1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

আট বছরে কতটা ডিজিটাল হলো বাংলাদেশ?

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ' কথাটি ব্যবহার করে ক্ষমতায় গেলে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ৷ গত আট বছরে কতটা ডিজিটাল হয়েছে বাংলাদেশ?

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করার পর সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার৷ ২০২১ সালের মধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে ‘ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান' বা ‘রূপকল্প ২০২১'  ঘোষণা করা হয়৷

‘রূপকল্প ২০২১' অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের জন্য সময় আছে আর পাঁচ বছর৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ এবং সরকারে যারা কাজ করছেন, তারাইবা কতটুকু প্রস্তুত? বিষয়টিকে কিভাবে আত্মস্থ করছেন তারা?

কারওয়ানবাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন নানা ধরনের শাকসবজি কিনে আনেন সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে৷ তাঁর কাছে ‘ডিজিটাল' মানে মোবাইল ফোন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এখন আমি সহজে যোগাযোগ করতে পারি৷ ফোনে জানতে পারি, সবজির অবস্থা৷ কোন কোন সবজি পাওয়া যাবে৷ এছাড়া বিভিন্ন বাজারে দামের খোঁজও নিতে পারি৷''

আর মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালি ইউনিয়নের কৃষক সুলমাত মৃধা জানান, ‘‘শুনেছি বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার আছে৷ তবে কখনো যাইনি৷ তবে বিদেশে যারা চাকরি করতে যায়, তারা সেখানে গিয়ে কাগজপত্র পূরণ করে৷''

অন্যদিকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তামিম আহমেদ মনে করেন,‘‘ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজকে সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করাই হলো ডিজিটালাইজেশন৷''

ডিজিটাল বাংলাদেশের ‘রূপকল্প ২০২১' প্রণেতাদের অন্যতম, বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত৷ তাঁর ব্যাখায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে হচ্ছে, ‘‘তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে সুশাসন থাকবে, সরকারের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা-স্বচ্ছতা থাকবে, দুর্নীতি কমে যাবে৷''

বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়৷ সেই ব্যবস্থাটি কী রকম হবে? জানতে চেয়েছিলাম তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কাজ করা দোহার উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বর্তমানে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রথীন্দ্র নাথ দত্তের কাছে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই ব্যবস্থাটি এমন, যার মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রাত্যহিক কাজ-কর্ম করতে পারবেন৷''

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আট বছরের আগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সরকার এখন অনলাইনে ১০২ ধরণের সেবা দিচ্ছে৷ আর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার(ইউডিসি) গড়ে তোলা হয়েছে৷ গ্রামের সাধারণ মানুষ এখান থেকে নানা ধরণের সেবা পাচ্ছেন৷''

অডিও শুনুন 06:43

‘সরকার এখন অনলাইনে ১০২ ধরণের সেবা দিচ্ছে’

কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ দেড় শতাধিক সরকারি ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যায় এবং তথ্য পূরণ করে অনলাইনেই তা সাবমিট করা যায়৷ অনলাইনে কৃষি, শিক্ষা , স্বাস্থ্য, চিবিৎসাসহ নানা ধরণের নাগরিক সেবা দেয়া হয়৷''

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, ‘‘এখন উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ মানুষ তাদের কোনো অভিযোগ এবং প্রয়োজনের কথা অনলাইনে জানাতে পারেন এবং অনলাইনেই এর জবাব দেয়া হয়৷ জমির পর্চা তুলতে পারেন ইউডিসি থেকে৷ তাকে জেলায় যেতে হয় না৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘ভিডিও কনফারেন্স এবং নানা ধরনের অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারি কাজ দ্রুত এবং সহজ হয়ে গেছে৷ প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেও তিনি ডিজিটাল পন্থায় অফিস করেন, ফাইল সই করেন৷''

দেশকে ডিজিটাল করার প্রক্রিয়ায় আধা-সরকারি ও বেসরকারি খাতও ভূমিকা রাখছে৷ অললাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, অনলাইন শপিং বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে৷ এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন, ফল, ভর্তি সব কিছুই অনলাইনে হচ্ছে৷ বাংলাদেশে এখন অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ, টেলিমেডিসিন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জনপ্রিয় হচ্ছে৷ এখন দেশে বসেই দেশের বাইরের চিকিৎসকের সঙ্গে অনলাইনে পরামর্শ নেয়া যায়৷ 

অডিও শুনুন 05:37

‘২০২১ সালের আগেই আমরা আমাদের টার্গেটে পৌঁছে যাবো’

সরকারে সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তর এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রায়ই তাঁদের অধীনস্থদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেন৷ দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রত্যেকের একটি করে ফেসবুক পেজ আছে৷ তারা সেখানে সাধারণ মানুষের কথা শোনেন৷ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেন৷ এছাড়া সরকারের নীতি নির্ধারক ও নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের একটি ‘ক্লোজড ফেসবুক গ্রুপ' আছে৷ সেখানে তাঁরা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন৷ এছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশের জেলা প্রশাসকসহ নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি ডিজিটালি যুক্ত আছেন৷

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প কাজ করছে৷ প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আগে বলতাম, সরকারের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে৷ এখন বলছি, হাতের মুঠোয় নিয়ে যাওয়া হবে, কারণ, আমরা ডিজিটালাইজেশনে এরই মধ্যে সাফল্য পেয়েছি৷ বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছে৷ এখন এসডিজি বাস্তবায়নে নেমেছে৷ ডিজিটাল বাংলাদেশ এরই মধ্যে পরপর তিনবার ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার পেয়েছে, যা বড় ধরণের স্বীকৃতি৷''

নাইমুজ্জামান মুক্তা বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য , শিক্ষা, জননিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা, ভূমি ব্যবস্থা, স্বানীয় সরকার, নারীর ক্ষমতায়ন সবখানেই এখন তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া৷ দেশের সব ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে৷ বিভিন্ন স্কুলে ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম আছে৷ ৮ হাজার পোস্ট অফিসকেও ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তরের কাজ চলছে৷ আমরা তাই মনে করি, ২০২১ সালের আগেই আমরা আমাদের টার্গেটে পৌঁছে যাবো৷''

এটুআই প্রকল্পের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘‘এখন নিরক্ষর লোকও মোবাইল ফোনে কথা বলছে৷ সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে তথ্য সহায়তা নিচ্ছে৷ জমির পর্চা তুলছে৷ তুলনাটা এরকম যে, ২০০৮ সালে কত লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো আর এখন কত লোক ব্যবহার করেন৷ ২০০৮ সালে কত লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন আর এখন কত লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন? এই অগ্রগতি বুঝলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি বোঝা যাবে৷''

অডিও শুনুন 04:17

‘বেসরকারি খাতে যে অগ্রগতি হওয়া উচিৎ ছিল, তা হয়নি’

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনটে ব্যবহারকারী ছিল ৩.২০ শতাংশ৷ এখন এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩৮শতাংশ৷ বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকীর সংখ্যা এখন ১৩ কোটিরও বেশি৷ গত বছর ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬' এ মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, ‘‘আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনার কাজ চলছে৷'' সজীব ওয়াজেদ জয় আরো বলেন, ‘‘ডিজিটাল সেবা দিতে হলে জনগণকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে৷''

আর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বৈষম্য, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, যা প্রকৃতপক্ষেই সম্পূর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মুখ্য চালিকাশক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি৷ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ' ধারণা বাংলাদেশের জনগণের উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা৷

তাঁর মতে, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের যে অগ্রগতি, তাতে ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ শেষ হবে৷ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের আইসিটি বিভাগ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা নিয়েছে৷ ‘ইনফো সরকার-৩ ও স্ট্যাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি' প্রকল্প ডিজিটাল বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করছে৷ বাস্তবায়ন করছে আইসিটি বিভাগ৷''

তথ্য প্রযুক্তিবিদ এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি ফাহিম মাসরুর ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এটা ঠিক যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর একটি ওয়েভ তৈরি হয়েছে৷ সবাই বিষয়টি নিয়ে ভাবছে৷ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে , ব্যবহার বাড়ছে৷ সরকারের নানা বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে৷ কিন্তু অগ্রগতি খুব ভালো, তা বলা যাবে না৷ আর বেসরকারি খাতে যে অগ্রগতি হওয়া উচিৎ ছিল, তা হয়নি৷''

তিনি বলেন, ‘‘ইন্টারনেট ব্যবহার এখনো এখানে বেশ ব্যয়সাপেক্ষ এবং গতি কম৷ আর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তাদের বড় অংশ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন৷ কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর জোর দিতে হবে৷ ডেস্কটপে ইন্টারনেট সেবা বাড়াতে হবে৷ আর মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের নানা বিষয় ব্রাউজ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে৷''

তাঁর মতে, ‘‘অনেক খাতই এখনো ডিজিটাল হয়নি৷ ব্যাংকিং খাতে অর্থ স্থানান্তরসহ নানা বিষয়ে অনলাইন সুবিধা পাওয়া গেলেও অনেক কিছুই এখনো চলে ম্যানুয়ালি৷ ঘরে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না৷ অনেক খাতই আংশিক ডিজিটাল৷ বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা এখনো ডিজিটাল হয়নি, যা খুবই জরুরি৷ পুরো ডিজিটাল করতে হলে সরকারের কিছু আইন ও নীতির পরিবর্তন করতে হবে৷''

আপনার কিছু বলা থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়