1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘আদালত অবমাননা করেছে এইচআরডাব্লিউ'

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন পক্ষ৷ বিধি অনুযায়ী আবেদনটি দাখিল করা হলেও, আদালত এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি৷

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিচার ও রায় নিয়ে মন্তব্য করায় মঙ্গলবার আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর বিরুদ্ধে রুল জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন৷ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ এই আবেদন করেন৷ আবেদনে সংস্থার বোর্ড অফ ডিরেক্টটরস, এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস ও অ্যাসোসিয়েট স্টর্ম টিভকে বিবাদী করা হয়৷

আবেদন দাখিলের পর ড. তুরিন আফরোজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ১৬ই আগস্ট হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ' বলে উল্লেখ করে পাঁচটি যুক্তি দেয়৷ এর মধ্যে দু'টি যুক্তি আদালতের জন্য অবমাননাজনক বলে মনে হওয়ায়, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ এনেছে৷ যুক্তি দু'টি হলো – (১) গোলাম আযমের রায় ট্রাইব্যুনাল নিজে থেকে তদন্ত করেছে৷ এবং (২) রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে৷ এছাড়া, গোলাম আযমের রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন৷ বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করাও আদালতের জন্য অবমাননাজনক বলে জানান তিনি৷

ড. তুরিন আফরোজ আরো বলেন, গোলাম আযমের মামলা নিয়ে তাদের মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে৷ এ ধরনের বিচার বিশ্বের কম সংখ্যক দেশ করেছে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম৷ এ অপরাধ কোনো রাষ্ট্রের বা ব্যক্তি বিরুদ্ধে নয়, এ অপরাধ মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে৷ রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সব সময় চেয়েছেন একটি আন্তর্জাতিক মানের বিচার উপহার দেয়ার জন্য৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এমন একটি সংস্থা, যারা মানবাধিকার রক্ষার নামে তত্‍পরতা চালাচ্ছে৷ তাদের কোনো পর্যবেক্ষক ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের মামলাসহ অন্য কোনো মামলা পর্যবেক্ষণে আসেননি৷ এটি এমন একটি সংস্থা যাদের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো জবাবদিহিতা নেই৷ শুধু জবাবদিহিতা নয়, তাদের তহবিল কিভাবে আসে সে বিষয়টি তারা প্রকাশ করে না৷ কারা অর্থ দেয় তাদের পরিচিতি গোপন রাখা হয়৷ তাদের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশেরও অসংখ্য প্রমাণ আছে৷ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে তারা সমালোচিত হয়েছে৷ তাদের অ্যাডভাইজরি বোর্ডে সন্ত্রাসীসম লোকজনও আছে৷ বিশ্বজুড়ে তাদের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের ১শ'র বেশি উদাহরণ আছে৷ আর প্রতিটি রিপোর্ট তহবিল দাতাদের স্বার্থে৷ তাদের হয়েই কাজ করে তারা৷

গত ১৬ই আগস্ট এই মানবাধিকার সংস্থাটি অনলাইনে ‘বাংলাদেশ: আযম কনভিকশন বেসড অন ফ্লড প্রসিডিংস' শিরোনামের এক বিবৃতিতে বলে, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়৷ মামলার রায়ে পাঁচটি ত্রুটির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডাব্লিউ৷ সংস্থাটির এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯৭১ সালের নৃশংসতার স্বচ্ছ বিচারের বিষয়ে আমাদের সমর্থন রয়েছে৷ তবে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে আইনে বিচার হচ্ছে তার ত্রুটিগুলো আমরা ধরিয়ে দিতে চাইলেও সরকার তা আমলে নেয়নি৷ সরকার যে রায় চেয়েছিল তা তারা পেয়েছে৷ কিন্তু সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে৷ অবশ্য গোলাম আযম দোষী হলে যারা অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের স্বজনদের অবশ্যই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে৷

বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বিচারকরা অযথার্থভাবে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে একটি তদন্ত করেছে, আইনজীবী-বিচারকদের মধ্যে গোপন সহযোগিতা ও পক্ষপাতিত্ব ছিল, আসামির সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, বিচারক প্যানেলে পরিবর্তন এবং গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে তথ্য-প্রমাণেরও অভাব ছিল৷

Human Rights Watch Logo

গোলাম আযমের বিচার ও রায় নিয়ে মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সবচেয়ে গুরুতর সমস্যাটি হলো গোলাম আযমের মামলায় বিচারকরা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতি পূরণে একটি তদন্ত করেছেন৷ কিন্তু বাংলাদেশের বিচারকদের শুধু তাঁদের সামনে উপস্থাপিত উভয়পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷ এ তদন্তের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কিছু জানতেন না৷ যার ফলে, বিচারকদের বিবেচনায় আনা তথ্য-প্রমাণকে তাঁরা চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি৷ এ তদন্ত আদালতের নিরপেক্ষতার নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে৷ এছাড়া এ ধরনের তদন্ত ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর ১৪ অনুচ্ছেদের গুরুতর লঙ্ঘন৷

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের মার্চ মাসে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, সহযোগিতা এবং হত্যা ও নির্যাতনের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ গত ১৫ই জুলাই এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়৷ রায়ে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ রায়ে বলা হয়, অপরাধের তীব্রতা ও বিস্তার বিবেচনায় তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি৷ গত ১২ মে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়