1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

আইনের শাসনের অর্থ জানে জার্মানি

নাৎসি আমলের অভিজ্ঞতাই তার কারণ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেও ‘ডি-নাৎসিফিকেশন’ বা দেশকে নাৎসি-মুক্ত করার প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি৷ জার্মান মানসে ও অবচেতনে তার গভীর দাগ মিটতে বহু দশক লেগে গেছে৷

নাৎসি আমলে বিচারের নামে যে প্রহসন চলত আদালতকক্ষে, তা আজও কোনো নাটক বা ফিল্মে বা পুরনো তথ্যচিত্রে দেখলে রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়৷ আবার রক্ত গরম হয়ে ওঠে৷ বিচারকরা নিরপরাধ আসামীদের ওপর হম্বিতম্বি করছেন, তাদের কথা বলতে দিচ্ছেন না, শেষমেষ যে মৃত্যুদণ্ড তাদের দেওয়া হবে, তা জানাই ছিল, পরে সেই সাজাই ঘোষণা করা হচ্ছে৷ নাৎসি ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় যদি বন্দিশিবিরগুলো হয় – বন্দিশিবির তো নয়, মৃত্যুশিবির – তবে তাদের পরেই আসবে নাৎসি বিচার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ ও বিচারের নামে নির্দোষিদের হত্যা৷ জার্মানরা সে দুঃস্বপ্ন আজও ভোলেননি, যে কারণে ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রে বিচারহীনতা বলে কোনো বস্তু নেই৷

হ্যাঁ, নাৎসি আমলের সেই ‘বিচার বিভীষিকার' কথা স্মরণ করেই হয়ত এ দেশে অপরাধের দণ্ড বা সাজা কিছুটা কমই হয়, বা কম বলে মনে হয়৷ জার্মানরা পারতপক্ষে কাউকে জেলে পাঠাতে চান না, পারোলে, অর্থাৎ পালাবে না, এই শর্তে, ছাড়াই রাখেন৷ নাৎসি পরবর্তী জার্মানির গোটা বিচার ব্যবস্থাই যেন অপরাধীরাও যে মানুষ, সে কথা স্মরণে রেখে৷ এদেশে দণ্ডদানের অর্থ ও উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে তার অপরাধের প্রবণতা থেকে মুক্ত করা, সে যা-তে আবার ব্যক্তি বা বর্গের পক্ষে ঝুঁকি না হয়ে ওঠে, তার ব্যবস্থা করা৷ কিন্তু মৃদু বা মানবিক দণ্ডের অর্থ বিচারহীনতা নয়৷

যেমন হত্যার মতো অপরাধের কোনো স্ট্যাটিউটরি লিমিটেশন নেই, অর্থাৎ এ অপরাধ – বা তার তদন্ত – কোনোদিনই তামাদি হয়ে যাবে না৷ ২০, ২৫ বা ৩০ বছর পরেও যদি তদন্তের কোনো নতুন সূত্র আবিষ্কৃত হয় – যেমন হাল আমলের কোনো ডিএনএ-র হদিশ – তাহলে গোয়েন্দা পুলিশ সেই সূত্র অনুসরণ করে হত্যাকারীকে ধরার চেষ্টা করবে৷ এভাবে আবার ভুলক্রমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মুক্তি পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে৷

জার্মানিতে হাই প্রোফাইল অপরাধের কেস মানেই সাধারণত কর ফাঁকি দেওয়ার কেস৷ বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক হর্তাকর্তা উলি হ্যোনেস থেকে শুরু করে স্টেফি গ্রাফ – বা তাঁর বাবার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও লৌহকপাট দেখতে হয়েছে কর ফাঁকি দেওয়া দায়ে৷ ওদিকে কর ফাঁকি দিয়ে থাকলেও, পরে নিজেই কর বিভাগকে সে-কথা জানালে বকেয়া কর ও স্বল্প কিছু জরিমানা দিয়েই মকুব পাওয়া যায় – একেও কিন্তু বিচারহীনতা বললে ভুল করা হবে৷

আমি বলব, গত নিউ ইয়ার্স ইভে কোলোনের মুখ্য রেলওয়ে স্টেশনের সামনের চত্বরে মহিলাদের উপর যে ব্যাপক হামলা চলেছে, ও পুলিশ যেভাবে – যে ধৈর্য এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে – সেই সব চুরি ও যৌন হামলা ও যৌন হয়রানির আসামীদের খুঁজে বার করার ও আদালতের সামনে পেশ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা থেকেই প্রমাণ হয় যে জার্মানি একটি ‘রেশ্ট-স্টাট' বা আইনশাসিত দেশ৷ এখানে অপরাধ করে একদিকে যেমন ছাড় নেই – অর্থাৎ বিচারহীনতা নেই – অন্যদিকে তেমন এ নিশ্চয়তা আছে যে, বিচারপ্রক্রিয়া হবে ন্যায্য ও আইনসম্মত৷ যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এদেশে অপরাধী থেকে শুরু করে পুলিশ বা উকিল বা কারাগার কর্তৃপক্ষ, সবাই সংবিধান ও আইনের শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে যে যার নিজের কাজ – বা অকাজ – করে যাচ্ছেন৷ কোথাও কোনো ফাঁক বা ফাঁকি নেই, যা থেকে আসছে সরকার ও আইনব্যবস্থার উপর জনসাধারণের আস্থা ও নির্ভরশীলতা৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury (DW/P. Henriksen)

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

নুরেমব্যার্গ ট্রায়ালে গোনাগুনতি ২৪ জন উচ্চপদস্থ নাৎসি কর্মকর্তার বিচার করে বাকি জার্মান জাতির জন্য একটা নিদর্শন স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল৷ মিত্রশক্তিদের দখলীকৃত জার্মানিতে ডি-নাৎসিফিকেশন বা নাৎসি মানস বিতাড়নের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি৷ বিশেষ করে সর্ষের মধ্যেই ভূত ছিল – অর্থাৎ যুদ্ধপরবর্তী বিচার বিভাগের বিচারক, কৌঁসুলি ও উকিলদের মধ্যে সাবেক নাৎসিদের অনুপাত ছিল মাত্রাতিরিক্ত রকম বেশি৷ গোড়ার দিকের বেশ কিছু জার্মান সাংসদেরও নাৎসি পটভূমি ছিল বলে শোনা যায়৷ স্বয়ং নোবেল পুরস্কার জয়ী লেখক গ্যুন্টার গ্রাস সারাজীবন মুখ ফুটে বলতে পারেননি যে, তিনি নাৎসিদের কুখ্যাত ওয়াফেন এসএস-এর সদস্য ছিলেন – ১৬ বছর বয়সে৷

তাই এ দেশে বিচারহীনতার অর্থ: গণতন্ত্রের অবসান, জার্মানরা যে মূল্য দিতে রাজি নন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়