1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

আইসবার্গ থেকে বিয়ার!

মাছ ধরার জাহাজ নিয়ে আইসবার্গ, অর্থাৎ হিমশৈল, মানে ভাসন্ত বরফের চাঙড় শিকার করা শুধু ক্যানাডার উত্তরপূর্ব অঞ্চলের নিউফাউন্ডল্যান্ডেই সম্ভব৷ সেই বরফ গলা পানি দিয়ে আবার স্পেশাল বিয়ার তৈরি হয়!

উত্তর অ্যামেরিকার পূর্বতম অংশটির নাম হলো কেপ স্পিয়ার্স, যা কিনা নিউফাউন্ডল্যান্ডের অংশ৷ এখানে প্রতিবছর লাগে আইসবার্গ, অর্থাৎ হিমশৈলের মেলা৷ এখানকার রুক্ষ, তুষারাবৃত প্রকৃতি রয়েছে এড কিন-এর রক্তে, কেননা তিনি জাহাজের ক্যাপ্টেন৷ তাঁর ঊর্ধ্বতন পাঁচ পুরুষের মতো৷

বংশধারা অনুযায়ী আগে মাছ ধরতেন, আজ ধরেন আইসবার্গ! আর সেই হিমশৈলের বরফ গলা পানি বেচেন বিয়ার তৈরির ব্রুয়ারিগুলোর কাছে৷ এড কিন জানেন, ‘‘বাতাস ও জোয়ারভাটার উপর নির্ভর করে, আইসবার্গগুলো কখন ভেসে উঠবে৷ হয়ত মে মাসে৷ কোনো কোনো বছর বেশি, কোনো কোনো বছরে আইসবার্গগুলো তাড়াতাড়ি গলে যায়৷ তবে কোনো দু'বছর একরকম হয় না৷ এ বছরটা আইসবার্গের পক্ষে ভালো৷''

শৈলশিকার'

এড কিন-এর জাহাজটার নাম ‘গ্রিন ওয়াটার্স', এককালে ছিল জেলেনৌকা৷ ২০০৭ সালে এড সেটিকে কিনে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলিয়ে নেন৷ এবার তিনি মাল্লাদের নিয়ে এ মরশুমে এই প্রথমবার আইসবার্গ ধরতে চলেছেন৷ বাতাস কম, সমুদ্র শান্ত, এড খুঁজছেন আইসবার্গ৷

আইসবার্গ বা হিমশৈলের প্রধান অংশটা ঢাকা থাকে জলের তলায়৷ আইসবার্গের বরফ অন্তত ২০ হাজার বছরের পুরনো৷

পরের দিন এড আবার বেরিয়েছেন জাহাজ নিয়ে, তবে এবার উপকূলের কাছেই৷ জাহাজে রাখা হয়েছে মাছ ধরার, মানে কিনা আইসবার্গ ধরার জাল৷ গোটা হিমশৈলটার চারপাশে জাল জড়াতে হবে৷ দোদুল্যমান পাটাতন থেকে খুব সহজ কাজ নয়, কিন্তু এড-এর সম্বল তাঁর অভিজ্ঞতা৷ ১৯৯৭ সাল যাবৎ তিনি এই কাজ করছেন৷

'গ্রিন ওয়াটার্স' জাহাজটি এসে বরফ পাটাতনে তুলবে৷ হাইড্রলিক ক্রেন দিয়ে আইসবার্গগুলোকে জাহাজের পাটাতনে তোলা হয়৷ মাল্লাদের মনমেজাজ খুশি৷ আগস্ট মাস আসার আগে তারা বিশ লাখ লিটার বরফ-পানি বেচবে – ২০১৩ সালের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ বেশি৷

বরফ-পানির খদ্দের

নিউফাউন্ডল্যান্ডের রাজধানী সেন্ট জন্স-এর কাছে একটি ব্রুয়ারি এড কিন-এর আইসবার্গ গলা পানির মূল খরিদ্দার৷ মাস্টার ব্রুয়ার এইনার হলটেট এই মহামূল্য পানি দিয়ে বছরে আড়াই লাখ লিটার বিয়ার তৈরি করে থাকেন৷ আইসবার্গের পানি দিয়ে তৈরি বিয়ার খুব ভালো বিক্রি হয় বলে জানালেন তিনি৷ ৪৪ বছর বয়সি মাস্টার ব্রুয়ার কোম্পানির নিজস্ব পরীক্ষাগার ঘুরিয়ে দেখালেন, যেখানে তিনি বিয়ার তৈরির নানা উপাদানের গুণগত মান পরীক্ষা করেন৷ হলটেট জানালেন, ‘‘আমি এখানে পানিতে গুলে থাকা ধাতু কিংবা ময়লার খোঁজ করছি৷ এই পানিটা খুব শুদ্ধ৷ এর প্রতি দশ লাখ ভাগে মাত্র আট ভাগ ধাতব পদার্থ আছে – যার অর্থ এই পানি অতি শুদ্ধ৷''

আইসবার্গ বিয়ারের এমনই চাহিদা যে, হলটেট-এর ব্রুয়ারি তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে৷ আইসবার্গ বিয়ার প্রধানত নিউফাউন্ডল্যান্ডে বিক্রি হয়৷ আগামী বছরগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইসবার্গ ভেসে উঠবে কিনা, তা নিয়ে এড কিন-এর কোনো মাথাব্যথা নেই৷ নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলে আইসবার্গের কোনো অভাব ঘটবে না, বরং পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে তাদের সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক