1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

আত্মহত্যার অধিকার রয়েছে সুইজারল্যান্ডে

আত্মহত্যা করার অধিকার কি সবার আছে? বাংলাদেশে আত্মহত্যার চেষ্টা করা কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ৷ কিন্তু তারপরেও মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের জীবন প্রদীপ নেভানোর৷

default

সুইজারল্যান্ডের ডিগনিটাস সংস্থার সাহায্য নিয়ে আত্মহত্যা করছেন একজন

সুইজারল্যান্ডের ডিগনিটাস সংস্থা সাহায্য করে মানুষকে আত্মহত্যা করতে৷ সম্প্রতি এই সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে৷ সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন আইনজীবীরা৷ জুরিখ লেকের গভীরে অসংখ্য ভস্মাধার খুঁজে পাওয়ার পর ডিগনিটাস'এর ঘাড়ে তার দোষ পড়ে৷ বলা প্রয়োজন, সুইজারল্যান্ডে আত্মহত্যা করার স্বপক্ষে বেশ কিছু আইন রয়েছে, তবে সেই আইনে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য কখনোই কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া যাবে না৷ ডিগনিটাসের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছে৷ তারা দাবি জানিয়েছে সরকারের কাছে পুরো বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখার জন্য৷

লেক জুরিখ, শান্ত একটি দুপুর৷ কিন্তু এই লেকের গভীরে রয়েছে কয়েক ডজন ভস্মাধার৷ রাজনীতিবিদ ডানিয়েল সুটার জানালেন, ‘‘আমরা প্রথমে খুবই বিস্মিত হয়েছি৷ এটা অবিশ্বাস্য ! আমরা নিশ্চিত, ডিগনিটাস আর্থিক সুবিধা আদায় করেছে এই মানুষগুলোর কাছ থেকে৷ অসংখ্য ভস্মাধার জমিয়ে রাখা একটা বড় সমস্যা, তাই এই সংস্থা লেকে ভস্মাধার ফেলে দিচ্ছে৷ ডিগনিটাস এবং তার মালিক লুডভিশ মিনেলি সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে না, তারা নিজেদের স্বার্থে কাজ করছে৷ তাঁকে যদি টাকা দিয়ে বলা হয় ‘এই কাজটি এভাবে করতে হবে' সে নির্দ্বিধায় সে কাজটি করবে৷ ''

জুরিখের রাজনীতিবিদ ডানিয়েল সুটার খোলাখুলিভাবেই বললেন, যে তিনি নিশ্চিত ডিগনিটাস ভস্মাধারগুলো জুরিখ লেকে ফেলে যায়৷ তাঁর এই যুক্তিকে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে ডিগনিটাসে কর্মরত সাবেক একজন নার্সের বক্তব্য৷

Flash-Galerie Welternährung

এমন সুন্দর দেশের মানুষও আত্মহত্যা করতে চায়

সোরাইয়া ভের্নলি জানান, ‘‘ঘটনাটি ঘটেছিল গ্রীষ্মকালের শেষের দিকে৷ মিনেলি আমাকে নিয়ে জুরিখ লেকে যায়৷ আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি তার গাড়ির পেছনের ডালা খোলেন৷ তা ভর্তি ছিল ভস্মাধারে৷ তিনি একটি স্ক্রু ড্রাইভারের সাহায্যে ভস্মাধার থেকে নাম গুলো খুলতে থাকেন৷ তারপর সব ছুঁড়ে দেন লেকে৷ আমার চোখের সামনে তা একবার হয়েছে৷ আমি একবারই দেখেছি৷''

সুইজারল্যান্ডের সংবিধান অনুযায়ী আর্থিক সুযোগ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে কাউকে আত্মহত্যায় সাহায্য করা যাবে না৷ ডিগনিটাসের মালিক লুডভিশ মিনেলি জানালেন, তিনি অনৈতিক বা অবৈধ কোন কাজ করছেন না৷

ডিগনিটাসের বোর্ডের সদস্য মাত্র দু'জন৷ একজন লুডভিশ মিনেলি অপরজন কে তা তিনি জানাননি৷ যারা আত্মহত্যা করতে চায়, তারা ২০০ ডলার দিয়ে সদস্য হয়৷ এরপর যদি আত্মহত্যা সফল হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় সাত হাজার ডলার৷ কিন্তু ডিগনিটাস কীভাবে চলে, তা কেউই জানেন না৷ সুইজরল্যান্ডের আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র সেসব মানুষই আত্মহত্যা করার অধিকার রাখে, যারা ভীষণভাবে অসুস্থ এবং তাদের সুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই৷ অথচ ডিগনিটাস গুরুতর অসুস্থ নয় – এমন মানুষকেও সাহায্য করেছে আত্মহত্যা করতে৷ মিনেলি নিজেই বললেন, ‘‘প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে আত্মহত্যা করার৷ যারা মানসিক রোগী, তাদের বেলাও একই কথা খাটে৷ আমি মনে করি, আত্মহত্যা শুধু অসুস্থ মানুষ নয় সুস্থ মানুষেরও করার অধিকার রয়েছে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধ যিনি অসুস্থ নন, ঘুরছেন-ফিরছেন, তিনি আত্মহত্যা করতে চান৷ কারণ তাঁর পরিবারের কেউই বেঁচে নেই, তার কোন বন্ধু-বান্ধবও নেই৷ তাহলে কেন তিনি বেঁচে থাকবেন? আর কেনই বা আমরা তাঁকে সাহায্য করবো না ?''

আর ঠিক এ ধরণের ঘটনাগুলো নিয়েই সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন ডানিয়েল সুটার৷ তাঁর মতে আত্মহত্যার মূল লক্ষ্য হল কাউকে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি দেওয়া৷ কিন্তু ডিগনিটাস তা ব্যবহার করছে একটি অস্ত্র হিসেবে৷ সুটারের আশঙ্কা, ‘‘আগামী ২০ বছরে এদেশে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে৷ তখন আমরা কী করবো ? সবাইকে আত্মহত্যা করতে বলবো ? অসুস্থ হলে টাকা-পয়সা খরচ করতে হবে না৷ ডিগনিটাসের সাহায্যে আত্মহত্যা করতে হলে কোন ক্লিনিকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই৷ প্লেন থেকে নেমে সোজা চলে যাবেন নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে৷ এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আপনি নেই৷ জুরিখের কোন এক শীতল ঘরে আপনি মারা গেছেন৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়