1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

আইসিস-এর সন্ত্রাস অভিযানে জার্মান জিহাদিরা

ক্রমেই আরো বেশি জার্মান ইরাকে আইসিস সন্ত্রাস সংগঠনের হয়ে লড়াই করছে৷ সামরিক বিচারে তাদের বিশেষ গুরুত্ব না থাকলেও, জার্মান কর্তৃপক্ষ তাদের উপর নজর রাখছেন, কেননা তারা পশ্চিমি দুনিয়ার পক্ষেও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে৷

ডেনিস কুসপ্যার্ট-এর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ ‘ডেসো ডগ' নাম নিয়ে বার্লিনের ‘হিপ-হপ সিনে' বেশ নাম করে ফেলেছিলেন ডেনিস৷ এখন তাঁকে পাওয়া যাবে ইরাকে, ‘ইসলামিস্ট স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া' বা আইসিস-এর যোদ্ধা হিসেবে৷ তাঁর নতুন নাম: আবু তালহা আল-আলমানি৷

ব়্যাপার থেকে আবু তালহা হন সালাফি ধর্মপ্রচারক৷ তারপরে আসে ‘পবিত্র যুদ্ধে' যোগদানের জন্য ইরাক যাত্রা৷ আজ তিনি যে যোদ্ধা গোষ্ঠীর নেতা, তাদের নাম মিলাতু ইব্রাহিমের জার্মান ব্রিগেড৷ আইসিস পশ্চিমি দেশগুলি থেকেও তাদের ‘পবিত্র যুদ্ধের' রংরুট সংগ্রহ করে থাকে৷ লন্ডনের কিংস কলেজের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, আইসিস-এর তিন হাজার পশ্চিমা সদস্যদের প্রায় দশ শতাংশ এসেছে জার্মানি থেকে৷

জীবনদর্শন

আইসিস-এর মতাদর্শই প্রধানত এই সব তরুণকে আকৃষ্ট করে, বলে জার্মানির ফ্রিডরিশ নাউমান নিধির আম্মান কার্যালয়ের ফাল্কো ভাল্ডের ধারণা৷ আইসিস ওই অঞ্চলের সবচেয়ে উগ্রপন্থি ও আগ্রাসী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত৷ তরুণদের কাছে সেটাই তাদের বৃহত্তম আকর্ষণ৷ নয়ত জার্মানিতে যাদের জন্ম এবং যারা এখানেই বড় হয়েছে, এমন টিনেজাররা হঠাৎ লম্বা দাড়ি রেখে, ধর্মের নামে বিদেশে যুদ্ধ করতে যাবে কেন?

ইসলাম বিশেষজ্ঞ মিশায়েল কিফার বলেন, এ ধরনের তরুণরা সাধারণত উচ্চশিক্ষিত নয়, এবং তাদের পারিবারিক পটভূমিও সমস্যাকর৷ এই পরিস্থিতিতে সালাফিরা তাদের সম্মান দেয়, কমরেড হিসেবে মেনে নেয়, তাদের জীবনকে একটা উদ্দেশ্য দেয়, দিকনির্দেশ করে৷ এক কথায়, তাদের জীবনের মোড় পাল্টে যায়৷ সালাফিরা তাদের বলে দেয়, কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, কে ভালো আর কে খারাপ৷ ফলে আর কোনো সন্দেহ থাকে না৷

শৌখিন সন্ত্রাসী?

নাইন ইলেভেনের পর পরই জার্মান এবং মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগে লক্ষ্য করে, জার্মান ইসলামপন্থিরা কিভাবে চেচনিয়ায় গিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামে যোগ দিচ্ছে৷ গোড়ায় এদের সংখ্যা ছিল মুষ্টিমেয়, কিন্তু আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমি জিহাদিরা আবার একটা নতুন গন্তব্য পেয়েছে৷

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস দেমেজিয়ের মনে করেন যে, জার্মানি থেকে আগত ইসলামপন্থিরা ইরাকেও সক্রিয়, কেননা আইসিস সিরিয়ার যুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট৷ ‘‘এটা আমাদের পক্ষে উদ্বেগের বিষয়,'' বলেছেন দেমেজিয়ের৷ জার্মান নাগরিক হিসেবে জার্মান জিহাদিরা তুরস্ক সীমান্ত হয়ে সিরিয়া কিংবা ইরাকে প্রবেশ করে, পরে আবার তুরস্ক হয়ে জার্মানিতে প্রত্যাবর্তন করতে কোনো বাধা নেই৷ ততদিনে হয়ত তারা উগ্রপন্থিতে পরিণত হয়েছে৷ এই ধরনের ব্যক্তিদের জার্মানিতে প্রত্যাবর্তন করতে না দেওয়ার কোনো আইনি পন্থা আছে কিনা, সেটাই বিবেচনা করে দেখছে জার্মান সরকার৷

অপরদিকে ‘জিহাদ' থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ঠিক সেই ব্যক্তিবর্গকেই জার্মানির ইসলামপন্থি মহলে হিরো অথবা পপস্টারের মতো সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে৷ আইসিস-এর কাছেও এই সব পশ্চিমি জিহাদিদের প্রচারমূল্য কম নয়৷ তবে পশ্চিমি দেশগুলির চিন্তা হলো, রণক্ষেত্রে থেকে প্রত্যাবর্তনের পর এই সব জিহাদিরা স্বদেশেও সন্ত্রাসের কাজ শুরু করতে পারে: যেমন গত মে মাসের শেষে ব্রাসেলসের ইহুদি সংগ্রহশালার হত্যাকাণ্ডে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, তারা প্রশিক্ষণ পেয়েছে আইসিস-এর কাছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়