1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আধিকার হারানোর ভয় আফগান নারীদের

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে আপোসের পথে গেলে মেয়েদের স্বাধীনতা আবার ভীষণভাবে খর্ব হবে, এই আশঙ্কা করছেন সেখানকার নারী সমাজের অনেকে৷ ফরিদা তারানা তাঁদেরই একজন৷

আফগান সমাজের বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সনাতন রীতি নীতি, প্রাণহানির হুমকি এবং নারী বৈষম্য - এসব কিছুকে পায়ে ঠেলে ফরিদা তারানা নিজেকে করে তোলেন একজন পপ তারকা৷ পরে তিনি হয়ে ওঠেন তালেবান-উত্তর আফগানিস্তানে নারী রাজনীতির এক প্রকাশ্য ছবি৷ এখন তাঁর ভয়, তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে রফা হলে মেয়েদের স্বাধীনতা আর থাকবেনা৷

ফরিদা তারানা বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্যা৷কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান শাসক গোষ্ঠীর আমলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যাওয়া, বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করায় বাধা ছিল৷ ২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে আফগান মেয়েরা এগিয়ে গেছেন৷ ফরিদা তারানা সেই অগ্রযাত্রারই এক নাম দৃষ্টান্ত৷

আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে আপোশ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন৷ আর এর ফলে তারানা এবং অন্য আফগান নারীরা ভীত হয়ে পড়েছেন৷ তাঁরা মনে করছেন, তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে রফা হলে তাদের বহু কষ্টের অর্জন বৃথা হয়ে যাবে৷ তারানা বলেন, শান্তির পক্ষে তিনিও কিন্তু নারী স্বাধীনতার মূল্যে নয়৷ ২০০৫ সালে ‘‘অ্যামেরিকান আইডল'' টেলিভিশন ট্যালেন্ট-শোর আদলে তৈরি ‘আফগান স্টার' শোতে তিনি অংশ নেন এবং রাতারাতি তারকার মর্যাদা পেয়ে যান৷

Karsai / Afghanistan / London

আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই

ফরিদা শুধু প্রতিভাধর নন, সাহসীও৷ ভালবাসার গান ও পপ গান গেয়ে আফগান তরুণদের মধ্যে তারানা খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন৷ কিন্তু কট্টর ইসলামপন্থি মহল আর উগ্র বিভিন্ন গ্রুপ তাঁর বিরুদ্ধে জোর প্রচার শুরু করে৷ তাদের অভিযোগ, তারানা আফগানিস্তানের ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভঙ্গ করছেন৷

তিনি জানান, শুধু উগ্রপন্থিরাই নয় তাঁর নিজের আত্মীয়স্বজনরাও তাঁর এ কাজে বাধা দিয়েছে৷ বলেছে, তাঁর এ কাজ করা উচিত না৷ এমনকি তাঁর প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়৷ টেলিফোনে অনামা ব্যক্তিরা তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়৷

ফরিদা তারানা বলেন, এ ধরণের হুমকিই তাঁকে পেশাদার গায়িকার জীবন আরও সংহত করতে তাঁকে করে তোলে আরও দৃঢ়সংকল্প, আরও উচ্চাকাঙ্খী৷ একের পর এক নতুন রেকর্ড করতে শুরু করেন তিনি৷ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তাঁর৷ খ্যাতির সঙ্গে আসে বিত্ত আর বৈভব৷

কাজটা সহজ ছিলনা৷ কারণ আফগানিস্তানের মানুষ মেয়েদের গান করাকে ভাল চোখে দেখেনা, বলেছেন তারানা৷ আর একজন গায়িকার রাজনীতিক হওয়া ছিল আরও বেশি কঠিন ব্যাপার৷ কাবুলের প্রাদেশিক পরিষদের একটি আসনে প্রার্থী হন তিনি গত আগষ্ট মাসের নির্বাচনে৷ সব রকমের বিরোধী প্রচারকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি জয়ী হন৷ ভোট পান ৮,৪২১৷ যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ৷ এবার তাঁর লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া৷

আফগান সংসদ সদস্য ও নারী অধিকারবাদী সাবরিনা শাকিব বলেন, তালেবান আমলের বর্বরতা এখনো আফগান মেয়েরা ভুলতে পারেননি৷ তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তির পরিকল্পনা সফল হবেনা৷ তবে সফল যদি হয় তাহলে আফগান মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷

এখন আফগানিস্তানের সংবিধানের অধীনে নারী-পুরুষের অধিকার সমান৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক নারী সংগঠন বলছে, মেয়েরা এখনও দেশে সবচেয়ে প্রান্তিক এবং অধিকারহীন অবস্থায় রয়ে গেছে৷ আফগান ঐতিহ্যের নামে এখনও তারা সহিংসতা আর বৈষ ম্যের শিকার হয়ে চলেছে৷

প্রতিবেদক : আসফারা হক

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়