1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

আঙ্গেলা ম্যার্কেল: কীভাবে উত্থান, কেমন মানুষ তিনি

প্রথম দিকে আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে দেখে কারুরই মনে হয়নি, এক সময় ক্ষমতার শিখরে উঠে আসবেন তিনি৷ ফ্যাকাশে চেহারা, পুরানো স্টাইলের চুলের ছাঁট, পোশাক-আশাকও আহামরি নয়৷ অথচ তিনিই এখন তৃতীয়বারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হতে চলেছেন৷

সর্বশেষ একটি জরিপের ফলাফল অনুযায়ী আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জয় প্রায় নিশ্চিত৷ তবে সম্প্রতি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আঙ্গেলা ম্যার্কেল বেশ বিপাকে পড়েন৷

‘মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি' নিজের দেশের তো বটেই, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষজনের ওপর নজরদারি করেছে বলে প্রকাশ পায়৷ অন্যদিকে এই তথ্যও জানা যায় যে, জার্মানির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অনেক বছর ধরেই মার্কিনিদের গোয়েন্দাগিরির কথা জানতো, এমনকি সহযোগিতাও করে আসছিল তারা৷ বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদল ও মিডিয়া সোচ্চার হয়ে ওঠে৷ সমালোচনার সম্মুখীন হন ম্যার্কেলও৷

প্রথমে অপেক্ষা করা

চ্যান্সেলর ম্যার্কেল যথারীতি কিছুদিন নিশ্চুপ ছিলেন৷ অপেক্ষা করেছেন৷

Angela Merkel Urlaub

স্বামীর সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময়

অবশেষে জার্মান টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন গোয়েন্দাদের কার্যকলাপ হয়ত জার্মান আইনকে লঙ্ঘন করেছে৷ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করছি৷''

আসলে এটাই হচ্ছে ম্যার্কেলের পদ্ধতি৷ সমস্যা হলে প্রথমে পরিস্থিতিটা কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করেন তিনি৷ তারপর অধিকাংশের মতামতের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন৷ বলা বাহুল্য, তাঁর এই রাজনীতির জন্য প্রশংসিত ও সমালোচিত – দুটোই হতে হয়েছে তাঁকে৷

ম্যার্কেলকে বারবার তাঁর শক্তির পরীক্ষা দিতে হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপের রাজনৈতিক অঙ্গনে৷ ২০০৮ সাল থেকে ইউরো সংকট তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে৷ সুকৌশলে এই সংকট উত্তরণের চেষ্টা করেছেন ম্যার্কেল৷ ম্যার্কেলের ‘ব্যয় সংকোচন নীতি' ভুক্তভোগী দেশগুলিতে ভালো চোখে দেখা হয়নি৷ তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টিতে নেওয়া হয়েছে ম্যার্কেলের এই ‘ইউরো-রাজনীতি'৷

সুকৌশলে ম্যানেজ করা

লেখক ও সাংবাদিক রাল্ফ বোলমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সমগ্র বিষয়টি তিনি সুকৌশলে ম্যানেজ করেছেন৷ জার্মানির ‘ইউরো-সংশয়বাদী'-দের তিনি সন্তুষ্ট করেছেন বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে৷ অন্যদিকে, ‘ইউরোপ-বান্ধব'-দেরও তিনি খুশি করেছেন দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ সত্ত্বেও সংস্কার উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করে৷''

১৯৪৫ সালের পর জার্মানির ইতিহাসে আর কোনো রাজনীতিবিদকে এত ছোট করে দেখা হয়নি, যেমনটি করা হয়েছে সাবেক পূর্ব জার্মানির ছোট এক শহরের যাজক-কন্যা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্ষেত্রে৷ ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের আমলে৷

Cloppenburg Wahlkampf CDU Merkel

২০০০ সাল থেকে সিডিইউ-এর প্রধান হয়ে দলের হাল ধরে আছেন ম্যার্কেল

কোলের মানসকন্যা

‘‘অনেকেই এই ‘মেয়েটি'-কে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন৷ যিনি অন্যান্য রাজনীতিকদের তুলনায় ছিলেন ভিন্নরকম৷'' এইভাবে ম্যার্কেলের কথা স্মরণ করে বলেন সাংবাদিক জাকুলিন বয়সেন৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের জীবনী লিখেছেন এই সাংবাদিক৷ এখন কিন্তু নিজের দলের বাইরেও ম্যার্কেলের শাসন পদ্ধতিকে অনেকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেল বাস্তবধর্মী এক রাজনীতিক৷ পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন দ্রুত৷ প্রয়োজন হলে নিজের মতামত সংশোধন করতে অসুবিধা হয়না তাঁর৷ ফুকুশিমায় আণবিক বিপর্যয়ের পর পারমাণবিক শক্তি উত্পাদনকেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে৷ অথচ একসময় আণবিক শক্তি উত্পাদন কর্মসূচির জোরালো সমর্থক ছিলেন তিনি৷

‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা' – এই হলো মার্কেলের রাজনীতি৷ তবে এতে কিন্তু তাঁর ‘ইমেজ'-এ মোটেও আঁচড় পড়েনি৷ বরং উল্টোটাই দেখা যায়৷ নিজের দল ও সরকার এখন যেন তাঁর হাতের মুঠোয়৷

হয়ত সাবেক পূর্ব জার্মানির পরিবেশ ও শিক্ষা-দীক্ষায় এইরকম মনমানসিকতা গড়ে উঠেছে তাঁর৷ ম্যার্কেলের জীবনী লেখক বয়েস-এর মতে, ‘‘তিনি এমন এক সিস্টেমে বড় হয়ে উঠেছেন, যেখানে যা চেয়েছেন তা পাননি৷ আর এই না পাওয়ার আকাঙ্খা ছাপ ফেলেছে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে৷''

Deutschland Helmut Kohl und Angela Merkel

সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের মানসকন্যা ম্যার্কেল

অল্প বয়সেই তাঁকে শিখতে হয়েছে, যতদূর সম্ভব খাপ খাইয়ে ও সতর্কতার সঙ্গে চলতে৷ তাই সেই সময় থেকেই ‘শুনতে' অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি৷

যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষতা

সমসাময়িকদের কাছে জানা যায়, যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অসামান্য দক্ষতা, যা আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে৷ সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেন ম্যার্কেল৷ যেমন তিনি কেক তৈরি করতে ভালোবাসেন৷ আর তা মনমত না হলে স্বামীর অনুযোগও শুনতে হয় তাঁকে, ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এই প্রসঙ্গে মার্কেল বলেন, ‘‘আমি একজন ভদ্র মানুষ৷ আমাকে যা প্রশ্ন করা হয় তার উত্তর দেই৷ কিন্তু ব্যক্তিগত কথা বললে অভিযোগ করা হয়, আমি রাজনীতি সম্পর্কে বলছি না৷ রাজনীতি সম্পর্কে কথা বললে সমালোচনা করা হয়, শুধু রাজনীতিতেই আমার আগ্রহ৷''

রাজনৈতিক জগতে কিছুটা দেরিতে এবং হঠাৎ করে পরিকল্পনা ছাড়াই চলে আসেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ সাবেক পূর্ব জার্মানির শেষ প্রধানমন্ত্রী লোটার ডি মেজিয়ের ৩৫ বছর বয়সি ম্যার্কেলকে ডেপুটি প্রেস অফিসার হিসাবে নিয়োগ দেন৷ চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের আমলে তাঁকে পরিবেশমন্ত্রী করা হয়৷ পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বিজ্ঞানীর জন্য উপযোগী এক মন্ত্রণালয়৷ ১৯৯৮ সালে নির্বাচনে হেরে গেলে সিডিইউ বেশ ভেঙে পড়ে৷ কিন্তু ম্যার্কেল তখন নিজের অবস্থানকে শক্ত করায় মনযোগ দেন৷ চ্যান্সেলর কোল চাঁদা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে তাঁর পতনকে ত্বরান্বিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি৷

২০০০ সাল থেকে সিডিইউ-এর প্রধান হয়ে দলের হাল ধরে আছেন তিনি৷ ২০০৫ সাল থেকে জার্মান চ্যান্সেলর হিসাবে দক্ষতার সাথে সরকার পরিচালনা করছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ দলের অভ্যন্তরে প্রতিপক্ষকে উঠে আসতে দেননি, থেকেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়