আজ ভোট ইরাকে, ফলাফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সম্ভাবনা | বিশ্ব | DW | 07.03.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আজ ভোট ইরাকে, ফলাফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সম্ভাবনা

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই আজ সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ইরাকে৷ ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা ত্রিশঙ্কু, বলছে সমীক্ষা৷ আল কায়েদার হুমকিও রয়েছে৷ কিন্তু মুকতাদা আল সদর ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷

default

ইরাকের ভোটচিত্র স্বাভাবিক কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েই গেছে

ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন শনিবার৷ ইরাকি আল কায়েদার উদ্দেশ্যই ছিল শিয়াপন্থী তীর্থযাত্রীদের ওপর হামলা চালানো৷ নির্বাচনের মুখে আতঙ্ক আর সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করা৷ হামলাস্থল পরিদর্শন করে এই মন্তব্য নাজাফের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান ফায়েদ আল শিমারির৷ বস্তুত, এই পরিস্থিতির সূত্রপাত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই৷ ইরাকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক, এমনটা চাইছে না জঙ্গি সংগঠনগুলো, বিশেষ করে আল কায়েদা৷ নির্বাচন বয়কট করার ডাক দিয়েছে তারা৷ ভোটগ্রহণ চলাকালে সন্ত্রাসের হুমকি তো আছেই৷

মূলত, সুন্নি মুসলিম সংগঠন হিসেবে অ্যামেরিকা বিরোধী আল কায়েদার এই হুমকির পাশাপাশি কিন্তু নতুন কথা শুনিয়েছেন শনিবার শিয়াপন্থীদের ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল সদর৷ প্রায় দুই বছর পরে ইরানের কোম শহর থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এই তরুণ নেতা৷ বলেছেন, ইরাকের সংসদীয় নির্বাচনে সাধারণ নাগরিকরা যেন অবশ্যই ভোট দেন৷ অ্যামেরিকা বিরোধী বলে পরিচিত এই শিয়াপন্থী ধর্মীয় নেতা বিগত অনেকদিন যাবত ইরানের কোম শহরে পড়াশোনা করছেন বলে জানা গেছে৷ ইরাকের শিয়াপন্থীদের ওপর তাঁর প্রভাব যথেষ্ট৷ ফলে আল সদরের ভোট দেওয়ার আহ্বানের পর ধারণা করা হচ্ছে, রবিবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ হবে ভালো মাত্রাতেই৷

Anschlag im Irak Flash-Galerie

পবিত্র শহর নাজাফে শনিবারের বিস্ফোরণের পর

তবে ৩২৫ টি আসন বিশিষ্ট ইরাকের সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সম্ভাবনাই জোরদার বলে মতপ্রকাশ করছে মিডিয়া৷ বলা হয়েছে, ভোটারদের যেরকম মতিগতি তাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোন রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না৷ সেরকম হলে তারপরের পরিস্থিতি হল সরকার গড়ার জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘমেয়াদে সময়ক্ষেপ৷ যার সোজা অর্থ, প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার সাহস পাবে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া সন্ত্রাস৷

২০০৫ সালের শেষ সংসদীয় নির্বাচনের সময় ভিন্ন পরিস্থিতি ছিল ইরাকে৷ সে সময় লক্ষাধিক মার্কিন সেনার উপস্থিতি নিরাপত্তা পরিস্থতির দায়িত্ব অনেকটাই ভাগ করে নিয়েছিল৷ কিন্তু বর্তমানে দশ হাজারেরও কম মার্কিন সেনা ইরাকে রয়েছে৷ সন্ত্রাসের মাত্রাও কিছুটা কমেছে আগের নির্বাচনের তুলনায়৷ এবারের সংসদীয় নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলে গণতন্ত্রের দিকে অনেকটাই এগোতে পারবে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশটি৷ এই মুহূর্তে সেই প্রয়োজনীয়তাই সবচেয়ে বেশি৷

প্রতিবেদক - সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা - হোসাইন আব্দুল হাই

সংশ্লিষ্ট বিষয়