1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

আড়ি পাতার ইতিবৃত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য

এডওয়ার্ড স্নোডেনের দৌলতে এনএসএ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার আড়ি পাতার প্রবণতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে৷ কিন্তু এমন কার্যকলাপ রাতারাতি শুরু হয়নি৷ বহুকাল আগেই আড়ি পাতার প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে৷

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে গুপ্তচরবৃত্তি বাকিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়েই শুরু হয়েছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে প্রথম কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ব্লেচলি পার্ক৷ মান্ধাতার আমলের যন্ত্র দিয়ে তাঁরা নাৎসি জার্মানির বিখ্যাত ‘এনিগমা' কম্পিউটারের কোড ভাঙতে পেরেছিলেন৷ এনএসএ বা ব্রিটেনের জিসিএইচকিউ আজ যেভাবে আড়ি পাতে, সেই প্রযুক্তির পথিকৃৎ ছিলেন পার্ক৷

মারিকা জোসেফিডেস ও স্যাম গার্সিয়াও পুরানো এই সব যন্ত্রপাতির আকর্ষণ কাটাতে পারেন না৷ দু'জনেই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামো নিয়ে পড়াশোনা করছেন৷ মারিকা বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, এটা সত্যি যুদ্ধ জিতিয়ে দিয়েছিল৷ অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংকের পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তিরও ভূমিকা ছিল৷'' স্যাম মনে করেন, ‘‘আসলে ভালোই কাজ হয়েছে৷ আমাদের জিততে সহায়তা করেছে৷ মিত্রশক্তি, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে৷ আজও গোপন করার অনেক কিছু রয়েছে৷ আমাদের জয় হবে বলে আশা করি৷''

Studentin und Professor

বেসরকারি বাকিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশি (ফাইল ফটো)

এই তরুণ-তরুণীরা সত্যি ‘উইনার'-দের মধ্যেই পড়ে৷ কারণ আজকাল শিল্পজগত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বেড়েই চলেছে৷ বেসরকারি বাকিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশি৷ অনেকেই অর্থ কামাতে নয়, নিজেদের দেশে গণতন্ত্রের সুরক্ষা করতে চান৷ এক ছাত্রী বললেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদ, তার মোকাবিলা, গুপ্তচরদের কার্যকলাপ – এ সব আমার জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক, কারণ টিউনিশিয়ায় বিপ্লবের পর আমাদেরও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে৷ টিউনিশিয়ায় কী হচ্ছে, তা আমার বু্ঝতে হয়ত সুবিধা হবে৷'' ক্লাসে ইন্টারনেটে নজরদারির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এক ছাত্র বললেন, ‘‘আমাদের উপর নজরদারি চলুক, সেটা চাই না৷''

স্নোডেনের ঘটনার পর থেকে অনেক প্রশ্ন উঠছে৷ কারণ একদিকে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যক্তিগত তথ্যর অধিকার, অন্যদিকে ইলেকট্রনিক নজরদারি – এই দুটির মধ্যে সমন্বয় আনা কঠিন৷ বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্টনি গ্লিস বলেন, ‘‘ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তাভাবনার উপর স্নোডেন একটা বড় প্রভাব ফেলেছে৷ তাঁদের মনে যে সন্দেহ ছিল, স্নোডেন সেটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে৷ অন্যদিকে যে সব ছাত্র-ছাত্রী সত্যি বিষয়টা জানতে চান এবং যাঁরা আগে থেকেই জানেন, তাঁরা স্নোডেনকে নিয়েই সংশয়ে ভুগছেন, গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে নয়৷''

ছাত্র-ছাত্রীরা নজরদারির সব খুঁটিনাটি বিষয় আয়ত্ত করলেও তাঁদের নিজেদের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না৷ যেমন মারিকা দিব্যি ই-মেল পাঠাচ্ছেন, ফেসবুক ব্যবহার করছেন৷ মারিকা বলেন, ‘‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কার্যকলাপ সত্ত্বেও অনলাইনে মোটামুটি নিশ্চিন্তে বিচরণ করা যায়৷ শুধু একটু ভেবে-চিন্তে কাজ করতে হয়৷ যাকে-তাকে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য দেবেন না, কোনো অদ্ভুত, সন্দেহজনক ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করবেন না৷ নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন৷ বাস্তব জীবনে বন্ধুদের যে কথা বলি না, তা অনলাইনে প্রকাশ করারও কোনো প্রয়োজন নেই৷''

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে, তা ফাঁস হওয়ার পর তথ্য সংরক্ষণকারীরা অবশ্য এমন যুক্তি মানতে নারাজ৷ তারা ইন্টারনেট কোম্পানিগুলির তথ্যভাণ্ডার ঘেঁটে ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিচ্ছে৷ ছাত্র-ছাত্রীদের মতে, সংবাদ মাধ্যম কিছুটা বাড়াবাড়ি করছে৷ সাধারণ মানুষের নাকি চিন্তার কোনো কারণ নেই৷ স্যাম মনে করেন, ‘‘আপনি কোনো অন্যায় না করে থাকলে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই৷ তারা আপনার দিকে তাকিয়েও দেখবে না৷ চাইলে তারা করতেই পারে, কিন্তু কোনো কারণ তো নেই৷ তারা সব তথ্য ঘেঁটে আপনার সম্পর্কে কিছুই পায়নি৷ আপনি কিছু করে না থাকলে তারা পরীক্ষা করবে না৷''

কম্পিউটারের আদি লগ্ন থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজে অনেক অগ্রগতি ঘটেছে৷ মনে হচ্ছে, ইন্টারনেট প্রজন্মের একটা অংশ কিছুটা রাষ্ট্রীয় নজরদারি মেনে নিতে প্রস্তুত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক