এক শান্ত গ্রাম এটি৷ ছোট্র এই পল্লীতে ১৯৬৪ সালে নির্মিত হয় এই ‘প্রার্থনার ঘর'৷ জার্মানির কেন্দ্রে ইউরোপের একমাত্র বাহাই মন্দির৷ পাহাড়ের ওপর নির্মিত ২৮ মিটার উঁচু গম্বুজ বিশিষ্ট স্থাপনাটি ধূসর কোনো উপাসনালয় নয়৷ ৫৪০টি রম্বস আকৃতির জানালা দিয়ে আলো ঢোকে এমনভাবে, যেন মনে হয় প্রাণবন্ত এক আলো আঁধারির খেলা৷

পার্কঘেরা উপাসনালয়

পার্কঘেরা উপাসনালয়ের নীচের অংশের প্রায় সবটাই কাচ দিয়ে তৈরি৷ চারিদিকে রয়েছে নয়টি প্রবেশ পথ৷ যে কোনো দিক দিয়েই ঢোকা যায় এই প্রার্থনা ঘরে৷ স্থাপনাটি বাহাই ধর্মের খোলামেলা ভাবটিই যেন প্রকাশ করছে৷ সবাই এখানে স্বাগত৷ এমনকি ঈশ্বরে অবিশ্বাসীরাও৷ বলেন বাহাই-এর মুখপাত্র সানহিল স্টাইমলে৷ এছাড়া সবুজের মাঝে নির্মিত বলে প্রকৃতির সঙ্গে একটা যোগসূত্র তুলে ধরছে ভবনটি৷ ‘‘বাহাই ধর্মের প্রার্থনাতেই রয়েছে: স্থান, ভবন, নগর, পাহাড় পর্বত যা কিছু ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুই পবিত্র৷'' জানান সানহিল৷

Spirituelle Orte Aufnahmedatum: 9 Juni 2013 Fotos: Guenther Birkenstock (DW) Eingang Bahai-Tempel in Hofheim-Langenhain und Blick in den Park

প্রায় ৫০ বছর আগে ফ্রাংকফুর্টের কাছাকাছি হফহাইম-লাঙেনহাইনে বাহাই ধর্মের একটি উপাসনালয় নির্মিত হয়

রোববার বিকাল তিনটা: শুরু হচ্ছে উপাসনা৷ ৫০ জন মানুষ জড়ো হয়েছেন৷ জায়গা আছে কয়েকশ জনের৷ বাড়ির ভেতরটা বেশ সাদামাটা৷ এক কোণায় ফুলদানিতে রয়েছে ফুলের তোড়া৷ কোনো ছবি, ধর্মীয় প্রতীক বা বেদি নেই৷ দেখা যায় একটি মাত্র পাঠের ডেস্ক৷ যেখানে দাঁড়িয়ে একে একে মানুষজন এসে ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন৷ নতুন ও পুরানো টেস্টামেন্ট, পবিত্র কোরান ও বাহাউল্লার পুস্তক থেকে৷ লেখা থেকে পড়ে শুধু শোনানো হয় কিন্তু বিশ্লেষণ করা হয় না৷ কীভাবে তা বুঝতে হবে তা বলে দেওয়া হয় না৷ যাজক বা ইমাম বলে কেউ নেই বাহাই ধর্মে৷ রয়েছে শুধু একটি পরিষদ৷ এই পরিষদের সদস্যরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন৷ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সাহায্য করেন৷

এ এক মিলন স্থান

১৪ বছরের ক্লারা লিসা ভিবার্স তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত বাহাইদের ‘প্রার্থনা ঘরে' যায়৷ অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী সে৷ ‘‘আমরা মনে করি সব কিছুই একই সৃষ্টিকর্তা থেকে এসেছে৷ খ্রিষ্ট ধর্ম, ইসলাম ও বাহাউল্লাহর ধর্মের মধ্য খুব একটা ফারাক নেই'', জানায় এই কিশোরী৷ ‘‘বাহাই ধর্ম ইসলামের অংশ নয়৷ ইরান থেকে এর উৎপত্তি হয়েছে৷ এই দুই ধর্মের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছে'', বলে সে৷ তবে লাঙেনহাইনে সে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই আসে না৷ সেখানে ক্যাফেতে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত জনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়৷ এটাও কম আকর্ষণীয় নয়৷

ক্লারার মা মেয়ের এই আগ্রহ দেখে আনন্দিত৷ অবশ্য তিনি কিছুটা জোর দিয়ে বলেন, ধর্মের ব্যাপারে ছেলেমেয়েরা ১৫ বছর বয়স থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ সেটা বাহাইও হতে পারে৷ ‘‘আমরা চার বোন, এর মধ্যে দুইজন বাহাই হয়েছে৷ দু'জন হয়নি৷ ‘‘আমাদের পরিবারে প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে'', বলেন ক্লারার মা জেনিফার ভিবার্স৷

Spirituelle Orte Aufnahmedatum: 9 Juni 2013 Fotos: Guenther Birkenstock (DW) Bahai-Tempel innen, Andacht mit Ansprache.

ধ্যান ও মিলনের এক অপূর্ব স্থান এই উপাসনালয়

অনুসারীরা ধর্মবিশ্বাসে বেশ অটল

বাহাই ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বেশ অটল৷ অল্পবয়সিরাও দৈনন্দিন উপাসনার কথা খোলাখুলি বলেন৷ তাঁদের মতে, জ্ঞান ও বিশ্বাসের মধ্যে তেমন কোনো সংঘাত নেই৷ জ্ঞানকে সচেতনভাবে কাজে লাগানো হল বিশ্বাস৷ কাজও এক ধরনের উপাসনা৷ তথ্য বিজ্ঞানী বারবারা নিকে জানান, ‘‘একটি কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসাবে বিশেষ করে মানুষের সেবা করতে চেষ্টা করি আমি৷ এছাড়া ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান ও ইতিহাস বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে আমি ছড়িয়ে দিতে চাই৷''

বাহাই উপাসনালয়টি দেখার জন্য প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজারের মতো দর্শনার্থী লাঙেনহাইনে আসেন৷ জার্মানিতে ৬০০০-এর মতো বাহাই ধর্মের অনুসারী রয়েছেন৷ বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা ছয় থেকে সাত মিলিয়ন হবে৷ ‘প্রার্থনা ঘর', পার্ক ও দর্শককেন্দ্রের খরচ চলে দানের অর্থে৷

প্রতিদিন খোলা থাকে এসব৷ একটি হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও কিন্ডারগার্টেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে৷ সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করাটা বাহাই মতাদর্শের সঙ্গে খাপ খায়৷ ‘‘এখন যা আছে, তা নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট থাকতে চাই না, শান্তি ও মানবতার বাণী ছড়িয়ে দিতে চাই সারা বিশ্বে'', বলেন সানহিল্ড স্টাইমলে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন