আত্মসমর্পণের পর কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী | বিশ্ব | DW | 25.11.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

দেশে ফেরার দু'দিনের মাথায় আত্মসমর্পণ করেছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী৷ এরপর আদালত থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়৷ মাস দুয়েক আগে হজ নিয়ে মন্তব্য করার পর তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন৷

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে মুসলানদের পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ‘আপত্তিকর' মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী৷ হজ নিয়ে তাঁর মন্তব্যে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা আহত হন এবং প্রতিবাদ জানান৷ কয়েকটি ইসালামি দল ও সংগঠন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানায়৷ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিও একই দাবি জানায়৷ এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকার আদালতে এই ঘটনায় ২২টি মামলা এবং প্রতিটি মামলাতেই গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়৷

লতিফ সিদ্দিকী যখন বিদেশে বসে ঐ ‘আপত্তিকর' মন্তব্য করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের বাইরে ছিলেন৷ বাইরে ছিলেন রাষ্ট্রপতি৷ প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে লতিফ সিদ্দিকীর কথায় নিজেও দুঃখ পাওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ এরপর বিদেশে থাকা লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং দল থেকে বাদ দেয়া হয়৷

লতিফ সিদ্দিকী তখন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আর দেশে ফেরেননি৷ তিনি অ্যামেরিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকতায় যান৷ সেখান কিছুদিন অবস্থানের পর রবিবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে ঢাকায় ফেরেন তিনি৷ ঢাকায় ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার এড়িয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যান লতিফ সিদ্দিকী৷

তাঁর ঢাকায় ফেরা এবং ফেরার পর গ্রেপ্তার না হওয়ায় ইসলামি দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়৷ হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি ঐক্যজোট নেতারা তাঁকে বুধবারের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে৷ বিএনপি অভিযোগ করে যে, সরকার লতিফ সিদ্দিকীকে রক্ষায় নতুন কৌশল নিয়েছে৷ এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপরে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই ধানমন্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন৷

আত্মসমর্পণের পর আদালতে হাজির করা হলে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্মীয় উসকানির এক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান৷ মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান যে, ‘‘লতিফ সিদ্দিকী বেলা দেড়টার দিকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন৷ পরে থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে তিনি ঢাকার হাকিম আদালতে যান৷ আদালতই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়৷'' আইনজীবী এ এম আবেদ রাজার দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারক বলেন, ‘‘যেহেতু আসামি জামিন আবেদন করেননি, সেহেতু তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হলো৷''

জানা গেছে, রবিবার রাতে লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরে আত্মগোপনে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে আইনি পথে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ ভারতে থাকতেই তিনি দেশে এসে উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছিলেন৷ তাই সোমবার দিনভর গুঞ্জণ ছিল যে, তিনি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করবেন৷ তবে তা হয়নি৷ এরই মধ্যে সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়৷

উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভা এবং দল থেকে বাদ পড়া লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ বহাল আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়