1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আদম ব্যবসায়ী শিকার শুরু, সমস্যা কিন্তু মিটছে না

আদম ব্যবসায়ীদের নৌকার দিকে কামান দাগলে তেমন কোনো কাজ হবে না৷ ব্যার্ন্ড রিগার্ট মনে করেন, এর মাধ্যমে ইউরোপে শরণার্থী সংকটের সমাধানের বদলে তা বড়জোর দূরে রাখা যাবে৷

লিবিয়ায় আদম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একেবারে নতুন এক ক্ষেত্রে পা রাখলো৷ অতীতে ইউরোপীয়রা কখনো এমন বিপজ্জনক সামরিক অ্যাডভেঞ্চারের সাহস দেখায় নি৷ তাও আবার এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, যাদের ধরা এবং যাদের মতিগতি বোঝা কঠিন৷ মনে রাখতে হবে, যুদ্ধে যেমন প্রতিপক্ষ থাকে, আদম ব্যবসায়ীরা মোটেই সে রকম নয়৷ তারা কোনো সেনাবাহিনী নয়৷ তারা এমন এক অপরাধী চক্র, যাদের সম্ভবত লিবিয়ায় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মিলিশিয়া বাহিনী এবং ইউরোপে মাফিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে৷ ইইউ যখন আদম ব্যবসায়ীদের নৌকা ও সম্পত্তি ধ্বংস করতে শুরু করবে, তখন তারাও পালটা হামলা চালাবে – এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ অথবা তারা হয়তো শরণার্থীদের জিম্মি করে ‘মানবিক ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করতে পারে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক নেতৃত্বকে এই অভিযানের নিয়মকানুন সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে, যাতে সমুদ্রের মাঝে অথবা লিবিয়া উপকূলে কোনো বিপর্যয় না ঘটে৷ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা যে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করতে অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে৷ জার্মানির উন্নয়ন সাহায্য মন্ত্রী গ্যার্ড ম্যুলার ঠিকই বলেছেন৷ তাঁর মতে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না৷ শরণার্থীরা আগের মতোই ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাবে৷ যতদিন না আইনি পথে ইউরোপে অভিবাসনের পথ খুলে যাবে, ততদিন তারা অন্য পথ খুঁজবে এবং অপরাধী আদম ব্যবসায়ীদের শরণাপন্ন হবে৷

Deutsche Welle Bernd Riegert

ব্যার্ন্ড রিগার্ট, ডয়চে ভেলে

আপদকালীন পদক্ষেপ

হিংসাত্মক পদক্ষেপের মাধ্যমে লিবিয়ায় আদম ব্যবসায়ীদের কার্যকলাপ হয়তো সাময়িকভাবে দমন করা সম্ভব হবে৷ কিন্তু তাদের ব্যবসায়িক মডেল তখনই পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হবে, যখন শরণার্থীরা আইনি পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবে৷ কারণ তখন আদম ব্যবসায়ীদের চাহিদা আর থাকবে না৷ আইনি পথে ইউরোপে শরণার্থীদের প্রবেশ তখনই সম্ভব হবে, যখন ইইউ এক সাধারণ অভিবাসন নীতি এবং শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও অর্থনৈতিক অভিবাসনে আগ্রহীদের ‘সুষম' বণ্টনের বিষয়ে একমত হতে পারবে৷ কিন্তু রণতরি ও বোমারু বিমান পাঠানোর তুলনায় এ বিষয়ে ঐকমত্য আরও অনেক কঠিন বিষয়৷ ইইউ-র অনেক সদস্য রাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেই একেবারে প্রস্তুত নয়৷

ইইউ কীভাবে শরণার্থীদের উৎসস্থল – অর্থাৎ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে সমস্যার মূলে আঘাত করবে, সেটাও একেবারে স্পষ্ট নয়৷ বহু বছর ধরে এমন উদ্দেশ্যের কথা বলা হচ্ছে৷ কিন্তু বাস্তবে তা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে রয়েছে৷ যেসব দেশ থেকে মানুষ পালিয়ে শরণার্থী হচ্ছে, তাদের দায়িত্বও ইইউ-র চেয়ে কম নয়৷

এই মুহূর্তে ইইউ শরণার্থী সংকটের লক্ষণ দূর করার চেষ্টায় লিপ্ত৷ সমুদ্রের বুকে শরণার্থীদের উদ্ধারের কাজ অবশ্যই সঠিক ও মানবিক৷ কিন্তু সেটা নিয়মিত অবস্থা হতে পারে না৷ লিবিয়ায় আদম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে ছোট ও সাময়িক পদক্ষেপ হতে পারে৷

অমীমাংসিত প্রশ্ন

ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স'-এর সূত্র অনুযায়ী শরণার্থীরা ইতিমধ্যেই অন্য পথ গ্রহণ করতে শুরু করেছে৷ তুরস্ক থেকে পাড়ি দেওয়া নৌকার সংখ্যা বাড়ছে৷ তুরস্ক ও বুলগেরিয়ার স্থলসীমান্তে চাপ বাড়ছে৷ তুরস্কের স্থল অথবা জল সীমানায় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়া মোটেই সহজ হবে না৷

এই অবস্থায় এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক, যে ইইউ মন্ত্রীরা সমুদ্রে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নাগরিকদের সামনে তাঁদের ঐক্য ও প্রত্যয় দেখাতে চেয়েছেন৷ কিন্তু আসল প্রশ্ন তাঁরা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন৷ আর সেই প্রশ্ন হলো – যে সব মানুষ, যে সব শরণার্থী হাজারে-হাজারে লিবিয়ার মতো অরজাকতায় ভরা রাষ্ট্রে ইউরোপে পৌঁছানোর অপেক্ষায় দিন গুনছে, তাদের কী হবে?

এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও মনে রাখতে হবে, যে ইউরোপীয়রা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি মানবিকতা দেখাচ্ছে৷ এশিয়ায়ও মানুষ জাহাজে করে পালাবার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ সেখানে তাদের দায়িত্ব নিতে কেউ প্রস্তুত নয়৷ তাদের সহায়তা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে৷ এমন দুর্গ গড়ে তোলার মানসিকতা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো দূরে রয়েছে৷ আশা করা যায়, এই মনোভাবের পরিবর্তন হবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়