1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘আউশভিৎসকে বাদ দিয়ে জার্মান সত্তা হয় না’

জার্মান সংসদে আউশভিৎস স্মারক অনুষ্ঠানে জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক এ কথা বলেছেন৷ ২৭শে জানুয়ারি, ১৯৪৫: সোভিয়েত সৈন্যরা কুখ্যাত নাৎসি বন্দিশিবির তথা মৃত্যুশিবির আউশভিৎস-বির্কেনাউকে মুক্ত করে৷

আউশভিৎস-এ প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছিল৷ তাদের মধ্যে গ্যাস চেম্বারে, অনশনে এবং চরম দুর্বলতায় প্রাণ হারান ১১ লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ইহুদি, সেই সঙ্গে রোমা ও সিন্টিদের মতো সম্প্রদায়ের মানুষ এবং রাজনৈতিক বিরোধীরা৷

সে আমলে ইউরোপে যে ১ কোটি ১১ লাখ ইহুদির বাস ছিল, তাদের মধ্যে ৬০ লাখ প্রাণ হারান নাৎসিদের ইহুদি নিধনযজ্ঞে, বিশেষ করে এই ধরনের ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে'৷ সে হিসেবে আউশভিৎস নাৎসি বিভীষিকার প্রতীক৷ ৭০ বছর আগে সোভিয়েত রেড আর্মি এই মৃত্যুশিবিরকে মুক্ত করে৷

Schriftzug am Tor des KZ Lagers Auschwitz

নাৎসিদের ইহুদি নিধন যজ্ঞের অন্যতম প্রধান শিবির আউশভিৎস

যুদ্ধপরবর্তী জার্মানিতে যারা জন্মেছে, সেই সব জার্মানদের উপর আউশভিৎস-এর মারণযজ্ঞের দোষারোপ করা চলে না, তবুও তাদের একটা দায়িত্ব থেকে যায়৷ আউশভিৎস থেকে যারা প্রাণে বেঁচেছেন, জার্মানির তরুণ প্রজন্মকে অতীতের সেই সব সাক্ষীর কথা শুনতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই সেই ‘‘সাক্ষীদের সাক্ষী'' হয়ে আউশভিৎস-এর স্মৃতি ও শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে – এ কথা বলেছেন ফেডারাল সংসদ সভাপতি নর্বার্ট ল্যামার্ট মঙ্গলবারের স্মারক অনুষ্ঠানে৷

অথচ জার্মানির বাস্তবিক পরিস্থিতি – যথা ড্রেসডেনের পেগিডা আন্দোলন এবং অন্যত্র তার শাখা-প্রশাখায় বহিরাগত-বিদ্বেষের স্পষ্ট ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে – যার বিরুদ্ধে অনেক বেশি সংখ্যক জার্মান রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং সমাবেশ ও জনসভায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন৷

তা সত্ত্বেও, বিভীষিকাময় অতীতকে ভোলার একটা প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে ব্যার্টেলসমান নিধির একটি সাম্প্রতিক জরিপে৷ ঐ জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ জার্মান ইহুদি নিপীড়নের কাহিনি নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চান না; এমনকি ৫৮ শতাংশ সে কাহিনি ভুলে যেতে চান৷

ঠিক এই ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধেই আউশভিৎস স্মারক দিবস৷ সেই বিস্মৃতির বিরুদ্ধেই বারংবার মত প্রকাশ করেছেন বুন্ডেসটাগের বক্তারা – সেই সঙ্গে বহির্বিশ্বের নেতারা৷ জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক সেই কারণেই তাঁর ভাষণে ঘোষণা করেছেন: ‘‘আউশভিৎসকে বাদ দিয়ে জার্মান সত্তা হয় না৷'' হলোকস্টের স্মৃতি জার্মানির সব নাগরিকের, এ দেশের ইতিহাসের অঙ্গ – বলেছেন গাউক৷

অপরদিকে খোদ আউশভিৎস-এ যে সব বিশ্বনেতাদের দেখা যাবে, তাদের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন থাকবেন না: রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ৷ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো উপস্থিত থাকছেন৷ উপস্থিত থাকছেন জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টবর্গ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঠাচ্ছে তাদের অর্থমন্ত্রী সহ একটি প্রতিনিধিদল৷ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আউশভিৎস স্মারক অনুষ্ঠানের উপর ইউক্রেন সংকটের ছায়া পড়েছে৷

ঐ স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে আউশভিৎস-বির্কেনাউ রাষ্ট্রীয় সংগ্রহশালা এবং আন্তর্জাতিক আউশভিৎস পরিষদ৷ তারা এবার পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে দিয়ে বহির্বিশ্বের নেতৃবর্গকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ পাঠায়নি, বরং তাদের দাতাদেশগুলিকে জিজ্ঞাসা করেছে, কারা স্মারক অনুষ্ঠানে আসবেন৷ কাজেই পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পুটিন আসতে চাইলে আসতেও পারতেন৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, ইপিডি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন