1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

আতঙ্কিত সমকামীরা দেশ ছাড়ছেন

আল-কায়েদা সমর্থিত জঙ্গিদের হাতে বাংলাদেশে দুই সমকামী অ্যাক্টিভিস্ট হত্যার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও দেশটির এলজিবিটি সম্প্রদায় এখনও আতঙ্কে আছে৷ এরইমধ্যে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন৷

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এক নির্বাসিত সমকামী অ্যাকটিভিস্ট জানালেন, পুরো সম্প্রদায় পিছু হঠতে শুরু করেছে৷ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ঐ মানুষটি নিজের নাম প্রকাশ করতেও ভীত ছিলেন৷ তিনি জানালেন, সমকামীরা এখন দেশে কোনো ধরনের কাজই করতে পারছেন না, নিজেদের অধিকার বা দাবি আদায়ের আন্দোলন তো দূরের কথা৷ বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে জানালেন তিনি৷ পরিস্থিতি যে এতটা ভয়াবহ হবে তা কখনো কল্পনা করেননি বলে জানালেন নির্বাসিত ঐ সমকামী অ্যাকটিভিস্ট৷

বাংলাদেশে এলজিবিটি সম্প্রদায় বর্তমানে কোণঠাসা, কেননা এখানে সমকামিতা অবৈধ, এমনকি শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷

২০১৪ সালে প্রথম এলজিবিটি সম্প্রদায় ‘রূপবান' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে৷ যা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে৷ তখনই এই সম্প্রদায়ের উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসতে থাকে৷ কিন্তু এ বছরের ২৫ এপ্রিল ‘‘রূপবানের'' সম্পাদক জুলহাস মান্নান এবং তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয় খুন হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে৷ জুলহাস মান্নান এবং মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল৷ আল-কায়দার আঞ্চলিক গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে৷

ব্যাংককে গত সপ্তাহে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি আরও বলেন, ‘‘গত দু'বছরে আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের পথে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছিলাম৷ অনেক তরুণরা আমাদের এ পথে সহযাত্রী হয়েছিল, আমরা অনেক স্বেচ্ছাসেবীও পেয়েছিলাম৷ কিন্তু ঐ হত্যার ঘটনার পর পুরো স্তম্ভটা যেন ভেঙে পড়ল৷'' এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন সমকামী দেশ ছেড়েছেন বলে জানালেন তিনি৷ আরও ১০ জন দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘দেশের মানুষরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না৷ তাই পুরো সম্প্রদায় ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে৷ এসব সম্মেলনে অনেক দেশের মানুষ আসেন, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কেউ অংশ নেন না৷'' তাদের বিরুদ্ধে মানুষ যে নৃশংস আচরণ করছে এবং করেছে তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি৷

ঐ অ্যাকটিভিস্ট মনে করেন, দেশ থেকে বাইরে বেরিয়ে নতুন জীবন পেয়েছেন৷ বলেন, তার কিছু দায়িত্ব আছে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য৷ তাই তিনি থামবেন না৷ তিনি আশা করেন এমন একদিন আসবে, যখন মানুষ তাদের স্বীকৃতি দেবে, সেটা পাঁচ বছর হতে পারে, ১০ বছর বা তারও বেশি৷ তবে তিনি অপেক্ষায় থাকবেন৷

এপিবি/ডিজি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়