1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘আইন করে হরতাল নিষিদ্ধ করা হোক’

বাংলাদেশে চলছে বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি৷ বরাবরের মতো এই কর্মসূচি পালনের সময়েও গাড়ি-বাড়ি পোড়ানো এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷ ব্লগার শেখ মোহাম্মদ রাসেল তাই আইন করে হরতাল বন্ধ করার পক্ষে৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে ‘আইন করে হরতাল নিষিদ্ধ করা হোক' – এই শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন শেখ মোহাম্মদ রাসেল৷ লেখার শুরুতে ‘হরতাল' শব্দের উৎপত্তি এবং হরতাল আসলে কেমন হওয়ার কথা, সে সম্পর্কে তিনি ধারণা দিয়েছেন এভাবে, ‘‘হরতাল শব্দটি মূলত একটা গুজরাটি শব্দ (গুজরাটিতে হাড়তাল) যা সর্বাত্মক ধর্মঘটের প্রকাশক৷ মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন৷ হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত বন্ধ থাকে৷ তবে সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিস, গণমাধ্যমসমূহ এর আওতার বাইরে থাকে৷''

উইকিপিডিয়া থেকে এসব তথ্য পরিবেশন করার কথাও জানিয়েছেন শেখ মোহাম্মদ রাসেল৷ তারপর লিখেছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় হরতালকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবেই মানা হয় – এই উক্তিটির চর্চা আমরা সব সময়ই করে থাকি৷ দাবি-দাওয়া, আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে আদায় না হলে সর্বশেষ পন্থা হিসেবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই পন্থাটিকে ব্যবহার করা হয় প্রতিপক্ষকে বাধ্য করার জন্য৷ হরতালের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছে এই বলে যে, হরতাল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার৷ (সুত্র: প্রথম আলো ১১জুন ২০১২)''

কিন্তু তারপরই শেখ মোহাম্মদ রাসেলের লেখায় প্রকাশিত হয় হতাশা৷ বাংলাদেশে হরতালের অতীত এবং বর্তমানকে স্মরণ করতে গিয়েই মূলত এ হতাশার সূচনা৷ রাসেল লিখেছেন, ‘‘যে দলই বিরোধী দলে থাকুক না কেন, হরতালকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করে, আর সরকারি দলে থাকলে হরতাল বিরোধী কথা বলে৷ তবে ১৯৯০ সালের পর থেকে জাতীয় ইস্যু নিয়ে অথবা জনদাবি নিয়ে কোনো প্রধান বিরোধী দল হরতাল দেয়নি৷ যখনই তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বাধাগ্রস্থ হয়েছে, তখনই তারা হরতালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে৷ কোনো দলই হরতাল নিষিদ্ধ করার কথা ভাবেনি কখনো, কারণ, তারা জানে যে বিরোধী দলে গেলে হরতালই হবে তাদের একমাত্র হাতিহার৷''

এ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের হরতালের অতীতও তুলে ধরেছেন সামহয়্যার ইন ব্লগের এই ব্লগার৷ ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলেও কখনো হরতাল দেবে না' – অতীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ১৩০ দিন হরতালের ডাক দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তারপর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি কখন কতদিন হরতালের কর্মসূচি পালন করেছে, তার একটা খতিয়ানও দিয়েছেন৷ হিসেবের আলোকে শেখ মোহাম্মদ রাসেল মনে করেন, ‘‘যে দলই বিরোধী দলে থাকুক না কেন, যখনই তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সংকুচিত হয়েছে তখনই হরতালকে ব্যাবহার করেছে তারা নিষ্ঠুরভাবে৷ শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে গত ২০ বছরে ৪৫০ দিনেরও বেশি হরতাল হয়েছে বাংলাদেশে৷''

হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ সম্পদ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তাতে শেখ মোহাম্মদ রাসেল খুব হতাশ৷ তাই তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশে হরতালের নামে যা শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না৷ জ্বালাও, পোড়াও, মানুষ হত্যা – এসব কোনো রাজনৈতিক অধিকার হতে পারে না৷ এই সব এ দেশকে চেটেপুটে খাওয়ায় এক নিষ্ঠুর বাহানা মাত্র৷ যে বাহানার মাসুল সাধারণ জনগণকে দিতে হয়, নেতাদের নয়৷ তাই আমরা চাই কঠোর আইন প্রয়োগ করে এ দেশ থেকে চিরতরে হরতাল নামক রাজনৈতিক নোংরা খেলাটি নিষিদ্ধ করা হোক৷''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়