1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আইসিস না আসাদ, কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ?

তুরস্ককে এখন সিরিয়া ও ইরাকে আইসিস বা আইএস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে সামরিকভাবে সংশ্লিষ্ট হতে হবে – কুর্দদের সঙ্গে একযোগে৷ এভাবেই তুরস্ককে তার অস্থির বিদেশনীতির মূল্য চোকাতে হচ্ছে৷ এ নিয়েই সংবাদভাষ্য, লেখক বাহা গ্যুনগর৷

ভয় দেশের যৌথ সীমান্তের সিরীয় তরফে অবস্থিত রণাঙ্গণ থেকে রোজ যা খবর আসছে, তা তুরস্কের পক্ষে ক্রমেই আরো বেশি নাটকীয় হয়ে উঠছে৷ তুরস্কের সীমান্ত থেকে অদূরে অবস্থিত সিরীয় কুর্দদের শহর কোবানের উপর ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাস গোষ্ঠীর অভিযান এ যাবৎ রোখা সম্ভব হয়নি৷ সিরিয়ার অপরাপর অঞ্চল এবং সেই সঙ্গে উত্তর ইরাক থেকেও আইসিস-এর উত্তরোত্তর সাফল্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে৷

আজ বৃহস্পতিবার তুর্কি সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে, সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়া তথা ইরাকের রাজ্যাঞ্চলে তুর্কি সেনাবাহিনীর অভিযান অনুমোদন করা হবে কিনা৷ আইসিস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সেনা গোষ্ঠী তুরস্কের রাজ্যাঞ্চল ব্যবহার করতে পারবে কিনা, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

শত্রু কে এবং লক্ষ্য কি?

দামেস্ক সরকারের প্রকাশ্য সম্মতি ছাড়া সিরিয়ার রাজ্যাঞ্চলে অগ্রসর হওয়াটা তুরস্ক ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রশক্তিদের পক্ষে সমস্যাকর হয়ে দাঁড়াতে পারে৷

07.08.2014 DW Quadriga Studiogast Baha Güngör

বাহা গ্যুঙ্গোর

আসাদ প্রশাসনের আইসিস-ভীতি কম নয়; কাজেই বাইরে থেকে যে কোনো রকমের সাহায্যের জন্যই আসাদ প্রশাসনের খুশি হওয়ার কথা৷ এছাড়া যৌথ শত্রুর আবির্ভাবের ফলে যদি আসাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমের কড়া মনোভাব অন্তত কিছুটা নরম হয়, তা-তেই বা ক্ষতি কি? কিন্তু তা সত্ত্বেও সিরিয়ার রাজ্যাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো অনুমতি আসাদ প্রশাসনের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি৷

মর্জিমতো সিরিয়ায় ঢুকে আইসিস-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা তাদের মিত্রদের পক্ষে খুব সমীচিন হবে না: দামেস্ক সে ধরনের অভিযানকে ‘‘যুদ্ধঘোষণা'' হিসেবে গণ্য করতে পারে – যার ফলশ্রুতি হবে অনিশ্চিত৷ অপরদিকে তুরস্ক কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উত্তরোত্তর আচরণ একনায়ক আসাদ-এর সম্মতির উপর নির্ভরশীল করতে পারে না৷ এই জটিলতা থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র পন্থা হলো জাতিসংঘের একটি প্রশস্ত সনদ – যার পিছনে বিশ্ব নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনেরও সমর্থন থাকবে৷

স্বখাত সলিল

তুরস্ক আজ যে উভয়সংকটের সম্মুখীন, তার জন্য তুরস্ক নিজেই প্রধানত দায়ী৷ আসাদের শীঘ্র পতন ঘটবে, বলে তুরস্ক ধরে নিয়েছিল৷ তুরস্ক যাবতীয় আসাদ-বিরোধীদের নির্বিচারে সাহায্য করে সেই সঙ্গে ইসলামি মৌলবাদীদেরও হাত শক্ত করেছে৷ আইসিস সমর্থকদের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসের ‘সেল' তুরস্কেও দানা বেঁধে থাকতে পারে, এই সন্দেহ তুর্কি সমাজকে সচকিত ও আতঙ্কিত করে তুলেছে৷

আইসিস সন্ত্রাসীরা প্রথম ওসমানি সুলতানের পিতামহের সমাধিসৌধে ৩৬ জন তুর্কি গার্ড অফ হনারকে ঘিরে ফেলেছে, এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে তুরস্ক কোনোমতেই নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না৷ সমাধিসৌধটি সিরিয়ার অভ্যন্তরে তুরস্কের একটি এক্সক্লেভ৷

সবে মিলে করি কাজ

সেই এক্সক্লেভে যা ঘটেছে, তার বিবরণ আজ তুর্কি সংসদে বিপুল বিতর্কের অবতারণা ঘটাবে, বলে ধরে নেওয়া যায়৷ কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা সমর্থন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আছে কি? বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল, ধর্মীয়-রক্ষণশীল একেপি দলের বিধায়করা মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটোর বহির্সীমান্তে সংঘটিত যুদ্ধে তুর্কি সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ অনুমোদন করবেন বলেই ধরে নেওয়া যায়৷

তুরস্কের বর্তমান আশঙ্কা ও সমস্যাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে কুর্দদের প্রতি শান্তিপূর্ণ নীতির সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবার বিপদ দেখা দিয়েছে – যা কিনা আংকারার অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য নীতির অপর একটি নেতিবাচক ফলশ্রুতি৷ তুরস্কের আনাতোলিয়া প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে ও দক্ষিণ-পূর্বে কুর্দ ও তুর্কিদের মধ্যে নতুন উত্তেজনা ‘ইসলামিক স্টেট'-এর বিরুদ্ধে যৌথ সংগ্রামে প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দিতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়